আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

নীলফামারীতে দেখা দিয়েছে মড়ক

ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার শঙ্কা নিয়েই আলু চাষ শুরু চাষিদের

আমার দেশ ডেস্ক

ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার শঙ্কা নিয়েই আলু চাষ শুরু চাষিদের
নীলফামারীতে চাষের পর মড়ক রোগে ক্ষতিগ্রস্ত আলু ক্ষেত। ছবি: আমার দেশ

ভয়াবহ লোকসান আর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার শঙ্কা নিয়ে চাঁদপুরের হাইমচরে শুরু হয়েছে আলু চাষ। কেননা গত বছরের ভয়াবহ লোকসান আর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার ক্ষত এখনো শুকায়নি। এ অবস্থায় আবাদি আলু ক্ষেতে দেখা দিয়েছে মড়ক রোগ। আলুর চারা মরে যাচ্ছে। এতে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক।

হাইমচর (চাঁদপুর) প্রতিনিধি জানান, একদিকে বাম্পার ফলনের আশা, অন্যদিকে বাজারদর নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে উপজেলার আলু চাষিদের। অনেকে লোকসান সইতে না পেরে পেশা বদল করছেন। এমতাবস্থায় শীতের তীব্রতায় রোপণ করা আলুর চারা মরে যাচ্ছে । এতেও কুষকরা দিশাহারা হয়ে পড়ছেন ।

বিজ্ঞাপন

উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, আলুর ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তবে তাদের চোখেমুখে হাসির চেয়ে দুশ্চিন্তার ছাপই বেশি। পূর্বচর কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক সেলিম জমাদার প্রবাস ফেরত এ কৃষক নিজের জমি না থাকায় ৪২ শতাংশ জমি ইজারা নিয়ে আলু চাষ করেছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘প্রবাস থেকে এসে কৃষি কাজ শুরু করেছি কিন্তু কয়েক বছরে লাভের মুখ দেখিনি। গত বছর অনেক লোকসান হয়েছে। এবারও চাষ করেছি, কিন্তু দাম না পেলে আর চাষ করব না। ভাবছি আবার প্রবাসে ফিরে যাব।

একই চিত্র দক্ষিণ আলগী গ্রামে। সেখানকার চাষি সাইফউদ্দিন জানান, গত বছর আলুর দাম এতই কম ছিল যে, উৎপাদন খরচই ওঠেনি। ক্ষোভে আর দুঃখে তিনি সেই আলু তার গরুকে খাইয়েছেন। লোকসানের ভয়ে এ বছর তিনি চাষের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাকিল খন্দকার বলেন, ‘আমরা মাঠ পরিদর্শন করছি এবং বর্তমানে আলুর অবস্থা বেশ ভালো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলনের আশা করছি।

তিনি আরো জানান, বর্তমান শীতের তীব্রতায় আলুর ‘লেইট ব্লাইট’ রোগ দেখা দেওয়ার একটি ঝুঁকি থাকে। এ বিপর্যয় মোকাবিলায় কৃষি অফিস থেকে সতর্কতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।

নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, টানা তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় নীলফামারী জেলার মাঠজুড়ে আলু ক্ষেতে মড়ক রোগ ব্যাপকভাবে দেখা দিয়েছে। ফলে দিশাহারা হয়ে পড়েছে আলু চাষি কৃষক।

জেলা কৃষি অফিস জানায়, জেলায় এ বছর ২২ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে আগাম আলুই ৭ হাজার ৮৩০ হেক্টর। আগাম আলু উত্তোলন শেষে জমিতে রয়েছে মৌসুমি আলু আবাদ। যাকে লেইট কামার বলা হয়। এ আলু ক্ষেতে মড়ক রোগ আক্রমণ করছে।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, টানা ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে আলু ক্ষেতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে মড়ক রোগ। কৃষকরা জানান, আগাম আলুতে লোকসান হওয়ায় লেইট আলু চাষ ব্যাপক হয়েছে। তবে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় আলু ক্ষেতে লেইট ব্লাইট রোগ দেখা দেওয়ায় আমরা চিন্তিত হয়ে পড়েছি। মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়া, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে আলু ক্ষেতে প্রথমে বাদামি হয়ে কালচে রঙ ধারণ করছে। পরবর্তীতে তিন থেকে চার দিনের মধ্যে ঝলছে যাচ্ছে ক্ষেত।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুর রহমান জানান, আলুর লেইট ব্লাইট রোগ প্রতিরোধে আগে থেকেই কৃষকদের সতর্ক করা হয়েছে। তীব্র শীত ও কুয়াচ্ছন্ন সময় ফসল রক্ষায় কৃষকদের আগাম করণীয় ও প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে আলুর দাম কম থাকায় কৃষকরা ওষুধ প্রয়োগে অনীহা দেখাচ্ছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন