১১৬ জুয়ার সাইট বন্ধে বিটিআরসিতে তালিকা দিলো সিআইডি

স্টাফ রিপোর্টার

১১৬ জুয়ার সাইট বন্ধে বিটিআরসিতে তালিকা দিলো সিআইডি

অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ১১৬টি ওয়েবসাইট শনাক্ত করে সেগুলো বন্ধের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) তালিকা পাঠিয়েছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডি জানিয়েছে, সিআইডি অনলাইন জুয়া ও সংশ্লিষ্ট অবৈধ আর্থিক কার্যক্রম প্রতিরোধে সিআইডির এ ধরনের সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

রোববার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ।

তিনি জানান, সিআইডির সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইউনিট অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে নিয়মিত সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। চলতি মাসের ১ মে থেকে আজ পর্যন্ত পরিচালিত সাইবার পেট্রোলিংয়ে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১১৬টি ওয়েবসাইট শনাক্ত করা হয়েছে। এসব ওয়েবসাইট বন্ধের জন্য বিটিআরসিতে তথ্য পাঠানো হয়েছে। অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৮৭৯টি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব এবং ৪৩টি ব্যাংক হিসাব শনাক্ত করে সেগুলোর তথ্য বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)–এ পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, অনলাইন জুয়ার অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদ্‌ঘাটন, জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইট নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে সংগ্রহ করে বিদেশে পাচারের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতাসহ মোট ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্‌ম পরিচালনা করে আসছিল। এসব সাইটে জুয়াড়িরা মোবাইল ব্যাংকিং সেবা- বিকাশ, রকেট ও নগদ, বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ক্রিপ্টো ওয়ালেট ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন করতো। পরবর্তীতে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে যে সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ার প্রতি প্রলোভিত করে তারা গত প্রায় ৬ মাস ধরে প্রতিদিন আনুমানিক ১ কোটি ৮০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা অবৈধভাবে লেনদেন করতো এবং এর একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করে আসছিল। ধারাবাহিক দুইটি সফল অভিযানে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল ডিভাইস ও গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করেছে। জব্দকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে মোট ১৩টি মোবাইল ফোন, যার মধ্যে প্রথম অভিযানে ৭টি এবং দ্বিতীয় অভিযানে ৬টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মোট ২০টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম অভিযানে ২টি এজাহারভুক্ত বিকাশ এজেন্ট সিম এবং দ্বিতীয় অভিযানে ১৮টি বিভিন্ন অপারেটরের সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়। অভিযান চলাকালে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের ২টি নির্দিষ্ট কাস্টমার কপিসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভুয়া এজেন্ট সিম পাঠানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কুরিয়ার রশিদও জব্দ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা অনলাইন গ্যাম্বলিং ও ডিজিটাল হুন্ডি কার্যক্রমের সঙ্গে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। পাশাপাশি চক্রের একাধিক সদস্য স্বীকার করেছে যে, বিগত ৬ মাসেরও অধিক সময় ধরে সংঘবদ্ধ এই চক্রটি অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রলোভিত করে প্রতিদিন আনুমানিক ১ কোটি ৮০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা অবৈধভাবে সংগ্রহ করতো। পরবর্তীতে ওই অর্থের একটি বড় অংশ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করতো।

তিনি আরও জানান, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সিআইডি বিএফআইইউ ও আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রটির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টো ওয়ালেট শনাক্তের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

অনলাইন জুয়ার সঙ্গে বাংলাদেশি কোন নাগরিক বিদেশ থেকে পরিচালিত করছে কি-না সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন আছে। সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এএস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন