পৌর টোল আদায়ের নামে ইজিবাইক, অটোরিকশা, মিশুক, ভ্যান ও সিএনজি অটোরিকশা থেকে পৌর টোল আদায়ের নামে রাস্তার ওপর স্ট্যান্ড করে ইজারা প্রদান ও চাঁদা আদায় বন্ধে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন শেরপুর-২ (নকলা ও নালিতাবাড়ী) আসন থেকে নবনির্বাচিত এমপি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য ফাহিম চৌধুরী।
তার নির্দেশে ইতিমধ্যে নকলা ও নালিতাবাড়ী— এ দুই পৌরসভার প্রশাসকগণ নতুন বাংলা সনের ইজারা প্রদান প্রক্রিয়া স্থগিত করেছেন।
জানা গেছে, নালিতাবাড়ী পৌরসভার নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড বা যানবাহন রাখার জায়গা না থাকলেও প্রতি বছর শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে রাস্তার ওপর স্ট্যান্ড বসিয়ে ইজারা আদায় করা হয়। এ ধরনের ১৪টি স্ট্যান্ড রয়েছে।
এতে করে ওই সব স্ট্যান্ডের ইজারাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে, কোথাও বা ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে, সিএনজি, অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ ছোটখাটো যানবাহন থেকে পৌর টোল আদায় করে।
একইভাবে ওই রাস্তা অতিক্রমকারী যে কোনো ভারী যানবাহন থেকেও তারা টোল আদায়ের নামে চাঁদা আদায় করে। এ টোল কখনো কখনো দ্বিগুণ এবং কখনো কখনো দিনে একাধিকবার আদায়ের অভিযোগও ছিল। একইভাবে নকলা পৌর কর্তৃপক্ষও টোল আদায় করছিল এসব যানবাহন থেকে।
তথ্যমতে, শুধু নালিতাবাড়ী উপজেলাতেই এ ধরনের যানবাহন রয়েছে প্রায় ৪ হাজারের ওপরে। এমতাবস্থায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সিএনজি অটোরিকশা, মিশুক ও ভ্যানচালকেরা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ফাহিম চৌধুরীর শরণাপন্ন হন। এতে সংসদ সদস্য ফাহিম চৌধুরী সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলে টোল আদায় বন্ধে উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
এদিকে রোববার বিকেলে টোলের নামে চাঁদা আদায় বন্ধে নকলা শহরে মানববন্ধন করেন শহর ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও অটোচালকেরা। সোমবার একই দাবিতে নালিতাবাড়ীতে মানববন্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হলে পৌর কর্তৃপক্ষ পৌর টোল আদায় বন্ধ করে ইজারা প্রদান স্থগিতের ঘোষণা দেয়। ফলে ওই মানববন্ধন বাতিল করেন অটোচালকেরা।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রিকশা, ভ্যান অটোচালক দলের সভাপতি হামিদুর রহমান হারুন জানান, আমাদের রিকশা, ভ্যান, অটোচালকেরা অতিদরিদ্র। প্রতিদিন ১০ টাকা করে দেওয়া তাদের জন্য জুলুম। আগের দিনের চাঁদা পরদিন দিতে গেলে ইজারাদারের লোকজন খারাপ আচরণ করে। এছাড়া বর্তমান ইজারাদারগণ বিএনপির সমর্থক হওয়ায় এতে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এ কারণে আমরা চাঁদা বা টোল বন্ধ করার পক্ষে।
নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক রেজওয়ানা আফরিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে টোল আদায় নিয়ে নানা অভিযোগ আসছিল। স্ট্যান্ডের জন্য পৌরসভার নিজস্ব জায়গা না থাকায় রাস্তার ওপর একাধিকবার টোল আদায় করা হয়। এসব বিষয় আমলে নিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনতে আপাতত ইজারা স্থগিত করা হয়েছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী বলেন, ‘খেটে খাওয়া মানুষের কথা ভেবে আমরা টোল আদায় বন্ধে উদ্যোগ নিয়েছি। এ নিয়ে আমি ইজারাদার এবং চালকদের সঙ্গে কথা বলেছি। ইজারাদারেরা টোল আদায় বন্ধে সম্মত হয়েছেন। প্রয়োজনে তারা যে লসে পড়বেন আমি ব্যক্তিগতভাবে হলেও তা পুষিয়ে দেব। তবু খেটে খাওয়া মানুষ মুক্তি পাক।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

