খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির বিক্রয়/বিতরণ কেন্দ্রের প্রায় ১০ গজ দূর থেকে জব্দ করা হয়েছিল ২৯ বস্তা সরকারি চাল। জব্দের পরে নিয়মিত মামলার কথা জানালেও মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় চাল মজুতকারীকে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল উক্ত চাল স্থানীয় গরিব ও দুস্থদের মধ্যে পাঁচ কেজি করে বিতরণ করে দেওয়া হবে।
ঘটনার ২৫ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কালোবাজারিদের সমন্বয়ে বিষয়টি ধামাচাপার দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় লোকজন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের বরাটি বাজারে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিক্রি করেন হাবিবুর রহমান খান নামের এক ডিলার। একজন কার্ডধারী ১৫ টাকা কেজি ধরে ৩০ কেজি চাল পায়। ওই ডিলার সংশ্লিষ্ট এলাকার ৫৩৫ জন কার্ডধারীর মাঝে চাল বিক্রি করে থাকেন। গত ১ এপ্রিল ডিলার কার্ডধারীদের মাঝে চাল বিক্রি করছিলেন। ওই দিন রাতেই ডিলার পয়েন্টের প্রায় ১০ গজ দূরে একটি ঘরে সরকারি চাল মজুত রাখার খবর পায় প্রশাসন। খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা পুলিশের সহযোগিতায় ওই ২৯ বস্তা সরকারি চাল জব্দ করেন। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির জিম্মায় গ্রাম পুলিশের পাহারায় জব্দ চালগুলো বরাটি বাজারের চাল মজুতকৃত ঘরেই রাখা হয়।
এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিয়মিত মামলা করার কথা জানালেও মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় চাল মজুদকারীকে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উক্ত জব্দ কৃত চাল স্থানীয় গরীব ও দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হবে। ঘটনার ২৫ দিন পার হলেও চালের বস্তাগুলো এখনও থেকে যায় বরাটি বাজারের ওই চাল মজুদ কৃত ঘরে। এতে জনমনে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে বলছেন, চাল মজুদকারী এক ইউপি সদস্যের আত্মীয় হওয়ায়, ইউপি সচিব কৃষ্ণ চন্দ্র সরকার বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
নায়েকপুর ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) কৃষ্ণ চন্দ্র সরকার জানান, চাল মজুদকারী ওয়াহাব মিয়াকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ২৯ বস্তা চাল এখনো বরাটি বাজারেই জব্দ অবস্থায় আছে। গরীব ও দুস্থদের মাঝে বিতরণ করতে ইউএনও স্যার নির্দেশ দিয়ে ছিলেন। আমার পক্ষে একা চালগুলো বিতরণ করা সম্ভব না, তাই বিতরণ করা হয়নি।
নায়েকপুর ইউনিয়নের সহকারী কর্মকর্তা (ভূমি) নূরুল ইসলাম (ট্যাগ অফিসার) জানান, 'আমি চাল বিতরণের বিষয়ে কিছু জানি না।'
এ ব্যাপারে নায়েকপুর ইউনিয়ন প্রশাসক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান মিজান জানান, 'জব্দ কৃত ২৯ বস্তা চাল বিতরণের জন্য তালিকায় তৈরি হচ্ছে। আগামী বুধবার (২৯ এপ্রিল) চালগুলো বিতরণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী জানান, বরাটি বাজার থেকে জব্দ কৃত ২৯ বস্তা চাল জনপ্রতি ৫ কেজি করে স্থানীয় অসহায় ও দুস্থদের মাঝে বিতরণ করতে ইউনিয়ন প্রশাসকে (কৃষি অফিসার) নির্দেশ দিয়ে ছিলাম। এখন ইউনিয়ন প্রশাসকই ভালো বলতে পারবে।'
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

