বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বিএনপি জনরায়কে ভয় পায় আওয়ামী লীগের মতো। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচন না দিয়ে দলীয় লোকজনকে চেয়ারে বসাচ্ছে। কিন্তু এই পরিণতি শুভ হবে না। তিনি বলেন, গেল জাতীয় নির্বাচনে এক্সট্রা অর্ডিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। আমরা আল্লাহর দরবারে মামলা করে দিয়েছি। ফায়সালা আল্লাহই করবেন।
মঙ্গলবার কক্সবাজার পাবলিক হলে শহর জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ৫ বছর ভেজাল ধরার ইলম অর্জন করতে হবে আমাদের। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এই লড়াইয়ে আমাদের জিততে হবে।
বিএনপির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ৫ আগষ্ট থেকে শিক্ষা নিন। রাজনীতিতে আর নতুন সংকট যেন তৈরি না হয়। জনগণের অভিপ্রায় বাস্তবায়ন করুন। বিরোধী দল হিসাবে আপনাদের পাশে থাকবো।
‘বিএনপির কপাল খারাপ’ মন্তব্য করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমাদের কপাল খারাপ না। জনগণের কপালও খারাপ না। যারা কথা দিয়ে কথা রাখে না তাদের কপাল খারাপ। দলীয়করণের রাজনীতিতে গেলে বিপদে পড়ে যাবেন, তাই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে না বিএনপি- এমন মন্তব্য করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল।
শহর জামায়াতের আমির আব্দুল্লাহ আল ফারুকের সভাপতিত্বে ঈদ পুনর্মিলনীতে গোলাম পরওয়ার বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেমন ভোট হয়েছে জনগণের কাছে স্পষ্ট। এরপরও দেশের শৃঙ্খলার স্বার্থে কষ্ট চাপা দিয়ে ফলাফল মেনে নিয়েছে জামায়াত। তার মানে অন্যায়, অসত্য, অনিয়মকে আমরা মেনে নিব না।
শহর জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি দরবেশ আলী আরমানের সঞ্চালনায় ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শহর জামায়াতের আমির আব্দুল্লাহ আল ফারুক।
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে এক সঙ্গে দুইটি ভোট দিয়েছে জনগণ। ক্ষমতায় গিয়ে বিএনপি গণভোটের রায়কে মেনে নিতে অনীহা দেখাচ্ছে। সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সংবিধানের দোহাই দিয়ে জুলাই সনদ প্রলম্বিত করার সুযোগ নাই।
আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, আমিরে জমায়াত বিএনপির ইতিবাচক কাজগুলোর প্রশংসা করছেন। সেই সঙ্গে গঠনমূলক সমালোচনাও করে যাচ্ছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে। সেই জনরায় উপেক্ষা করলে বিএনপির পরিণতি শুভ হবে না।
ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী, নায়েবে আমির মুফতি মাওলানা হাবিবুল্লাহ, সেক্রেটারি জাহেদুল ইসলাম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি শামসুল আলম বাহাদুর, কক্সবাজার-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শহিদুল আলম বাহাদুর, জেলা শিবিরের সভাপতি মীর মোহাম্মদ আবু তালহা, জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার উদ্দিন হেলালী।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার সাবেক সভাপতি জিএএম আশেক উল্লাহ, শহর জামায়াতের নায়েবে আমির কফিল উদ্দিন চৌধুরী, শহর যুব বিভাগের পরিচালক জাহেদুল ইসলাম নোমান, ঝিলংজা ইউনিয়ন আমির শহীদুল্লাহ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

