আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

লাইটার জাহাজ মালিকরা জিম্মি আওয়ামীদের কাছে

রাকিব হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ

লাইটার জাহাজ মালিকরা জিম্মি আওয়ামীদের কাছে
ফাইল ছবি

নদীপথে পণ্য বহনকারী লাইটার কার্গো জাহাজ এখনো নিয়ন্ত্রণ করছে আওয়ামী রাঘব বোয়ালদের সিন্ডিকেট। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সালমান এফ রহমান, সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ ও তার ভাই খালেদ মাহমুদ, ঢাকার সাবেক এমপি হাজী মোহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রামের এমপি এমএ লতিফ, দলের নেতা বাসুদেব ব্যানার্জি এবং অমল বাবুর প্রতিষ্ঠান এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সালমান এফ রহমান, হাজী সেলিম, এম এ লতিফ ও বাসুদেব ব্যানার্জি গ্রেপ্তার হলেও সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যরা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এই সিন্ডিকেটকে চাঁদা দিয়ে চট্টগ্রাম বহির্নোঙরে জাহাজ ভেড়ানো ও সারাদেশে পণ্য পরিবহন করতে হয়। সিন্ডিকেট ভাঙতে লাইটার কার্গো জাহাজ মালিকরা সরকারের কাছে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেছেন।

বিজ্ঞাপন

অন্যথায় জাহাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডিজি শিপিং-এর সহযোগিতায় আওয়ামী সিন্ডিকেটের সদস্য হাজী শফিক আহমেদ নিজেকে বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল (বিডব্লিউটিসিসি) পরিচালনা কমিটির কনভেনর ঘোষণা করেন। লাইটার কার্গো জাহাজ মালিকরা বলছেন, তাদের ডেমারেজ পাওনা ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার জন্য শফিক আহমেদ কনভেনার হয়েছেন। এছাড়া লাইটার জাহাজকে গোডাউন বানিয়ে পণ্য খালাস না করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ রয়েছে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের মাদার ভেসেল চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের বহির্নোঙ্গরে অবস্থান করে। এখান থেকে নদীপথে সারাদেশে পণ্য পৌঁছানোর জন্য লাইটার কার্গো জাহাজ ব্যবহার হয়। জাহাজের ভাড়া দেওয়া ও ভাড়া আদায়ের মধ্যস্থতা করে বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল, ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কার্গো এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও পণ্যের এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা। লাইটার কার্গো জাহাজ মালিকদের অভিযোগ, সারা দেশে পণ্য পরিবহনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে পণ্যের এজেন্টদের এই সংগঠনগুলো।

তাদের অসহযোগিতায় ২১ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি নৌ-নীতিমালা। যে কারণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার ২০০৪ সালে নৌ নীতিমালা তৈরি করে। এই নীতিমালার আলোকে বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল (বিডব্লিউটিসি) পরিচালনার জন্য পণ্যের এজেন্ট ও লোকাল এজেন্টদের আঞ্চলিক সংগঠন ইংল্যান্ড ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব চিটাগাং (আইভোয়াক), লাইটার কার্গো জাহাজ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিভোয়া) এবং কোস্টাল শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)-এর মধ্যে এমইউ স্বাক্ষর হয়।

