রাজধানীর হাতিরঝিল থানাধীন পশ্চিম রামপুরার মোল্লা টাওয়ারের সামনে অভিযান চালিয়ে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী স্লিপার বাস থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ সোয়াইব সরকার (৫১) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ডিএনসির উত্তরা সার্কেলের পরিদর্শক দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করে। আটক সোয়াইব সরকার মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থানার টেংগারচর এলাকার আবু ইউসুফের ছেলে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা মেট্রো সার্কেল (উত্তর) এর উপ-পরিচালক শামীম আহমেদ জানান, আব্দুল্লাহপুরগামী ডোয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনের একটি স্লিপার কোচ (রেজি: ঢাকা মেট্রো-ব-১২-১৯৮৮) মোল্লা টাওয়ারের সামনে যাত্রী ওঠানামার জন্য থামলে সাদা পোশাকে থাকা ডিএনসির একটি দল বাসটিতে তল্লাশি শুরু করে। এ সময় সোয়াইব সরকারের হাতে থাকা একটি কালো স্কুল ব্যাগ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
ডিএনসি সূত্র জানায়, ব্যাগটি তল্লাশি করে কালো টেপ ও কালো পলিথিনে মোড়ানো পাঁচটি পোটলা উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি পোটলা খুলে দেখা যায়, ভেতরে নীল রঙের জিপারযুক্ত পলিপ্যাকেটে করে কমলা রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট রাখা হয়েছে। প্রতি পোটলায় ১০টি করে প্যাকেট এবং প্রতিটি প্যাকেটে ২০০ পিস করে ইয়াবা ছিল। সর্বমোট পাঁচ পোটলায় ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়।
দীর্ঘদিনের মাদক সরবরাহকারী: প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোয়াইব সরকার পুলিশকে জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ যাত্রীবেশে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবার বড় চালান ঢাকায় নিয়ে আসতেন। এসব ইয়াবা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় খুচরা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করাই ছিল তার মূল কাজ। এই চালানটি তার দীর্ঘদিনের মাদকব্যবসারই অংশ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ডিএনসি।
আটক সোয়াইব সরকারের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ মোতাবেক হাতিরঝিল থানায় মামলা দায়ের করেছেন বাদী হওয়া পরিদর্শক দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের উপপরিচালক শামীম আহম্মেদ জানান, রাজধানীতে মাদকের চোরাচালান রোধে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মোল্লা টাওয়ারের আশপাশ এলাকায় প্রায়ই সন্দেহজনক তৎপরতা দেখা যায়। এ ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকলে মাদকের পাচার কমবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
র্যাব ও পুলিশের পাশাপাশি ডিএনসি'র এই সফল অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা জানান, ইয়াবাসহ আরও বড় চোরাচালান চক্রের সন্ধান পাওয়া গেলে পরবর্তীতে আরও গ্রেফতারের সম্ভাবনা রয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

