ধোঁয়া দেখতে গিয়ে বিস্ফোরণে প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর

স্টাফ রিপোর্টার

ধোঁয়া দেখতে গিয়ে বিস্ফোরণে প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর পুরান ঢাকার বংশালে মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশের গোডাউনে ধোঁয়া দেখতে নেমেছিলেন মালিক নিজেই। কী কারণে ধোঁয়া উঠছে, তা বুঝে ওঠার আগেই বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো ভবন। নিচতলার দেয়াল ধসে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন (৩৫)। পরে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় তার চাচাতো ভাই নাজমুল (৩৩) গুরুতর আহত ও দগ্ধ হয়েছেন। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) ভোরে এ ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর বংশালের মুকিম বাজার এলাকায় মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশের একটি গোডাউনে।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া হামিদুল জানান, মুকিম বাজারের একটি তিনতলা ভবনের নিচতলায় 'বাইক পার্টস সেন্টার' নামে একটি প্রতিষ্ঠানের গোডাউন ছিল। ভবনের তৃতীয় তলায় বসবাস করতেন ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা। ভোরে গোডাউন থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে দেলোয়ার ও তার চাচাতো ভাই নাজমুল নিচে নেমে পরিস্থিতি দেখতে যান। তিনি বলেন, তারা গোডাউনে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় নিচতলার দেয়ালের বড় অংশ ভেঙে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দেলোয়ার দেয়ালচাপা পড়ে গুরুতর আহত হন। নাজমুলও আগুনে দগ্ধ ও আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য এবং আশপাশের লোকজন দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে চিকিৎসক দেলোয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন।

হামিদুল আরও জানান, তিনি পাশের একটি গলিতে থাকেন এবং একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। আকাশে ধোঁয়া দেখে ছুটে এসে দেখেন তাদের মালিকের গোডাউনে আগুন জ্বলছে। তার ধারণা, গোডাউনের ভেতরে থাকা গ্যাসলাইনের কোনো অংশ দিয়ে গ্যাস লিকেজ হওয়ার পর বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তবে বিষয়টি তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

নিহত দেলোয়ার হোসেনের গ্রামের বাড়ি যশোরের বেনাপোল এলাকায়। তিনি মুকিম বাজার জামে মসজিদের পাশের 'বাইক পার্টস সেন্টার'-এর মালিক ছিলেন এবং নিজেই মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ আমদানি করতেন। বংশালের এই বাজার দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর অন্যতম বড় মোটরসাইকেল যন্ত্রাংশের পাইকারি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, দেলোয়ার হোসেনের লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিস্ফোরণের উৎস, গ্যাসলাইন কিংবা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত মন্তব্য করতে রাজি হননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন