পিরোজপুরের কাউখালীতে দুটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে ভেঙে পড়েছে শিক্ষাব্যবস্থা। কাউখালী সরকারি বালক ও বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ দুটি বিদ্যালয়ে ৩৪টি পদের মধ্যে ২১টি পদ শূন্য রয়েছে।
কাউখালীতে মাধ্যমিক স্তরের দুটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী থাকলেও দুটি বিদ্যালয়ে মাত্র ১৩ জন শিক্ষক রয়েছেন। ফলে শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষকের পদগুলো শূন্য থাকায় পাঠদানে বিঘ্ন ঘটছে । ১৯৮৬ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কাউখালী এসবি বালিকা বিদ্যালয় এবং কেজি ইউনিয়ন বালক মাধ্যমিক বিদ্যালয় দুটিকে সরকারি ঘোষণা করেন। এরপর থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান দুটি কোনো সময় পূর্ণাঙ্গ শিক্ষক কাঠামো পায়নি।
অথচ সরকারি হওয়ার পর থেকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চললেও বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠান দুটি কালের সর্বোচ্চ শিক্ষক কর্মচারী সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটিতে ৩৪টি শিক্ষকের পদ ও ১০টি তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদ আছে । অথচ দুটি বিদ্যালয় কর্মরত শিক্ষক আছেন মাত্র ১৩ জন । বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক ও শ্রেণি শিক্ষক সংকটের কারণে সঠিকভাবে চলছে না পাঠদান কর্মসূচি। উপজেলার প্রায় দেড় লাখ জনসংখ্যাসহ ভৌগোলিক কারণে পার্শ্ববর্তী নেছারাবাদ ও রাজাপুর উপজেলার অনেক শিক্ষার্থীদের শিক্ষাব্যবস্থাও অনেকাংশে নির্ভর করছে এ দুটি বিদ্যালয়ের ওপরে। বর্তমানে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটির পাঠদানের এ দুরবস্থার কারণে ছিটকে পড়ছে সাধারণ পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা । অন্যদিকে শহরমুখী হচ্ছে সচ্ছল পরিবারের ছাত্রছাত্রীরা। \
অভিভাবকরা জানান, ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার মান ঠিক রাখতে অতিসত্বর শিক্ষক-কর্মচারীদের শূন্য পদ পূরণ করা না হলে তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে। ছাত্র অভিভাবক আব্দুস সালাম এবং ছাত্রী অভিভাবক মাহমুদ হোসেন বলেন, সারা দেশে সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষক সংকট রয়েছে । তবে কাউখালী উপজেলার দুটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট সর্বাধিক। এস বি সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আকতার হোসেন হাওলাদার জানান, শিক্ষকের ১৭ পদ থাকলেও প্রধান শিক্ষকসহ ১১ জন শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছেন।
কর্মচারীদের চারটি পদের সব কয়টি পদ শূন্য রয়েছে। তবে দুইজন অতিথি শিক্ষক দিয়ে জোড়া তালি দিয়ে কোনোভাবে পাঠদান কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় ৪৫৬ জন ছাত্রী রয়েছে। অপরদিকে সরকারি কেজি ইউনিয়ন বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান বলেন, ১৭ জনের পদ থাকলেও ছয়জন শিক্ষক দিয়ে ক্লাস পরিচালনা করতে হয়। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় খুব বিঘ্ন ঘটছে।
দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, ফলে দাপ্তরিক কাজে বিঘ্ন ঘটছে। বাকি শিক্ষক ও কর্মচারীদের পথগুলো শূন্য রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৩৩৫ জন ছাত্র রয়েছে। এ ব্যাপারে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর হোসাইন শিক্ষক সংকটের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষক সংকটের সমাধান হবে।
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, কাউখালী সরকারি বালক ও বালিকা দুটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে, ফলে পাঠদানের বিঘ্ন ঘটছে। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

