হত্যা, দমন-পীড়ন ও ভোটাধিকার হরণের অভিযোগ তুলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “এক যুগ ধরে হাজারো মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, হাজার-হাজার মানুষকে আহত করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হচ্ছে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা”।
মঙ্গলবার বিকেলে ময়মনসিংহের সার্কিট হাউস মাঠে ৩টা ৫৬ মিনিটে জনসভায় যোগ দিয়ে তারেক রহমান এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখে জনগণ যে অধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছে, সেটি হলো ভোটের অধিকার। এই অধিকার দরকার, কারণ আমরা চাই- “এই দেশের মালিক জনগণ, তাদের ইচ্ছামতো দেশ পরিচালিত হোক। জনগণের সেই ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতেই ভোট অপরিহার্য”।
তারেক রহমান বলেন, ভোটাধিকার না থাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে মৌলিক সমস্যাগুলো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। নদীভাঙন, কর্মসংস্থান সংকট, ব্রিজ-কালভার্ট, স্কুল-কলেজ, রাস্তা ও স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো সংস্কারের প্রয়োজন থাকলেও গত এক যুগে এসব বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। “কারণ ছিল একটাই- ভোটের অধিকার ছিল না। নিশিরাতের তথাকথিত নির্বাচনে প্রকৃত জনপ্রতিনিধি আসেনি,” মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ভোটাধিকার হরণ হওয়ায় যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় জনবল ও ওষুধ সরবরাহ করা হয়নি। “একজন অভিভাবক চায় তার সন্তান সুশিক্ষা পাক, কর্মসংস্থানের সুযোগ পাক। তরুণরা চায় চাকরি ও নিরাপদ ব্যবসা। অসুস্থ হলে মানুষ সময়মতো চিকিৎসা চায়- এগুলোই মানুষের মৌলিক চাহিদা,” বলেন তারেক রহমান।
ময়মনসিংহ অঞ্চলকে কৃষিভিত্তিক এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাছের পোনা চাষসহ কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করলে মাছের পোনা বিদেশে রপ্তানিসহ কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়ে বলেন, সার, বীজ ও কীটনাশক সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
নারীদের ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে মেয়েদের শিক্ষা ক্লাস ওয়ান থেকে টুয়েলভ পর্যন্ত বিনা খরচে চালু করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপি সরকার গঠন করলে নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে গৃহিণী ও দরিদ্র পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য খাত নিয়ে বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, জেলা ও উপজেলা হাসপাতাল সম্প্রসারণের পাশাপাশি গ্রামভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা হবে। “মা ও শিশুরা যেন ঘরে বসেই প্রাথমিক চিকিৎসা পায়, সেই ব্যবস্থা করা হবে,” বলেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, বিএনপির রয়েছে দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা- খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতি দমনের অভিজ্ঞতা। “যারা আজ বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলছে, তাদেরই দুই সদস্য একসময় বিএনপি সরকারের অংশ ছিল। সেটাই প্রমাণ করে, তারা নিজেরাই নিজেদের বক্তব্যের অসারতা জানে,” বলেন তিনি।
মাদক সমস্যা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এর মূল সমাধান কর্মসংস্থান। ভোকেশনাল ও আইটি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ করে তুললে তারা দেশে-বিদেশে কাজের সুযোগ পাবে এবং মাদক থেকে দূরে থাকবে।
শেষে তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “একাত্তরের মতো, চব্বিশের আন্দোলনের মতো এবারও সবাইকে এক থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থাকলেই জনগণের শাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।” বক্তব্যের শেষাংশে তিনি স্লোগান দেন “করবো কাজ, গর্ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।”
উল্লেখ্য, সমাবশের শুরুতে বিভাগের ২৪জন ধানের শীষ প্রতীক মনোনীত প্রার্থী বক্তব্য দেন এবং তারেক রহমান বক্তব্য শেষে বিভাগের সকল প্রার্থীকে সমাবেশে পরিচয় করিয়ে দেন। জনসভা ঘিরে সকাল থেকেই ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা সার্কিট হাউস মাঠে জড়ো হন। সভাস্থলে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সিসিটিভি নজরদারি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

