রাজধানীর খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকায় সড়ক দখলের প্রতিবেদন প্রকাশ করাকে কেন্দ্র করে এক সিনিয়র সাংবাদিককে মব সৃষ্টি করে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটির আহ্বায়ক ও সিনিয়র সাংবাদিক জাহিদ ইকবালকে দলবদ্ধভাবে ঘিরে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলামের ছেলে মো. সবুজের বিরুদ্ধে।
শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় নিকুঞ্জের জামতলার জাহিদ ইকবাল চত্বর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে খিলক্ষেত থানার পুলিশ পরিদর্শক এসআই উজ্জ্বলের নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রায় ৩০ জনের একটি দলবদ্ধ গ্যাং সাংবাদিক জাহিদ ইকবালকে ঘিরে ধরে হেনস্থা করে। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত তার কয়েকজন বন্ধুকেও ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে পড়তে হয়।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক জাহিদ ইকবাল জানান, নিকুঞ্জের জামতলা সড়কটি তুলনামূলক সরু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে আগে থেকেই সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যেই সড়কের একটি অংশ দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হলে পথটি আরও সংকুচিত হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে তার ওপর মব সৃষ্টি করে হেনস্থা করে।
প্রত্যক্ষদর্শী মতিউর রহমান স্বপন বলেন, উশৃঙ্খল কিছু যুবক সড়ক দখলের বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদ মুছে ফেলার জন্য সাংবাদিককে হুমকি দেয়। তারা সংবাদটি ডিলিট না করলে পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে আল্টিমেটাম দেয়।
খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আলিম বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সবুজের সঙ্গে ওই মবের ঘটনায় আরও কয়েকজন অংশ নেয়। তাদের মধ্যে বাবুল মিয়ার ছেলে রিফাত, রাশেদ, আব্দুর রহিমের ছেলে রনি এবং লইরা শরিফের ছেলে সাজ্জাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সড়ক দখল, জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং সত্য প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

