আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

সমুদ্রের লোনাপানিতে পর্যটকদের হুল্লোড়

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার

সমুদ্রের লোনাপানিতে পর্যটকদের হুল্লোড়
কক্সবাজার সৈকত

দেশে ঈদুল আজহার টানা ১০ দিনের ছুটি চলছে। ঈদের এই ছুটিতে দেশের ভ্রমণপিপাসু মানুষরা ভিড় করেছেন সমুদ্র শহর কক্সবাজারে। ঈদের দিন শনিবার থেকেই এখানে পর্যটকের ঢল নেমেছে। শহর ও আশপাশের পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, গেস্ট হাউস ও কটেজের প্রায় সবগুলোই বুকিং হয়ে গেছে বলে দাবি করছেন অনেক ব্যবসায়ী। যদিও কিছু হোটেল ব্যবসায়ীর দাবি, চাহিদা মতো পর্যটকের দেখা মিলছে না এখনো।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিন দেখা গেছে, ঈদুল আজহার পর দিন রোববার সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক কক্সবাজারে আসতে শুরু করেছেন। অনেক পর্যটক কক্সবাজারে এসে হোটেলে উঠেই নেমে পড়েছেন সাগরের নীল পানি আর বিস্তৃত বালিয়াড়ি সৈকতে। সমুদ্র সৈকতে বসানো কিটকটের কোনোটিই খালি নেই। ঘুরতে আসা পর্যটকদের কেউ কেউ ঘোড়ায়, কেউ বিচ বাইকে, কেউবা বিস্তৃত সৈকতে ঘুরাঘুরি করছেন আবার কেউ সাগরের পানিতে জেটস্কিতে চড়ে আনন্দ করছেন।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম সিকদার সাংবাদিকদের বলেন, 'ঈদুল আজহার ১০ দিনের ছুটির শুরুতেই কক্সবাজারে লাখো পর্যটকের সমাগম হয়েছে। পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, গেস্ট হাউস ও কটেজের প্রায় সবই বুকিং হয়ে গেছে। আগামিকাল সোমবার থেকে পর্যটকের এই চাপ আরও বাড়বে বলেই প্রত্যাশা তার।'

রাজধানীর পাশের জেলা নারায়নগঞ্জ থেকে এসেছেন করিম-রুবাইদা দম্পতি। তারা বলেন, 'ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে রোববার সকালে কক্সবাজার এসে পৌঁছেছি। ডলফিন মোড়ের একটি হোটেলে উঠেছি।'

তারা বলেন, 'মনে হচ্ছে ঈদের ছুটিতে রুম ভাড়া একটু বেশি নেয়া হচ্ছে। তারপরও ভালোই লাগছে। ঘুরতে এসেছি, সেটাই আসল।'

সুনামগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক হুমায়ূন কবির জানান, তিনিও পরিবার নিয়ে ছুটি কাটাতে কক্সবাজার এসেছেন। তিনি বলেন, 'আসি আসি করে অনেকদিন পর আসতে পেরেছি। ভালোই লাগছে। সমুদ্রের গর্জন ও পরিবেশ অনেক ভালো লাগছে।'

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিচ কর্মীদের সুপারভাইজার মাহবুব আলমের মতে, সকাল থেকে দেশের নানাপ্রান্ত থেকে লাখো পর্যটক কক্সবাজারমুখি হয়েছেন। সৈকতের লাবনী পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট ও কলাতলী পয়েন্টে পর্যটকের ঢল নেমেছে। তার প্রত্যাশা, পর্যটকদের এই ভিড় বিকেলে আরও বাড়বে। লাখ লাখ পর্যটকদের নিরাপত্তায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

সী-সেফ লাইফগার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ইনচার্জ) জয়নাল আবেদীন বলেন, 'সমুদ্র সৈকত এই মুহূর্তে কিছুটা উত্তাল আছে। সমুদ্র সৈকতে গোসলের জন্য নিরাপদ স্থানগুলো হলুদ পতাকা দিয়ে চিহ্নিত করে দেয়া হয়েছে আর যেগুলো বিপজ্জনক সেটা লাল পতাকা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। পতাকা দেখে পর্যটকরা গোসলে নামছেন।'

তার মতে, অনেক পর্যটক নিয়ম অমান্য করে বিপজ্জনক স্থানেও গোসলে নেমে যাচ্ছেন। এটি সবার জন্য চ্যালেঞ্জিং।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, 'ঈদের ছুটিতে আসা পর্যটকদের সেবা দিতে সব ধরণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।'

এমএস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন