সিলেটকে নিরাপদ নগরী গড়তে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন

সিলেট ব্যুরো

সিলেটকে নিরাপদ নগরী গড়তে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন

সিলেট নগরীতে নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য এবং ছিনতাই প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার আলাপকালে তিনি জানান, নগরের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সহযোগিতায় গত ৭ মাসে পুলিশ কমিশনার হিসেবে যোগদানের পর সিলেটের সেইফটি ইনডেক্স পর্যায়ক্রমে ৬৭তে পৌঁছে। যা আগে ছিল ৫২তে। এই সূচক প্রমাণ করে, সিলেটের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বাংলাদেশের যেকোনো জায়গা থেকে ভালো। বাংলাদেশের আটটি মহানগরের তুলনায় সিলেটের ক্রাইম ইনডেক্স সবচেয়ে কম (৩২.৭০)। এ নিয়ে সোমবার রাতে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনেও বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, সমাজের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে পুলিশের কাজের প্রকৃত সহযোগী সাংবাদিকবৃন্দ। পেশাগত নিরপেক্ষ সাংবাদিকতাকে সবসময় স্বাগত জানায় পুলিশ। সিলেট শহরকে ফুটপাত ও যানজট মুক্ত করণে আপনাদের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে অগ্রণী। প্রতিনিয়ত আপনারা এগুলোকে হাইলাইট করে নিউজ করেছেন। জনমত তৈরি হয়েছে।

কমিশনার জানান, নগরীতে ছিনতাই প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান জোরদার করেছে এসএমপি। ইতিমধ্যে ২৬৩ জন ছিনতাইকারীকে চিহ্নিত করে তালিকা তৈরি করা হয়েছে ।তালিকাভুক্তদের মধ্যে ইতিমধ্যে ৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের পর্যায়ক্রমে গ্রেপ্তার করা হবে।

এসএমপি কমিশনার আন্তর্জাতিক ক্রাউড সোর্স অনলাইন ডাটাবেজ প্লাটফর্ম NUMBEO.com এর তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটির ক্রাইম ইনডেক্স এবং সেফটি ইনডেক্স অনুযায়ী সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকা জনগণের বসবাসের জন্য অত্যন্ত ভালো পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি জানান, বিভিন্ন পরোয়ানায় জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ৩০৪৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছে৷ গড়ে প্রতি মাসে সহস্র অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গেল রমজানেই শুধু ১১২৯ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সম্প্রতি সিলেট মহানগরে আলোচিত তিনটি ঘটনার মধ্যে দুটি ছিনতাই নয় বরং ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে সংঘটিত মারামারি বলে জানিয়েছে কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী।

তিনি বলেন, তালতলা ও তেমুখী এলাকায় সংঘটিত দুটি ঘটনা যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, সেগুলো পারস্পরিক বিরোধের জেরে সংঘটিত হয়েছে। তবে কিছু গণমাধ্যমে ঘটনাগুলোকে ‘ছিনতাই’ হিসেবে প্রকাশ করায় জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, যাচাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশ করলে জনমনে অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, গণমাধ্যম তথ্য যাচাই করে পুলিশের বক্তব্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে ভালো হয়, বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়না।।

তিনি বলেন, ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। বিশেষ টিম গঠন করে অভিযান চালানো হচ্ছে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই এ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করা বাস্তবসম্মত নয়, তবে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে এনে সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব।

তিনি জানান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ। বিশেষ করে ছিনতাই, চুরি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে জোরদার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, নিরাপদ নগরী গড়ে তুলতে পুলিশ এককভাবে নয়, বরং জনগণ ও গণমাধ্যমের সহযোগিতায় কাজ করছে। সিলেট একটি পর্যটননির্ভর অঞ্চল। তাই এখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি। তিনি আইনশৃংখলা রক্ষায় সকলের সহযোগীতা কামনা করেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন