সুন্দরবনের পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী স্টেশনের কেনুয়ার খালের মুখ থেকে এক রিসোর্ট মালিকসহ তিন পর্যটককে অপহরণ করেছে সশস্ত্র বনদস্যুরা। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
শুক্রবার বিকেলে বনের অভ্যন্তরে নৌভ্রমণের সময় অপহরণের এ ঘটনা ঘটে। অপহৃতরা হলেন—ঢাংমারী এলাকার ‘গোলকানন’ রিসোর্টের মালিক শ্রীপতি বাছাড় এবং ঢাকা থেকে আগত দুই পর্যটক মো. সোহেল ও মো. জনি।
বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার দুপুরে ঢাকা থেকে আগত চার পর্যটক ঢাংমারীর গোলকানন রিসোর্টে অবস্থান নেন। বিকেলে রিসোর্টের মালিক শ্রীপতি বাছাড়সহ তারা একটি বোটে করে কেনুয়ার খালে ঘুরতে গেলে একদল সশস্ত্র বনদস্যু বোটটির গতি রোধ করে। এ সময় দুই নারী পর্যটকসহ মোট পাঁচজনকে অপহরণ করা হয়। পরে রাতের দিকে দুই নারী পর্যটককে ছেড়ে দিলেও রিসোর্ট মালিক ও দুই পুরুষ পর্যটককে জিম্মি করে নিয়ে যায় দস্যুরা।
নিখোঁজদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জিম্মি তিনজনের মুক্তির বিনিময়ে দস্যুরা মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করছে। রিসোর্ট মালিক শ্রীপতি বাছাড়ের ছোট ভাই উত্তম বাছাড় অপহরণের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে ঢাংমারী স্টেশনের কর্মকর্তা সুরজিৎ চৌধুরী বলেন, অপহরণের খবর পাওয়া গেছে, তবে কোন দস্যু বাহিনী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
খুলনার দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান জানান, অপহৃতদের উদ্ধারে থানার পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে।
এদিকে অপহৃতদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে রিসোর্ট মালিক সংগঠনের নেতারাও দস্যুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সুন্দরবনে বারবার এ ধরনের অপহরণে পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