এছাড়া গত ৩০ জুন পণ্যের এজেন্টদের কাছে লাইটার কার্গো জাহাজ মালিকদের ডেমারেজ পাওনা ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ২১১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা পরিশোধ করার একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এতে স্বাক্ষর করেন নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর মো. শফিকুর রহমান, বিআইডব্লিউটিসির নির্বাহী পরিচালক মেজর (অব.) জি এম খান, পণ্যের এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নরোত্তম চন্দ্র সাহা পলাশ, কোয়াব প্রতিনিধি মো. খুরশিদ আলম, বিসিভোয়া প্রতিনিধি মো. মুজিবুল হক মুজিব, আইভোয়াক সভাপতি শফিক আহমেদ, কোয়াব চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মেহেবুব কবির ও বন্দর কর্তৃপক্ষ কমিটির আহ্বায়ক ক্যাপ্টেন মো. মোস্তাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী টাকা পরিশোধ না করায় ২০২৫ সাল পর্যন্ত পণ্যের এজেন্টদের কাছে লাইটার কার্গো জাহাজ মালিকদের পাওনা পড়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। লাইটার কার্গো জাহাজ মালিকদের এই বিপুল পরিমাণ টাকা পরিশোধ না করে উক্ত টাকা দিয়ে আওয়ামী লীগের পণ্যের এজেন্টরা নিজেদের নামে জাহাজ তৈরি করে কম মূল্যে পণ্য পরিবহন করছে। রয়েছে সমুদ্রগামী জাহাজ ও লাইটার কার্গো জাহাজ চলাচলে সিন্ডিকেটের সদস্যদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ।

এছাড়া সরকারের নীতিমালা অমান্য করে নিজেদের জাহাজে কম ভাড়ায় পণ্য পরিবহন করায় বেকার হয়ে যাচ্ছে প্রকৃত জাহাজ মালিক ও শ্রমিকরা। তারা সিরিয়াল না পেয়ে পণ্য পরিবহন করতে পারছেন না।

এ ব্যাপারে কথা হয় ভুক্তভোগী জাহাজ মালিক মনির আহমেদ, মো. মোশাররফ হোসেন, শাহজামাল, রবিউল বেপারী ও মো. আলমগীরের সঙ্গে। তাদের অভিযোগ আওয়ামী সরকারের আমলে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের কাছে তারা জিম্মি। চট্টগ্রামভিত্তিক আঞ্চলিক সংগঠন পণ্যের এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও লোকাল এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের কাছে ডেমারেজ ও জাহাজ ভাড়ার পাওনা ৫০০ কোটি টাকা না পেয়ে ব্যবসা করতে পারছেন না তারা। সমঝোতা চুক্তি করেও চুক্তি বাস্তবায়ন করছে না পণ্যের এজেন্টরা। উল্টো বিডব্লিউটিসিসির স্বঘোষিত কনভেনার কমিটি করে টাকা আত্মসাৎ করার পাঁয়তারা করছে।

সংগঠনের সহ-সভাপতি জিএম সারোয়ার হোসেন আমার দেশকে জানান, চট্টগ্রামে আমদানিকৃত পণ্য নদী পথে সারা দেশে পৌঁছে দেওয়ার জন্য লাইটার কার্গো জাহাজ ব্যবহার হয়। মধ্যস্বত্বভোগী পণ্যের এজেন্ট কর্তৃক জাহাজের সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণ ও ভাড়া নির্ধারণ হয়। আওয়ামী দুঃশাসনের গত ১৫ বছর লাইটার কার্গো জাহাজের সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণ করে আসছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সহযোগী ও ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কার্গো এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বেলায়েত হোসেন, সাবেক মেয়র আ জ ম নাসিরের সহযোগী পারভেজ আহমেদ, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ ও তার ভাই খালেদ মাহমুদের সহযোগী আব্দুল আজিজ, ঢাকার সাবেক এমপি হাজী সেলিম ও তার প্রতিষ্ঠান, চট্টগ্রাম বন্দর ও পতেঙ্গার সাবেক এমপি এম এ লতিফ, আওয়ামী লীগ নেতা বাসুদেব ব্যানার্জি ও অমল বাবুর সিন্ডিকেট। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরো জানান, এই সিন্ডিকেট বিগত দিনে লাইটার কার্গো জাহাজ ভাড়া নিয়ে নির্ধারিত সময় ১১ দিনে পণ্য খালাস না করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ১১ মাস পর্যন্ত লাইটার কার্গো জাহাজকে ভাসমান গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করেছে। এ কারণে দেশে পণ্যের কৃত্রিম সংকটের ও পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবে পণ্যের এজেন্টদের কাছে লাইটার কার্গো জাহাজ মালিকদের ডেমারেজ ভাড়াও বকেয়া পড়েছে ৫০০ কোটি টাকা। ডেমারেজ ও ভাড়ার পাওনা টাকা না পেয়ে দেনার দায়ে জর্জরিত লাইটার কার্গো জাহাজ মালিকরা। অনেকে ব্যাংক লোন পরিশোধ করতে না পেরে দেউলিয়া হয়েছেন। ৮০০ জাহাজ কেটে কেজি দরে লোহা বিক্রি হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালে সরকার সমুদ্রপথে ও দেশের অভ্যন্তরে পণ্য পরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বিসিভোয়া, কোয়াব ও আইভোয়াক এই তিন সংগঠনের তিনজন করে মোট ৯ সদস্য সমন্বয় কনভেনার কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি সাঈদ আহমেদ বিডব্লিউটিসিসির কনভেনার হয়। সাঈদ আহমেদের বৈধ কমিটি থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি আওয়ামী সিন্ডিকেটের নেতা ও আইভোয়াকের সভাপতি হাজী শফিক আহমেদ নিজেকে বিডব্লিউটিসিসির কনভেনার ঘোষণা করেন। এতে নৌ মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (শিপিং) কমডোর মো. শফিউল বারীর সহযোগিতা রয়েছে বলে দাবি করেন বিসিভোয়ার নেতৃবৃন্দ।

