সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও ডিএপি সারের কৃত্রিম সংকট এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে বিক্রি করায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন শেরপুরের নকলা উপজেলার বোরো চাষিরা। এছাড়াও নিয়মানুযায়ী বাফার গোডাউনে সার না পাঠিয়ে সরাসরি ডিলারের গুদামে। এ উপজেলার বিসিআইসি ও বিএডিসি ডিলারদের বিরুদ্ধে সার খালাসসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে।
জানা গেছে, নকলা উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা মিলে মোট ১০ জন বিসিআইসি অনুমোদিত এবং বিএডিসি অনুমোদিত ৭০ জন সার ডিলার রয়েছেন। এরমধ্যে অনেকে চলতি বোরো মৌসুমের শুরু থেকেই বিসিআইসি ডিলাররা আমদানি এবং যমুনাসহ অন্যান্য সার কারখানা থেকে সরবরাহ করা সার বরাদ্দ অনুযায়ী প্রাপ্তির পর তা বাফার গোউডানে না নিয়ে সরাসরি নিজেদের গোডাউনে খালাস করাচ্ছেন। বাফার গোডাউনে কর্মরত কতিপয় কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে এ কাজটি করা হয় পরিবহন ও পণ্য লোড-আনলোড খরচ কমাতে। এতে যে মুনাফা হয় তাদের কিছু অংশ যায় বাফার গোডাউন কর্তৃপক্ষের পকেটে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাফার গোডাউনে কর্মরত মোরাদুজ্জামান শেরপুরের বাসিন্দা হওয়ায় প্রভাব বিস্তার করেছেন এবং তার মদতেই চলে এ অনিয়ম। শুধু শেরপুর জেলা নয়, পাশের জেলা জামালপুরের আমদানিকৃত সারও এখানে মজুত রাখা হয়। ফলে এ সুযোগটিই নিয়ে থাকেন গুদাম কর্তৃপক্ষ ও ডিলাররা। বাফার গোডাউনে সার না
পাঠিয়ে অনেক সময় ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে এসব সার অতিরিক্ত মূল্যে পাচার করা হয়। এতে করে যে মুনাফা হয়, তার ভাগ নেন বাফার গোডাউন কর্তৃপক্ষ।
গত রোববার সকালে নকলায় দুইজন ডিলারের নামে বরাদ্দকৃত সার বাফার গোডাউনে না নিয়ে অবৈধভাবে তাদের গোডাউনে মজুত করার সময় স্থানীয় জনতা ও গণমাধ্যমকর্মীরা আটক করেন। পরে স্থানীয় কৃষি অফিস ও পুলিশ প্রায় ৪৯ টন ইউরিয়া সার জব্দ করে ট্রাকসহ থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে বিসিআইসি ও বিএডিসি অনুমোদিত সার ডিলাররা সরকার নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় অতিরিক্ত মূল্যে এসব সার বিক্রি করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তথ্যমতে, ডিএপি সার সরকার নির্ধারিত মূল্য ১০৫০ টাকা হলেও বিক্রি করা হচ্ছে ১৪০০ টাকায়, টিএসপি ১৩৫০ টাকার ক্ষেত্রে বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ টাকায়, এমওপি ১ হাজারের ক্ষেত্রে বিক্রি করা হচ্ছে ১১০০ টাকায় এবং ইউরিয়া ১৩৫০ টাকার ক্ষেত্রে বিক্রি করা হচ্ছে ১৪০০ টাকায়। এছাড়াও ডিএপি সারের চাহিদা বেশি থাকায় এর কৃত্রিম সংকট তৈরি করে রেখেছেন ডিলাররা। ফলে কৃষকরা ডিলারদের দোকানে দোকানে ঘুরেও সার কিনতে গলদ্ঘর্ম হচ্ছেন।
জালালপুর গ্রামের কৃষক আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, তিনি ডিএপি সার কিনতে গেলে সার নেই বলে জানিয়ে দেওয়া হয়।
জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক সাখাওয়াত হোসেন জানান, ডিএপি সারের কোনো সংকট নেই। তবে বিএডিসির সার সময়মতো পাওয়া গেলেও আমদানিকৃত সার পরিবহন করতে গিয়ে কিছুটা বিলম্ব হয়।
অবশ্য এতেও কোনো সংকট তৈরি হয় না। অন্যদিকে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রির বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

