আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ অসম্পূর্ণ, উৎকণ্ঠায় কৃষক

কিবরিয়া চৌধুরি হেলিম, নেত্রকোনা

হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ অসম্পূর্ণ, উৎকণ্ঠায় কৃষক
নেত্রকোনার খালিয়াজুরীর জগন্নাথপুরে ফসলরক্ষা বাঁধের ওপর কিছু অংশে মাটি কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। আমার দেশ

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় নেওয়া বাঁধ সংস্কার প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও পুরোপুরি শেষ হয়নি। ফলে আগাম বন্যার ঝুঁকিতে থাকা বোরো ফসল নিয়ে কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু করে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও অনেক স্থানে এখনো মাটি ভরাট ও আনুষঙ্গিক কাজ বাকি রয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ না হওয়ার মূল কারণ হলো দেরিতে কাজ শুরু হওয়া। আর এই দেরিতে কাজ শুরু হওয়ার অনেকগুলো কারণের মধ্যে নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্যবস্থাপনা ও অপকৌশলও রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) পরিচালিত ‘কাজের বিনিময়ে টাকা’ (কাবিটা) প্রকল্পের আওতায় চলতি অর্থবছরে খালিয়াজুরীতে ২০ কোটি ২৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ফসলরক্ষা বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হয়। পাউবোর কারিগরি সহায়তায় ১৪৩টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন হাওরে প্রায় ৯১ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ মেরামত করা হচ্ছে। এসব বাঁধের ওপর নির্ভর করছে উপজেলার প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমির ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি বোরো ধান।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় তারা অকাল বন্যার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। গাজীপুর ইউনিয়নের এক কৃষক বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি শেষ হয়ে গেল, অথচ এখনো বাঁধের কাজ চলছে। চৈত্রের শুরুতে নদীতে হঠাৎ পানি চলে এলে সারা বছরের কষ্ট বিফলে যাবে। বাঁধ মজবুত না হলে সামান্য ঢলও সামলানো কঠিন হবে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেরিতে অর্থ বরাদ্দ ও ভৌগোলিক কারণে কাজ শেষ করতে বিলম্ব হয়েছে। প্রকল্পের কাজ অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হলেও পিআইসি সদস্যরা সময়মতো সরকারি বরাদ্দের টাকা পাননি। অনেকে নিজস্ব অর্থ ব্যয় করে কাজ চালিয়ে যেতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েন, এতে কাজের গতি কিছুটা মন্থর হয়ে পড়ে।

বাঁধের কাজের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে উপজেলা কাবিটা স্কিম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি এবং ইউএনও নাদির হোসেন শামীম জানান, মাটি ভরাটের কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। বাকি ১০ শতাংশ মাটি ভরাট ও বাঁধের ওপর ঘাস লাগানোর কাজ আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে ইউএনও বলেন, ‘হাওর থেকে দেরিতে পানি নামায় প্রকল্প চিহ্নিতকরণ কিছুটা পিছিয়ে ছিল। এ কারণে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু করা যায়নি এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পুরোপুরি শেষ করাও সম্ভব হয়নি।’ তবে বাকি কাজ দ্রুত শেষ করে ফসলকে ঝুঁকিমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, ‘হাওর থেকে পানি নামতে দেরি হয়েছে। তারপরও অন্যান্য বছরের তুলনায় কাজ অনেক দ্রুত হয়েছে। কয়েকটি বাঁধ ছাড়া অধিকাংশ বাঁধে মাটি ফেলার কাজ শেষ হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাঁধের কাজ সম্পন্ন হবে।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...