এরপর থেকে কমিটি বাতিল ও পাওনা আদায়ে আন্দোলনে নামে লাইটার কার্গো জাহাজ মালিকরা। তারা ইতিমধ্যে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ ও প্রেস কনফারেন্স করেছেন । পাওনা টাকা আদায় ও অবৈধ কনভেনার শফিক আহমেদের অপসারণের দাবিতে ১০ দফা ঘোষণা করেছেন। দাবি না মানলে সারা বাংলাদেশে পণ্য পরিবহনে চলাচলরত ২৫০০ জাহাজ বন্ধ রাখার হুমকি দিয়েছেন।

দশ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে

পণ্য পরিবহন নীতিমালা-২০২৪ বাস্তবায়ন, নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের পক্ষপাতমূলক আচরণ বন্ধ করা, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের পণ্যের এজেন্টের সিন্ডিকেট বাতিল, বিডব্লিউটিসিসি পরিচালনা পরিষদ সংখ্যাগরিষ্ঠর ভিত্তিতে গঠন করা, বকেয়া ড্যামারেজের ২১১ কোটি টাকাসহ চলমান সমস্ত ভাড়া পরিশোধ, পণ্য পরিবহন করে জাহাজ ভাসমান গোডাউন না করা, সমস্ত জাহাজ নৌ নীতিমালা অনুযায়ী সিরিয়ালভুক্ত করা, ফ্যাক্টরি মালিকদের নীতিমালা বহির্ভূত চার্টার জাহাজে পণ্য পরিবহন বন্ধ করা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের সদস্য ব্যতীত কমার্শিয়াল পণ্য পরিবহন বন্ধ করা ও সমুদ্র বন্দর থেকে বাল্কহেডে পণ্য পরিবহন বন্ধ করা।

বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাঈদ আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মেহবুব কবির আমার দেশকে বলেন, আমরা সরকারি পণ্য পরিবহন নীতিমালা অনুযায়ী সিরিয়ালে পণ্য পরিবহন করলেও ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের কতিপয় পণ্যের এজেন্ট সিন্ডিকেট সিরিয়াল ছাড়া পণ্য পরিবহন করছে। আমরা নীতিমালা অনুযায়ী সিরিয়ালে বসে থেকেও ২ থেকে ৩ মাসেও একটি ট্রিপ পণ্য পরিবহন করছি। অন্যদিকে সিরিয়াল ছাড়া জাহাজগুলো অবৈধভাবে মাসে ৩ থেকে ৪ ট্রিপ পণ্য পরিবহন করছে। কিছু ফ্যাক্টরির মালিকরা নীতিমালা অমান্য করে চার্টার জাহাজ দিয়ে পণ্য পরিবহন করছে। পণ্যের এজেন্টরা জাহাজ মালিকদের ডেমারেজের ২১১ কোটি টাকা ও ভাড়া বাবদ পাওনা প্রায় ২০০ কোটি টাকা পরিশোধ করছে না। এক্ষেত্রে নৌপরিবহন অধিদপ্তরও নানা টালবাহানা করছে। এছাড়া কতিপয় পণ্যের এজেন্টরা আমাদের জাহাজগুলোকে ভাসমান গোডাউন বানিয়ে বাজারে পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অবৈধ মুনাফা অর্জন করছে। যেখানে নিয়ম অনুযায়ী ছোট জাহাজ সর্বোচ্চ ৮ দিনে এবং বড় জাহাজ ১১ দিনে খালি করার কথা থাকলেও ১০ থেকে ১১ মাস ভাসমান গোডাউন করে রেখেছে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রামভিত্তিক লোকাল এজেন্ট ও পণ্যের এজেন্টদের আঞ্চলিক সংগঠন ইংল্যান্ড ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব চিটাগাং (আইভোয়াক)-এর সভাপতি হাজী শফিক আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আমার দেশকে বলেন, সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী বিসিভোয়ার প্রতিনিধি সাঈদ আহমেদ বিআইডব্লিউটিসি পরিচালনা বোর্ডের কনভেনার হয়েছিলেন। গত ৩০ জুন কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি নতুন কমিটি গঠনে কোনো পদক্ষেপ নেননি। তাই বিশৃঙ্খলা এড়াতে তিনি নতুন কমিটির কনভেনার হওয়ার কথা স্বীকার করেন।

অন্যদিকে আইভোয়াকের সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র এবং সাবেক মেয়র আ জ ম নাছিরের ব্যবসায়িক পার্টনার পারভেজ আহমেদ বলেছেন, সাঈদ আহমেদ গত এক বছরে মাত্র একটি মিটিং করেছেন।

তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাবেক মেয়র আ জ ম নাছিরের কোনো সম্পর্ক নেই দাবি করে বলেন, বিসিভোয়ার অনিয়মের কারণে ১৯৯৩ সালে আইভোয়াক বিসিভোয়া থেকে বের হয়ে যায়। পরে ২০২৪ সালের প্রথম দিকে সালমান এফ রহমান, ওবায়দুল কাদের, হাজী সেলিম, আ জ ম নাছির, হাসান মাহমুদ, খালেদ মাহমুদ ও সাবেক এমপি এমএ লতিফের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আইভোয়াক আবার বিসিভোয়ার অন্তর্ভুক্ত হয়।

তিনি লাইটার কার্গো জাহাজ মালিকরা ডেমারেজ ও ভাড়ার টাকা পাবেন স্বীকার করে বলেন, তারা পাওনা টাকার চেয়ে কনভেনার পদ পাওয়ার জন্য বেশি আন্দোলন করছে।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ব্যবসায়িক পার্টনার, ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কার্গো এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও লিটমন্ড শিপিংয়ের মালিক বেলায়েত হোসেন বলেন, তার সঙ্গে ওবায়দুল কাদেরের ব্যবসা নেই। এখন অনেকেই ওবায়দুল কাদেরের নাম ব্যবহার করে তাকে হয়রানি করছে। তিনি বলেন, লাইটার জাহাজের মালিকদের কোনো টাকা বকেয়া পাওনা নেই। অল্প কিছু পাওনা টাকা আছে যা বিআইডব্লিউটিসির অ্যাকাউন্টে পড়ে আছে। তিনি লাইটার কার্গো জাহাজ মালিকদের টাকা দিয়ে নিজেদের জাহাজ তৈরি করে কম টাকায় ভাড়ায় দেওয়ার কথা স্বীকার করেন।

এ ব্যাপারে ইংল্যান্ড ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব চিটাগাং (আইভোয়াক)-এর সাধারণ সম্পাদক, লোকাল এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং পণ্যের এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ ও তার ভাই খালেদ মাহমুদের ব্যবসায়ী পার্টনার আজিজুর রহমানের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মোবাইলে ফোন দিলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে মন্ত্রণালয়ের মিটিংয়ে আছেন, পরে ফোন দেবেন বলে লাইন কেটে দেন। এরপর একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল-এর নির্বাহী পরিচালক মেজর (অব.) জিএম খান আমার দেশকে বলেন, বিআইডব্লিউটিসির সাবেক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, ডেমারেজের অনিষ্পত্তিকৃত টাকার বিল নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট পণ্যের এজেন্ট ও বিডব্লিউটিসিসির প্রতিনিধিবৃন্দ একত্রে বসে যাচাই ও চূড়ান্ত করা জরুরি । তিনি বলেন, ডেমারেজের টাকার পরিমাণ কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে।

এ ব্যাপারে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (শিপিং) কমডোর মো. শফিউল বারী আমার দেশকে জানান, চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংগঠন ইংল্যান্ড ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব চিটাগাং (আইভোয়াক) ও কোস্টাল শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) এবং বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিভোয়া)-র মধ্যে যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে সে চুক্তি আইভোয়াক মানেনি। কোয়াব ও বিসিভোয়া আইভোয়াকের কাছে ২১২ কোটি টাকা দাবি করে। সে টাকা তো ডিজি শিপিং বা সরকার আদায় করে দিতে পারবে না। পণ্যের এজেন্টরা পণ্য পরিবহনের আগে ডিজি শিপিং-এর কাছ থেকে এনওসি নেয়নি। পণ্যের এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও আইভোয়াক চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংগঠন। তাদের সংগঠনের রেজিস্ট্রেশন নেই।

তিনি তার বিরুদ্ধে বিডব্লিউটিসিসি পরিচালনায় পণ্যের এজেন্ট ও আওয়ামী সিন্ডিকেটের সদস্য হাজী শফিক আহমেদকে কনভেনার বানানোর অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, বিসিভোয়ার লোকজন আমার কথা শোনে না। যে সব নেতা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে তারা নিজেরাই ডিজি শিপিংয়ের দেওয়া ৯টি আদেশ অমান্য করেছেন। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর দুর্নীতি বন্ধ করার চেষ্টা করেছি এজন্য তারা আমার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে।

তিনি বলেন, তাদের দুর্নীতি বন্ধ করার জন্য আমি যখন তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে জাহাজের সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণে জাহাজী অ্যাপ চালু করার কথা বলছি, এরপর তারা আবার পেছনে লাগছে। এখন পণ্য পরিবহনে প্রত্যেক টনে দুই টাকা করে পায়। এতে মাসে প্রায় ৬০ লাখ টাকা আদায় হয়। এই টাকা আত্মসাতের জন্য তারা জাহাজী অ্যাপ চালু করতে দেয় না।

আওয়ামী লীগের সময় যারা দুর্নীতির মাধ্যমে সিন্ডিকেট তৈরি করেছিল সেই সিন্ডিকেট এখনো চালু আছে, এর সত্যতা তিনি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, সিন্ডিকেট ভাঙতে চেয়েছিলাম। চিটাগাং পোর্টের একটা সিদ্ধান্তের কারণে ভাঙতে পারিনি। কোনো পদক্ষেপ নিলে তারা টাকা দিয়ে সবাইকে কিনে পদক্ষেপ বন্ধ করে দেয়। স্বার্থের বেলায় তারা সবাই এক। তাদের কাছে অনেক অবৈধ টাকা। ন্যায়ের পক্ষে কোনো পদক্ষেপ নিলে তারা টাকা দিয়ে সব ব্যবস্থা করে ফেলে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন