আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

আসছে ঈদ, কারিগরদের ব্যস্ততা বেড়েছে দর্জিবাড়িতে

শওকত জামান, জামালপুর

আসছে ঈদ, কারিগরদের ব্যস্ততা বেড়েছে দর্জিবাড়িতে

ঈদ আসছে, চলছে সর্বত্র ঈদের প্রস্তুতি। ব্যস্ততা বেড়েছে জামালপুরের পোশাক তৈরির দর্জি বাড়িতে। দর্জিদের যেন ব্যস্তার শেষ নেই। সারি সারি সেলাই মেশিনের চাকা ঘুরছে দিনরাত। সেই সঙ্গে দুলছে পোশাক কারিগরদের দুই পা। দুই চোখের দৃষ্টি সুঁই-সুতার সেলাইয়ের দিকে।

সুঁই-সুতার সেলাইয়ের লাইন ঠিক রাখতে হাতের আঙুল এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে কাপড়। দম ফেলানোর ফুসরত নেই পোশাক তৈরিতে নিয়োজিত কারিগরদের। ঝকঝক শব্দে বেড়েছে দর্জিবাড়ির ব্যস্ততা। কারিগরদের ব্যস্ততাই জানান দিচ্ছে ঈদ আসছে।

বিজ্ঞাপন

এমনই এখন প্রতিদিনের চিত্র জামালপুর শহরের দর্জিবাড়িগুলোতে । বিভিন্ন উৎসবে-পার্বণে দর্জির কাছে পছন্দের পোশাক বানানোর রীতি-রেওয়াজ বাঙালির ঐতিহ্যের অংশ। তাই ঈদের আগমন বার্তায় দর্জির দোকানে ভিড় করছেন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।

ঈদকে সামনে রেখে ফ্যাশন-সচেতন আর রুচিশীল ব্যক্তিরা ছুটছেন দর্জিবাড়িতে। আগেভাগেই নিজেদের পছন্দসই জামা-কাপড় বানিয়ে রাখছেন তারা। এ জন্য দর্জিপাড়ায় বেড়েছে ঈদ কেন্দ্রিক ব্যস্ততা। চাঁদ রাতের আগেই ক্রেতাদের হাতে পোশাক তোলে দিতে দিন-রাত কাজ করছেন কারিগররা।

জামালপুর শহরের জামে মসজিদ রোডে তালুকদার মার্কেট, বসাক মার্কেট, তমালতলার কাদের ম্যানশন, রওশন আরা মার্কেট, খান ম্যানশন, মিতালী মার্কেট ও স্টেশন রোডের টেইলার্সগুলো বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়- কাউন্টারে দাঁড়িয়ে অর্ডার নিচ্ছে, একদিকে সেলাই মেশিনের খটখট আওয়াজ আর পাশে পোশাক বানাতে আসা গ্রাহকদের ইঞ্চি-ফিতায় পোশাক ফিটিংয়ের মাপজোখ, কোনায় কাটিং টেবিলে মাপ অনুযায়ী দুই আঙুলে কাঁচি চালিয়ে কাপড় কাটছে কাটিং মাস্টার। টেবিলের কোণায় কাটা কাপড় পুঁটলি করে বেঁধে থরে থরে রেখেছেন। ওপরে এক কর্ণারে হ্যাঙ্গারে ঝুলছে তৈরি করা পোশাকের সারি। টেইলার্সগুলোতে কাপড় বানাতে আসা নানা বয়সি মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে । রমজানের শেষ চাঁদরাত পর্যন্ত এ ব্যস্ততা থাকবে দর্জিবাড়িতে । ঈদকে সামনে রেখে পোশাক প্রস্তুতে এমনই দৃশ্য দর্জিবাড়িগুলোতে।

জামালপুর শহরের বসাক মার্কেটে লেডিস টেইলার্স জেনিফার টেইলার্সের কাটিং মাস্টার শেফালী রায় বলেন, এবার অর্ডার ভালোই পড়ছে। ১৫ রোজার পর অর্ডার নেওয়া বন্ধ থাকবে। তারিখ মতো কাস্টমারের হাতে ঈদের পোশাক ডেলিভারী দিতে রাত-দিন কাজ করতে হচ্ছে।

গতবারের মতো এবারও অর্ডার বেশি। ঈদের এ সময়টা অর্ডার বেশি আসে। রাত জেগে কাজ করতে হচ্ছে। কাজের চাপের কারণে খাওয়া-ঘুমের সময় পাচ্ছি না। ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত কাজ এবং জামাকাপড় ডেলিভারি দিতে হয় বললেন তালুকদার মার্কেটের বলাকা টেইলার্সের প্রবীণ কারিগর খলিলুর রহমান।

তবে অনেক টেইলার্সের কারিগররা বলেন-শুধু ঈদের সময় হাতে কাজের চাপ থাকে। সারা বছর তেমন কাজ থাকে না। আগের মতো এ পেশায় মানুষ থাকতে চায় না। কারণ সবকিছুর দাম বাড়লেও আমাদের মজুরি বাড়েনি। আর মানুষ রেডিমেড জামাকাপড় এখন বেশি কিনে।

বোসপাড়ার বাসিন্দা তাসনিম রকিব মনিষা বলেন, রেডিমেটের চেয়ে টেইলার্সে কাপড় বানাতে দেই। পোশাক ফিটিং, মন মতো ডিজাইনে বানানো যায়। প্রথম দিকে টেইলার্সে কাপড় বানাতে এসেছি, কারণ ১০ রোজার পর বেশির ভাগ টেইলার্স অর্ডার নেয় না।

মেয়েরা নিত্যনতুন ডিজাইনের পোশাক বানাতে আসছেন। তেমনি ঈদের সময় শার্ট-প্যান্টের চেয়ে ছেলেদের বেশি আগ্রহ পাঞ্জাবিতে। তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির আঁচ লেগেছে দর্জিবাড়িতেও। যেখানে উত্তাপ ছড়াচ্ছে মজুরি। আমাদের টেইলার্সে প্রতি পিস প্যান্ট সেলাই ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, সালোয়ার কামিজ ২৫০ টাকা, ডাবল ব্লাউজ ৩০০, সুতি ব্লাউজ ২৫০, পেটিকোট ১০০, ম্যাক্সি ১২০ থেকে ১৩০, গাউন ৩০০ থেকে ৪০০, বোরকা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে জানালেন বলাকা টেইলার্স মালিক সৈয়দ সেলিম জামান।

নারী কারিগর রীনা বেগম বলেন, সারা বছরের চেয়ে ঈদের সময়ে কাজের চাপ বেশি থাকে। এ সময়ে আমরা একটু বাড়তি ইনকাম করি। এ সময়টা একটু চাপের মধ্য দিয়ে গেলেও বাড়তি আয় করে পরিবারের মুখে হাঁসি ফুটাতে পেরে অবশেষে সব কষ্ট আনন্দে ভরে যায়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন