বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, জনগণের কল্যাণে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নিজেকে উৎসর্গ করাই তার একমাত্র অঙ্গীকার।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের দমন-পীড়নের শিকার হয়ে আমি টানা ১৪ বছর বিনা কারণে কারাবরণ করেছি। এই দীর্ঘ সময় আমাকে অমানবিক নির্যাতন, অবিচার ও অবহেলার মধ্য দিয়ে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে দিন কাটাতে হয়েছে। তবে মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আজ সব ষড়যন্ত্র ও অবিচারের অবসান ঘটেছে। ২৪-এর জুলাই ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে ওই হাসিনার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।’
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি এসময় আরো বলেন, ‘আমার স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পদ যা ছিল তা আল্লাহর পথে দান করে দিয়েছি। জীবনে আমার আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। বাকি জীবন আপনাদের খেদমত ও জনগণের কল্যাণেই উৎসর্গ করবো।’
জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পুরো মাঠ উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলে দেশ দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, লুটপাট, দুঃশাসন ও স্বেচ্ছাচারিতার কবলে ছিল। জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক সুশাসনের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলবে, যেখানে কেউ নিপীড়নের শিকার হবে না এবং সকল নাগরিক ন্যায়বিচার পাবে।
সয়ার ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি কাজী ইলিয়াস উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের আমির এস.এম আলমগীর হোসেন, রংপুর জেলা জামায়াতে সুরা পরিষদ সদস্য আব্দুল হান্নান খান, বদরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির শাহ মোহাম্মদ রুস্তম আলী, মো. ইয়াকুব আলী ও প্রভাষক আমিনুল ইসলাম।এছাড়া স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের আরো নেতৃবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

