সুনামগঞ্জে টানা তিন ধরে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির সঙ্গে ঝরছে শিলাবৃষ্টি। শিলাবৃষ্টিতে হাওরে অনেক বোরো জমিতে ধানগাছের থোড় নষ্ট হয়ে গেছে। কোথায়ও থেঁতলে গিয়ে নুয়ে গেছে।
এদিকে হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধের কোথাও কোথাও ফাটল দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনের ব্যবস্থা না হলে ফসলহানীর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাওরের কৃষকেরা।
জানা গেছে, সুনামগঞ্জ সদর, মধ্যনগর, তাহিরপুর, জগন্নাথপুর, ধর্মপাশাসহ কয়েকটি উপজেলায় অস্বাভাবিক হারে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। পাথরের শিলা পড়ে থাকতে দেখা গেছে সড়কে, বাড়ির উঠোনে, ফসলি জমিতে। স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, এত শিলাবৃষ্টি গত ১০ বছরেও চোখে পড়েনি।
এ বছর সুনামগঞ্জের হাওরে বোরো মৌসুমে প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর ধান আবাদ হয়েছে। এসব জমি থেকে জেলায় প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।
খবর নিয়ে জানা গেছে, হাওরের একমাত্র বোরো ফসলের ওপর সুনামগঞ্জের কৃষকেরা নির্ভরশীল। ফসল ঘরে তুলতে হাওর রক্ষা বাঁধে প্রতি বছর শতকোটি টাকা খরচ হয়। এবার মন্ত্রণালয়ের টাকা ছাড় দেরিতে হওয়ায় বাঁধের কাজের কম্পেকশন, ঘাস লাগানো, কোথাও কোথাও জিও ব্যাগ লাগানো হয়নি। প্রচুর বৃষ্টি হলে বাঁধ ধসে ফসল তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা করছেন হাওরবাসী।
এদিকে শিলাবৃষ্টি ফসলি জমিতে পড়ে ধানগাছ থেঁতলে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কোথায় কোথায় ধানগাছের আগা ভেঙে গেছে। ধানের শীষ গজানোর আগেই শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
জোয়ালভাঙা হাওরে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ফসলরক্ষায় স্থানীয় কৃষকেরা বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশন করছেন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় ফসলডুবির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে জগন্নাথপুরের নলুয়ার হাওর, জামাইকাটা হাওর ও দিরাইয়ের কালিয়াকোটা হাওরের বাঁধসহ কয়েকটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। দিরাই পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল কাইয়ুম বলেন, কয়েকটি বাঁধে সামান্য ফাটল দেখা দিয়েছে। পিআইসি কমিটির লোকজন ফাটল রোধে কাজ করছেন। বাঁধে ফাটল নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।
সদর উপজেলার লালপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল হক বলেন, আমার তিন বিঘা জমি জলাবদ্ধতায় ডুবে গেছে। এভাবে বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি হলে ধানের আশা বাদ দিতে হবে।
দেখার হাওরের কৃষক নুর উদ্দিন বলেন, ‘আমি ১৪ কেয়ার জমিতে বোর চাষ করেছি। গত কয়েক দিনের শিলাবৃষ্টিতে ৭ কেয়ার জমি থেঁতলে গেছে। সামনে আবহাওয়া আরও খারাপ হলে ফসল ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, জেলার কয়েকটি উপজেলায় শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে বোরো ধান, ভুট্টা, শাক-সবজিসহ প্রায় ৩৭০ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদুল হক বলেন, ‘জেলার কয়েকটি উপজেলায় প্রচুর শিলাবৃষ্টি হয়েছে। বেশ কিছু বাঁধে ফাটল ধরেছে। কম্পেকশন হলে ফাটল ধরা স্বাভাবিক। ফাটল রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাঁধের কারণে ফসলহানির আশঙ্কা দেখছি না।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

