স্মার্ট পুলিশিংয়ের পথে ডিএমপি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ ৯ ডিজিটাল সেবার যাত্রা

স্টাফ রিপোর্টার

স্মার্ট পুলিশিংয়ের পথে ডিএমপি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ ৯ ডিজিটাল সেবার যাত্রা

অপরাধ দমনে সনাতন পদ্ধতির বদলে এখন থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় অপরাধীরা যখন নিত্যনতুন কৌশল নিচ্ছে, তখন পুলিশকেও সেই তাল মেলাতে আরও আধুনিক ও স্মার্ট হতে হবে—এমন প্রত্যয় নিয়ে ডিএমপির ৯টি নতুন অ্যাপ ও সফটওয়্যারের উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীতে ডিএমপি সদর দপ্তরে এক জমকালো অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব ডিজিটাল সেবার উদ্বোধন করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে আইজিপি বলেন, আমরা এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে। প্রযুক্তি যেমন উন্নয়নের চাকা সচল রাখছে, তেমনি এটি অপরাধের ধরনেও আনছে আমূল পরিবর্তন। অপরাধীদের মোকাবিলায় পুলিশ বাহিনীকে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারে দক্ষ হতে হবে।" তিনি আরও জানান, আজ যেসব সফটওয়্যার চালু হলো, তা আধুনিক ও জনবান্ধব পুলিশিং ব্যবস্থাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে।

সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় আসবে ‘এআই’

সবচেয়ে আলোচিত 'এআই-বেজড রোড ট্রান্সপোর্ট অ্যাক্ট ভায়োলেশন ডিটেকশন সিস্টেম' প্রসঙ্গে জানানো হয়, বর্তমানে ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের ধরতে গিয়ে সার্জেন্টদের যে সময় ও শ্রম ব্যয় হয়, তা এখন কমে আসবে। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের সহায়তায় শহরের ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অত্যাধুনিক ক্যামেরা বসানো হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এই সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইন অমান্যকারী যানবাহন শনাক্ত করবে, যা সড়কে দুর্ঘটনা হ্রাস ও শৃঙ্খলা ফেরাতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।

হোটেল ও নাগরিক নিরাপত্তায় নতুন মাত্রা

নগরের নিরাপত্তা জোরদারে চালু হয়েছে 'হোটেল বোর্ডার ইনফরমেশন সিস্টেম'। আগে খাতা-কলমে হোটেলের অতিথিদের তথ্য রাখা হতো বলে অনেক ক্ষেত্রে ফাঁক থেকে যেত। এখন থেকে ঢাকার প্রতিটি আবাসিক হোটেলে অবস্থানরত দেশি-বিদেশি অতিথিদের তথ্য রিয়েল-টাইমে এই সার্ভারে জমা হবে। এতে সন্দেহভাজন অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা সহজ হবে।

সাধারণ মানুষের সরাসরি সহযোগিতা পেতে ডিএমপি নিয়ে এসেছে ‘হ্যালো ডিএমপি’ অ্যাপ। এর মাধ্যমে নাগরিকরা ঘরে বসেই সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন। ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্স থেকে এসব অভিযোগ নিয়মিত মনিটর করা হবে এবং সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে কি না, তাও যাচাই করা হবে।

একনজরে নতুন ৯টি ডিজিটাল সেবা

রোড ট্রান্সপোর্ট ভায়োলেশন ডিটেকশন: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে ট্রাফিক অপরাধ শনাক্তকরণ। হোটেল বোর্ডার ইনফরমেশন সিস্টেম: অতিথিদের তথ্য অনলাইন ব্যবস্থাপনায় আনা। হ্যালো ডিএমপি অ্যাপ: পুলিশের সাথে জনগণের সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যম। অনলাইন ট্রেনিং সিস্টেম: সদস্যদের পেশাদারিত্ব বাড়াতে ডিজিটাল প্রশিক্ষণ। লিভ ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার: পুলিশ সদস্যদের ছুটির প্রক্রিয়া সহজীকরণ। রেসিডেন্স অ্যালোকেশন সিস্টেম: স্বচ্ছতার সাথে আবাসন বণ্টন। ট্রাফিক ডিউটি ডিস্ট্রিবিউশন: সদস্যদের ডিউটি বণ্টন প্রক্রিয়ায় আধুনিকায়ন। এমপ্লয়ি পারফরম্যান্স ইভ্যালুয়েশন: কাজের মান যাচাই ও মূল্যায়ন। ট্রাফিক নিউজ আর্কাইভ: ট্রাফিক সংক্রান্ত সকল তথ্যের ভাণ্ডার।

অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ারসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এসব উদ্যোগের ফলে পুলিশের প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আসবে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুততর সময়ে পুলিশি সেবা পাবেন। এর মাধ্যমে ঢাকা মহানগরীর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন