কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী, রাজিবপুর, চিলমারী) আসনে আপন দুই ভাইয়ের নির্বাচনি লড়াই যখন জমজমাট আকার ধারণ করেছে ঠিক সেই মুহুর্তে বিএনপি প্রার্থী আজিজুর রহমানের ছেলে ডা. মোহাম্মদ আলী জামায়াত প্রার্থী চাচা মোস্তাফিজুর রহমানের মনোনয়ন পত্রের বৈধতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করে আপিল করেন নির্বাচন কমিশনে।
এ নিয়ে কৌতুহলী ভোটারদের মাঝে তৈরি হয় নানা উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার। অবশেষে সেই উদ্বেগের সমাধান হয় শনিবার (১৭ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানির রায়ের মাধ্যমে।
চাচার বিরুদ্ধে ভাতিজার দায়ের করা আপিলটি শুনানি শেষে খারিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশনের আপিল বিভাগ। এর ফলে নির্বাচনি মাঠে জামায়াত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নিয়ে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।
গত ৯ জানুয়ারি ডা. মোহাম্মদ আলীর দায়ের করা আপিলের অভিযোগে বলা হয় জামায়াত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানের দাখিলকৃত হলফনামায় তার নামে বিএডিসি’র একটি সক্রিয় সার ও বীজ ডিলার লাইসেন্সের তথ্য গোপন করেছেন। অভিযোগকারীর দাবি, এটি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এই তথ্যের ভিত্তিতে তার মনোনয়ন বাতিল হওয়া উচিত।
এ নিয়ে শনিবার নির্বাচন কমিশনে শুনানি হয়। শুনানিতে জামায়াত প্রার্থীর আইনজীবীরা হলফনামার তথ্যের স্বচ্ছতা এবং অভিযোগের অসারতা প্রমাণে প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপন করেন।
অন্যদিকে আপিলকারীর পক্ষের আইনজীবী জামায়াত প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের পক্ষে টেকসই যুক্তি ও প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করতে না পারায় আপিল বিভাগ আবেদনটি নামঞ্জুর করেন এবং মোস্তাফিজুর রহমানের প্রার্থিতা বহাল রাখেন।
জামায়াত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানের প্রার্থিতা বহাল রাখার খবরে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের ভোটারদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। এই আপিলের কারণে কেউ কেউ বিএনপি প্রার্থীর দুর্বলতারও ইঙ্গিত দেন।
রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নের ভোটার শাব্বির মামুন বলেন, ‘জামায়াত প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করার মাধ্যমে প্রমাণ হয় প্রতিপক্ষ দুর্বল। সেই সাথে জামায়াত প্রার্থীর প্রার্থিতা ফিয়ে পাওয়ায় এলাকার ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ ও আত্মবিশ্বাস অনেক গুন বেড়ে গেছে।’
এ বিষয়ে জামায়াত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘কুড়িগ্রাম-৪ আসনে দাঁড়িপাল্লার গণজোয়ার দেখে আমার প্রতিপক্ষ আমাকে সরানোর জন্য প্রার্থিতা বালিতের মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। আলহামদুলিল্লাহ সেটি আজ নির্বাচন কমিশন খারিজ করে দিয়েছে। এ জয় শুধু আমার জয় না, এ জয় দাঁড়িপাল্লার, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সত্য ও ন্যায়ের পক্ষের মানুষের জয়।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

