খেলাপি ঋণের অভিযোগসংক্রান্ত ঝামেলা পিছু ছাড়ছেই না বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি- সোনাতলা) আসনে বিএনপির আলোচিত প্রার্থী কাজী রফিকের। আবারো খেলাপি ঋণের ঝামেলায় পড়লেন তিনি। আগামী রোববার (১৮ জানুয়ারি) তার আপিল শুনানি রয়েছে। এ কারণে বিএনপি সুবিধাজনক একই আসনে বিএনপি মনোনীত আরেক প্রার্থী বগুড়া জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির। ফলে প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে দল হিসেবে ঝুঁকিমুক্ত বিএনপি।
এর আগে আপিল বিভাগ এক্সিম ব্যাংকের ৭৬৫ কোটি টাকার ব্যাংক খেলাপি হিসেবে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। পরে ১১ জানুয়ারি রবিবার তার মনোনয়ন বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে দায়ের করা একটি রিট আবেদন খারিজ করাতে কোনো আইনি বাধা ছিল না। কিন্তু এবার ফের বাধার মুখে পড়লেন কাজী রফিক। নির্বাচনি আইন অনুযায়ী তিনি প্রার্থী হিসেবে অবৈধ হলেন।
আপিল বিভাগ, ঋণ খেলাপি সাব্যস্ত না করতে কাজী রফিকের পক্ষে দেওয়া হাইকোর্টের রায় বাতিল করায় ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের একজন খেলাপি গ্রহীতা থেকেই গেলেন।
জানা গেছে, এক্সিম ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ না করায় কাজী রফিকুল ইসলাম অন্তত শতশত কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হন। এর মধ্যে শুধু এক্সিম ব্যাংকের ৭৬৫ কোটি টাকার ব্যাংক খেলাপি হিসেবে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্টের আপিল বিভাগ। অথচ শুধু নির্বাচনে অংশ নিতে খেলাপি ঋণ পরিশোধ না করেই উচ্চ আদালত থেকে স্টে অর্ডার নিলে তাকে সিআইবি প্রতিবেদনে ঋণ খেলাপি হিসেবে না দেখানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের ২০২৫ সালের দেওয়ানী বিধি নং ৬৭৭ (এফএম) থেকে উত্থাপিত ২০২৬ সালের ১৪৮ নম্বর আপিলের অনুমতি চেয়ে দেওয়ানী আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানি অনুষ্ঠিত হয় ১৪ জানুয়ারি বুধবার। ব্যাংকটির গুলশান শাখার ম্যানেজার বাদী হয়ে কাজী রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্যের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করেছিল।
আপিল শুনানি শেষে কাজী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে রায় দেয় আপিল বিভাগ। গেল বছর ৮ ডিসেম্বর তারিখে হাইকোর্ট বিভাগের দেওয়ানী বিধি নং ৬৭৭ (এফএম) এ প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশের আবেদনের সঙ্গে আপিলের অনুমতি চেয়ে একটি দেওয়ানী আবেদন দাখিল করে ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। যা গত বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সামনে শুনানি হয়। শুনানির পর হাইকোর্টের অ্যাপিলেট ডিভিশন সন্তুষ্টি সহকারে বিষয়টি নিষ্পত্তি করেন এবং কাজী রফিকের পক্ষে পাওয়া আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। এতে তিনি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের কাছে আবারও ঋণ খেলাপি হিসেবে সাব্যস্ত হলেন।
গত ৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার ও গত ১৪ জানুয়ারি বুধবার যথাক্রমে এক্সিম ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক অ্যাপিলেট ডিভিশনে কাজী রফিকের পক্ষে নেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে, শুনানি শেষে তা বাতিল করে আদালত। এতে কাজী রফিক দুটি ব্যাংকেই ঋণ খেলাপি গ্রাহক হিসেবে বিবেচিত হলেন। ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার অংশ নেওয়া আইনগত বৈধতা থাকল না।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

