মাত্র ৫ মাস ১১ দিনে পবিত্র কোরআন শরীফের ৩০ পারা হেফজ করে হাফেজা হয়েছেন ৯ বছর বয়সী নুসরাত জাহান ইভা। অল্প বয়সে এমন বিরল সাফল্য অর্জন করায় তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। মিরসরাইয়ের দারুল হুদা মহিলা মাদরাসা ও এতিমখানা থেকে এই কৃতিত্ব অর্জন করে নুসরাত।
এর আগে নুসরাতের বড় ভাই হাফেজ ইফতেখার আলম ১১ মাসে কোরআন হেফজ সম্পন্ন করেছিলেন।
নুসরাত কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বড়দইল ইউনিয়নের মিয়া বাড়ি গ্রামের ইদ্রিছ আলম মজুমদার ও নাছিমা আক্তার দম্পতির মেয়ে। নুসরাতের বাবা ইদ্রিছ মিরসরাইয়ের বিএসআরএম কারখানায় চাকরির সুবাদে গত পাঁচ বছর ধরে উপজেলার বারইয়ারহাট এলাকায় বসবাস করছেন।
রোববার মাদরাসার সবক প্রদান ও দোয়া অনুষ্ঠানে নুসরাতের হাতে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
নুসরাতের বাবা ইদ্রিছ আলম মজুমদার বলেন, ‘আমাদের ইচ্ছা ছিল ছেলে-মেয়ে দুজনকেই কোরআনে হাফেজ বানাব। আল্লাহর অশেষ রহমতে তা পূরণ হয়েছে। আমার ছেলে ১১ মাসে আর মেয়ে মাত্র ৫ মাস ১১ দিনে হেফজ সম্পন্ন করেছে। এটি আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সবাই আমার সন্তানদের জন্য দোয়া করবেন।’
নুসরাতের বড় ভাই হাফেজ ইফতেখার আলম বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমি ১১ মাসে হেফজ করেছি, আর ছোট বোন আরো কম সময়ে করেছে। সে আমার চেয়েও বেশি মেধাবী। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতে বড় আলেম হবে।’
দারুল হুদা মহিলা মাদরাসা ও এতিমখানার ১০ বছরের নিচের হেফজ বিভাগের শিক্ষক হাফেজ মাওলানা শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘নুসরাত প্রতিদিন গড়ে ১০ পৃষ্ঠা করে হেফজ করত। বাড়িতে ছুটিতে গেলেও ১-২ দিনে অন্তত ৩ পারা শুনিয়ে আসত। এটি আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত।’
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান মাওলানা মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, ‘ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদের জন্য আলাদা হেফজখানা চালু রয়েছে। এ বছর বেশ কয়েকজন ছাত্রী হেফজ শেষ করেছে। তার মধ্যে নুসরাত মাত্র ৫ মাস ১১ দিনে হেফজ সম্পন্ন করেছে—এটি তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি, গভীর মনোযোগ ও আল্লাহর রহমতের ফল।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


৮ মাসে কোরআনে হাফেজ হলো আজিম