আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

হবিগঞ্জের চার আসন

সব আসনেই জয় চায় বিএনপি, চমক দেখাতে প্রস্তুত জামায়াত

কামরুল হাসান, হবিগঞ্জ

সব আসনেই জয় চায় বিএনপি, চমক দেখাতে প্রস্তুত জামায়াত

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে হবিগঞ্জের চারটি আসনে প্রতিদিনই বাড়ছে নির্বাচনি উত্তাপ। জেলার সব আসন নিজেদের দখলে নিতে মরিয়া বিএনপি। অন্যদিকে চমক দেখাতে জোর প্রচারে নেমেছে জামায়াতে ইসলামী ও খেলাফত মজলিস।

নির্বাচনের তারিখ ঘনিয়ে আসায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, এনসিপি ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরা নানা কর্মসূচির মাধ্যমে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। জোটের ভেতরের সমীকরণ, বিদ্রোহী প্রার্থী ও স্থানীয় ভোট ব্যাংক—সব মিলিয়ে হবিগঞ্জের চার আসনেই তৈরি হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক চিত্র।

বিজ্ঞাপন

হবিগঞ্জ-১ (বাহুবল-নবীগঞ্জ)

এ আসনে বিএনপির মনোনয়নের জন্য সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়াসহ অর্ধডজন নেতা জোর প্রচার চালালেও শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের টিকিট পেয়েছেন সদ্য বিএনপিতে যোগদানকারী প্রযুক্তি ও অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া। তিনি সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে। মনোনয়নের পর কিছুটা বিভাজন তৈরি হলেও বর্তমানে দলীয় নেতাকর্মীরা তার পক্ষে মাঠে সক্রিয়। তবে সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির ভোট বিভাজনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অবশ্য তার ব্যাপারে আজই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সিলেট মহানগর সেক্রেটারি শাহজাহান আলী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ আসনে প্রার্থী হিসেবে আরো আছেন ইসলামিক ফ্রন্টের বদরুর রেজা। স্থানীয় ভোটারদের মতে, বিএনপির ভোট ভাগ হলে জামায়াতের প্রার্থী লাভবান হতে পারেন।

হবিগঞ্জ-২ (আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচং)

‘ভাটি অঞ্চল’খ্যাত এই আসনে সংখ্যালঘু ভোটারদের বড় প্রভাব রয়েছে। এর আগে অধিকাংশ সময়ই আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছিল। তবে আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন ও খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় আমির মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদের মধ্যে। এলাকায় দুজনেরই বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। ‘বড় হুজুর’ নামে পরিচিত মাওলানা বাসিত আজাদ একজন জনপ্রিয় আলেম। জোটের প্রার্থী হওয়া জামায়াত ও এনসিপি এ আসনে প্রার্থী সরিয়ে নিয়েছে। ফলে জোটের অন্যদের সমর্থন নিয়ে তিনি এককভাবে ভোটের মাঠে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে ডা. জীবন চিকিৎসক ও সমাজসেবক হিসেবে এলাকায় ব্যাপক পরিচিত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর সঙ্গে আছেন। সব মিলিয়ে এই আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে সংখ্যালঘু ভোটার বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে। যে দল তাদের সমর্থন পাবে, তারাই ভোটের ফলে এগিয়ে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এ আসনে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরী।

হবিগঞ্জ-৩ (সদর-লাখাই-শায়েস্তাগঞ্জ)

জেলা সদরের এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা জি কে গউছ শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে স্বল্পসময়ে বিপুল ভোট পাওয়ার অভিজ্ঞতা তার পক্ষে কাজ করছে। তিন উপজেলার সর্বত্রই তার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় নেতাকর্মীদের। প্রতিদিন কর্মসূচি নিয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে শহর কিংবা গ্রাম—সবখানেই সক্রিয় রয়েছেন জি কে গউছ। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী জেলা সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমেদও সমানতালে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া এ আসনে আরো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গণঅধিকার পরিষদের চৌধুরী আশরাফুল বারী নোমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা কমিটির সভাপতি মুহিব উদ্দিন আহমেদ সোহেল, জেলা জাতীয় পার্টির সহসভাপতি এমএ মুমিন চৌধুরী বুলবুল, ইসলামিক ফ্রন্টের গোলাম সারওয়ার। স্থানীয় ভোটাররা অবশ্য এ আসনে তেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা দেখছেন না। তাদের মতে, বিএনপির প্রার্থী এখানে সহজেই জয়লাভ করবেন।

হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর)

চা-বাগান ও ভারত সীমান্ত ঘেঁষা চুনারুঘাট-মাধবপুর উপজেলায় বিগত নির্বাচনগুলোতে মূল ফ্যাক্টর ছিল চা-শ্রমিকদের ভোট। যে প্রার্থী চা-শ্রমিকদের মন জয় করে ভোট বাগিয়ে নিতে পারবেন, তিনিই এ আসনে জয়ের মালা পরবেন। এই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন সাবেক জেলা সভাপতি সৈয়দ মো. ফয়সল। তিনি এলাকায় দানবীর ও উন্নয়নবান্ধব নেতা হিসেবে পরিচিত।

এদিকে জামায়াতে ইসলামী দুবার প্রার্থী পরিবর্তন করেছে। প্রথমে জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুখলিছুর রহমানকেই দাঁড়িপাল্লার টিকিট দেওয়া হয়। পরে সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমানকে প্রার্থী ঘোষণা করা হলে মাত্র ২৬ দিনেই তিনি সাধারণ মানুষের মন জয় করে নিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হয়েছেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের। এছাড়া ইসলামিক ফ্রন্ট থেকে নির্বাচন করছেন আলোচিত ইসলামিক বক্তা গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরী। ভোটারদের মতে, সব দিক বিবেচনায় এই আসনে বিএনপির প্রার্থীই এগিয়ে রয়েছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন