নারায়ণগঞ্জে এলপিজি গ্যাসের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপি গ্যাসের দাম সরকার ১৩০৬ টাকা নির্ধারণ করলেও দ্বিগুণ দামেও মিলছে না গ্যাস। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ। এলপি গ্যাসের বোতল কোথাও মিলছে না- ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই জ্বালানি কাঠ সংগ্রহে বিভিন্ন এলাকায় ছোটাছুটি করছেন।
গত ১৫ দিন ধরে হঠাৎ করেই বাজারে সংকট দেখা দেয় এলপি গ্যাসের। ১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডার খুচরা দোকানে পাওয়া যায় না। ফলে যাদের কাছে মজুদ আছে, তারা ইচ্ছেমতো দাম হাঁকিয়ে ভোক্তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছেন। খুচরা বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো যে যেভাবে পারছেন দাম নিচ্ছেন গ্রাহকদের কাছ থেকে।
এনিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের কোনো মাথাব্যথাও নেই। বাধ্য হয়েই রান্নার জন্য মানুষকে চড়া মূল্য দিয়ে গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় দ্বিগুণ দামেও গ্যাসের বোতল মিলছে না।
দোকানে এলপি গ্যাস পাওয়া না গেলেও কালোবাজারে ঠিকই মিলছে গ্যাসের বোতল। অর্ডার দিলে রিকশায় করে গ্যাসের বোতল সাপ্লাই দেয়া হয়। সেক্ষেত্রে দাম নেয়া হয় ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকা।
কাশীপুর এলাকার সোহেল সরকার জানান, দুই সপ্তাহ আগেও ১২ কেজির এলপি গ্যাস ১৮০০ টাকায় কিনেছিলাম। গতকাল সেই গ্যাস ২৫০০ টাকাও মিলছে না। সরকারের উচিত এ বিষয়ে ত্বরিত ব্যবস্থা নেওয়া।
রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী মাহবুব জানান, দিন দিন গ্যাসের দাম বেড়েই চলেছে। গ্যাসের কৃত্রিম সংকট ও মূল্য বৃদ্ধির কারণে আমাদের ব্যবসারও করুণ অবস্থা।
কাশিপুর ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তারা মিয়া বলেন, ‘রান্না তো করতেই হবে। পরিবারের মানুষকে না খাইয়ে রাখা যায় না। তাই বাধ্য হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে কিছু জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করেছি।’
এদিকে এলপি গ্যাসের খুচরা বিক্রেতারা জানান, তাদের কাছেও পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নেই। সরবরাহ বন্ধ থাকায় তারা ক্রেতাদের গ্যাস দিতে পারছেন না।
এলাকাবাসী দ্রুত এই সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

