ঈদের ছুটিতে এটিএম বুথে টাকা তুলতে ভোগান্তি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

ঈদের ছুটিতে এটিএম বুথে টাকা তুলতে ভোগান্তি

ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের সব ব্যাংক সাতদিন বন্ধ থাকবে। ফলে টাকা লেনদেনের বিকল্প মাধ্যম হিসেবে এটিএম বুথের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে গ্রাহকদের। কিন্তু ঈদের ছুটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরবচ্ছিন্ন এটিএম সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কিছু ব্যাংকের বুথে নগদ অর্থের সংকট এবং টাকা উত্তোলনের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে ভোগান্তিতে পড়ছেন গ্রাহকেরা।

রোববার ও আজ সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে। এছাড়া কয়েকজন গ্রাহক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে ভোগান্তির কথা জানিয়ে পোস্ট করেছেন।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর মৌচাক, মালিবাগ, মগবাজার ও কারওয়ান বাজার এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, দুর্বল ও সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর অনেক এটিএম বুথে টাকা না থাকায় সেবা অচল রয়েছে। তবে গ্রাহকদের অভিযোগ, ভালো অবস্থানে থাকা কিছু ব্যাংকও নগদ টাকা উত্তোলনের ওপর সীমা আরোপ করেছে। আবার যেসব ব্যাংকের বুথ চালু রয়েছে, সেগুলোর কোনো কোনোটি থেকে অন্য ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে টাকা তোলার সুযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, যেসব বুথে অন্য ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করা যাচ্ছে, সেখানেও টাকা উত্তোলনে সীমা আরোপ করা হয়েছে। ফলে ছুটির এই সময়ে বুথ থেকে টাকা তুলতে গিয়ে গ্রাহকদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইফুল ইসলাম মালেক নামের একজন লিখেছেন, ঈদের আগে এটিএম বুথে টাকা নেই—এটা শুধু অব্যবস্থাপনা নয়, এটি সরাসরি গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা। মানুষ নিজের কষ্টের টাকা তুলতে গিয়ে বারবার বুথে ঘুরছে, লাইনে দাঁড়িয়ে অপমানিত হচ্ছে, আর ব্যাংকগুলো নির্লজ্জের মতো চুপ করে আছে। কোরবানির মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়েও যদি মানুষ নিজের টাকা তুলতে না পারে, তাহলে এসব ব্যাংকের সেবা আসলে কার জন্য?

রফিকুল ইসলাম নামের আরেকজন লিখেছেন, মিরপুরের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের তিনটি বুথ ঘুরেও টাকা তুলতে পারলাম না। এটিএম বুথে টাকা নেই।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ করেছে। কোনো ব্যাংকই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা না পেয়ে ফিরে যায়নি। এখন কোনো ব্যাংক যদি নিজস্ব গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী নগদ অর্থ সরবরাহে ব্যর্থ হয়, সেটি তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনার বিষয়।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও ঈদের ছুটিতে এটিএম বুথ, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং বিভিন্ন অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যাংক যদি এ বিষয়ে অবহেলা করে বা গ্রাহকসেবায় ব্যাঘাত ঘটায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে গ্রাহকদের ভোগান্তি এড়াতে ঈদ উপলক্ষে আগেই বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে তফসিলি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো এক সার্কুলারে বলা হয়, ঈদের ছুটির সময় এটিএম বুথে সার্বক্ষণিক পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধরনের কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত তা সমাধান করতে হবে। পাশাপাশি বুথগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এছাড়া পিওএস, ই-পেমেন্ট গেটওয়ে এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) সেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখা, গ্রাহকদের জন্য হেল্পলাইন সচল রাখা এবং এসএমএস সতর্কবার্তা নিশ্চিত করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

উল্লেখ, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলো টানা সাত দিন বন্ধ থাকবে।

এএস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন