আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

বিদায় বেলায় আহসান এইচ মনসুর যা বললেন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

বিদায় বেলায় আহসান এইচ মনসুর যা বললেন

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের বিদায় সুখকর হয়নি। কর্মকর্তাদের বিক্ষোভ ও আল্টিমেটামের মধ্যে অফিস ছাড়েন তিনি। বুধবার অফিস ছাড়ার পরপরই সরকার আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগ বাতিল করে নতুন গভর্নর নিয়োগ দেয়। নতুন গভর্নর হিসেবে ব্যবসায়ী মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

কর্মকর্তাদের প্রতিবাদ সভার পর আহসান এইচ মনসুর বেলা ২টায় জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকেন। সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের বিক্ষোভকে ‘স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, উত্থাপিত বিষয়গুলো—বিশেষ করে কয়েকটি ব্যাংকের একীভূতকরণ, রাষ্ট্রীয় নীতি ও রাজনৈতিক অর্থনীতির বিষয়—কোনো কর্মচারী সংগঠনের আলোচ্য বিষয় নয়। কোনো কর্মকর্তার এসব নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার নেই। এটি তাদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। এই ব্যাংকগুলো অধিগ্রহণের প্রক্রিয়ার লক্ষ্য হলো গত দুই বছর ধরে যে ৭৬ লাখ আমানতকারী তাদের অর্থ তুলতে পারেননি, তাদের স্বার্থ রক্ষা করা।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, একটি ‘কুচক্রী মহল’ মার্জার হওয়া ব্যাংকগুলোর পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ব্যর্থ করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এসব ব্যাংক আবার আগের মালিকদের হাতে ফিরে যেতে পারে।

পদত্যাগের দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করলে আহসান এইচ মনসুর সাংবাদিকদের বলেন, ‘পদত্যাগ কোনো ইস্যু নয়। আমি এখানে চাকরি করতে আসিনি, সেবা দিতে এসেছি। প্রয়োজন হলে দুই সেকেন্ড সময় লাগবে না পদত্যাগ করতে। তবে আমরা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে হলে শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। চাকরি করব, কিন্তু প্রতিষ্ঠানের নিয়ম মানব না—এটি গ্রহণযোগ্য নয়।’

আহসান এইচ মনসুরের সংবাদ সম্মেলনের পরই গণমাধ্যমে খবর আসে, সরকার নতুন গভর্নর নিয়োগ করেছে। এরপর বেলা ২টার দিকে তিনি অফিস থেকে বের হয়ে যান। বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের বলেন, তিনি পদত্যাগ করেননি; বরং কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলে নতুন গভর্নর নিয়োগের খবর দেখে অফিস ত্যাগ করেছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন