বিএসইসির সম্মতি

শেয়ারবাজারে চালু হচ্ছে স্ক্রিপ্ট নেটিং

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

শেয়ারবাজারে চালু হচ্ছে স্ক্রিপ্ট নেটিং

দেশের শেয়ারবাজারে চালু হচ্ছে স্ক্রিপ্ট নেটিং বা ইন্ট্রাডে ট্রেডিং। এটি চালু হলে সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগকারীরা একই দিনে নির্দিষ্ট কোম্পানির শেয়ার কেনা-বেচার ক্ষেত্রে নেটিং করতে পারবেন। এরফলে দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেন ব্যবস্থা অধিকতর গতিশীল, দক্ষ ও আধুনিক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্ক্রিপ্ট নেটিং চালুর বিষয়টি আজ মঙ্গলবার বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় অনুমোদন করা হয়। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নেটিং চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নিশ্চিত সাপেক্ষে দেশের স্টক এক্সচেঞ্জদ্বয়কে (ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ) সম্মতি প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি বিএসইসির চেয়ারম্যান ক্যাপিট্যাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত এক সংলাপে স্ক্রিপ্ট নেটিং বা ডে-নেটিং চালুর বিষয়টি জানান। বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেছিলেন, সম্প্রতি ব্রোকারেজ হাউস মালিকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে ডে-নেটিং সুবিধা চালুর প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সব শেয়ারে এ ধরনের সুবিধা চালুর বাস্তবতা নেই। তাই আমরা আপাতত ভালো মানের কোম্পানির ক্ষেত্রে এই সুবিধা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছি। শুরুতে সেটি হতে পারে ভালো মানের ৩০ কোম্পানির ক্ষেত্রে।

প্রসঙ্গত, ইন্ট্রাডে ট্রেডিং বা স্ক্রিপ্ট নেটিং চালু হলে একই দিনে শেয়ার কেনা-বেচা করা যাবে কিন্তু আলাদাভাবে সেটেলমেন্টের প্রয়োজন হবে না। দিনশেষে শুধুমাত্র নিট শেয়ার সেটেলমেন্ট করতে হবে। স্ক্রিপ্ট নেটিং মূলত ব্রোকারেজ হাউজ বা সেটেলমেন্টের ক্ষেত্রে একটি প্রক্রিয়া।

উদাহরণ হিসাবে ধরুন, আপনি আজ 'X' কোম্পানির ১০০টি শেয়ার কিনলেন, আবার দুপুরে ৫০টি বিক্রি করলেন, এবং বিকেলে আরও ২০টি কিনলেন। দিনশেষে আপনার মোট লেনদেনের হিসাব করা হবে: (১০০ - ৫০ + ২০) = ৭০টি শেয়ার। এই ৭০টি শেয়ারের বিপরীতেই আপনার অর্থ পরিশোধ বা শেয়ার ডেলিভারি হবে।

স্ক্রিপ্ট নেটিং চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, স্ক্রিপ্ট নেটিং সারাবিশ্বের শেয়ারবাজারে একটি স্বীকৃত প্রথা। কিন্তু আমাদের দেশে এটি চালু হয়নি। এটি চালু না হওয়ার কারণ হিসাবে তিনি বলেন, আমাদের দেশের বিনিয়োগকারীদের ম্যাচুয়িরিটি (পরিপক্কতা কম), ভালো মানের সিকিউরিটিজের সংখ্যাও কম। এ ধরনের সুবিধা চালু করা হলে অপব্যবহারে ভয় ও ভীতির কারণে তা হয়নি। এখন চালু হলেও সব স্ক্রিপ্টের জন্য এটা চালু করা ঠিক হবে না জানিয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, পাইলটিং হিসাবে ডিএস-৩০ সূচকের কোম্পানি দিয়ে এটা শুরু করা যেতে পারে। এরপর যদি সফলভাবে এটি সম্ভব হয় তাহলে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সিকিউরিটিজের জন্য এটি করা যেতে পারে।

স্ক্রিপ্ট নেটিং চালুর বিষয়ে ডিএসই কতটুকু প্রস্তুত রয়েছে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিএসই প্রস্তুত বলেই আমি মনে করছি। তবে এটি চালু করতে সফটওয়্যারে কিছু আপগ্রেডেশনের প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমান শেয়ার সেটেলমেন্ট ব্যবস্থাপনায় নির্দিষ্ট স্ক্রিপ্টের জন্য নেটিং সম্ভব হলেও সব তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য এ ব্যবস্থা সেন্ট্রাল কাউন্টার পার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল) ছাড়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে সিসিবিএল যাত্রা শুরু করে । কিন্তু ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...