আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

রোহিঙ্গা ও স্বাগতিক জনগোষ্ঠীর সহায়তা কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম মোস্তফা, উখিয়া (কক্সবাজার)

রোহিঙ্গা ও স্বাগতিক জনগোষ্ঠীর সহায়তা কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন

কক্সবাজারের উখিয়ায় পিছিয়ে পড়া নারীদের নিয়ে ‘রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশে আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়ের জন্য মানবিক সহায়তা’ শীর্ষক লার্নিং অ্যান্ড শেয়ারিং অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদের হল রুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রকল্প কর্মী, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রকল্প ব্যবস্থাপক সাইমা ইয়াসমিন অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানান এবং ডিএফএটি-সমর্থিত প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম তুলে ধরেন। অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের পছন্দের নামে পরিচিত হওয়ার আমন্ত্রণ জানালে উন্মুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক পরিচয় পর্ব সম্পন্ন হয়।

ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার মুন্নী আক্তার ব্রেইনস্টর্মিং কার্যক্রমের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের প্রকল্প সম্পর্কে বিদ্যমান ধারণা উপস্থাপনে উৎসাহিত করেন। তিনি প্রকল্পের লক্ষ্য, ধারাবাহিক কার্যক্রম ও মাঠপর্যায়ের অগ্রগতি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন।

পরে গার্লস সাইন এবং এন্টারপ্রেনশিপ উপাদানের অংশগ্রহণকারীরা ডিএফএটি-অর্থায়িত কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, এসব কার্যক্রম তাদের জীবনে অর্থবহ পরিবর্তন এনেছে এবং প্রকল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আশা ব্যক্ত করেন।

সেশনজুড়ে অংশগ্রহণকারীরা সক্রিয়ভাবে মতামত শেয়ার করেন, আর ফ্যাসিলিটেটরগণ বাস্তব উদাহরণসহ অন্তর্ভুক্তিমূলক ও তথ্যবহুল পরিবেশ নিশ্চিত করেন। শেষ পর্বে প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রশ্নোত্তর সেশন পরিচালনা করে প্রকল্পের বিভিন্ন উপাদান পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করেন।

উখিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক সাঈদ মোহাম্মদ আনোয়ার বলেন, পরিবারে সম্প্রীতি, শ্রদ্ধা ও বন্ধনের গুরুত্ব তুলে ধরে ব্র্যাক-এর কাজের প্রশংসা করেন। তিনি আরও বলেন, মানবিক সংকটে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় সমন্বিত প্রচেষ্টা, যা এই প্রকল্প যথাযথভাবে লালন করছে।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোসম্মৎ হাবিবা জাহান জানান, উপজেলার নারীদের সেবা, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও পারিবারিক সুস্থতা বিষয়ে মতামত দেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হোসাইন চৌধুরী রোহিঙ্গা ও স্বাগতিক সম্প্রদায়ের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ব্র্যাক-এর মানবিক কার্যক্রমের প্রশংসা করে স্বাগতিক জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষা ও জীবন-দক্ষতা উন্নয়নমূলক উদ্যোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানান। দক্ষ অংশগ্রহণকারীদের আয়রং-এর উৎপাদন সহায়তাকারী আয়েশা আবেদ ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত করে আয় বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টির গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন।

তিনি আরও বলেন, অকালবিবাহ, আন্তঃসম্প্রদায় বিবাহ, মাদকাসক্তি ও বিভিন্ন ধরনের সহিংসতাকে বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। রোহিঙ্গারা একসময় নিজ দেশে ফিরে যাবে—এ কারণে তাদের বাড়ি ভাড়া দেওয়ার মতো প্রবণতা স্বাগতিক সম্প্রদায়ের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিক ও অংশগ্রহণকারীদের শিশুবিবাহ, মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পুরো অনুষ্ঠানটি সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং রোহিঙ্গা ও স্বাগতিক সম্প্রদায়ের মানবিক সহায়তায় প্রকল্পের কার্যকর ভূমিকা সম্পর্কে গভীর অনুধাবন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন