গুম-খুনের মামলার জিয়াউলের বিরুদ্ধে নিহতের স্ত্রীর জবানবন্দি

বিডিআর হত্যাকাণ্ড স্বচক্ষে দেখায় আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার

বিডিআর হত্যাকাণ্ড স্বচক্ষে দেখায় আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে

আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে শতাধিক মানুষকে গুম ও হত্যার ঘটনায় বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী মুন্নী আক্তার।

বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ২০১০ সালের ১৫ মার্চ কোটালীপাড়া বামতার মোড় এলাকা থেকে সাদা পোশাকে ৫/৬ জন লোক আমার স্বামীকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। আর কখনো থাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে একদিন ঝালকাঠি থেকে ডিএসবির লোক এসে আমার শ্বশুরকে জানায়, আমার স্বামী নজরুল ইসলামের লাশ বাঘেরহাটের শরণখোলা বলেশ্বর নদী থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে। পরবর্তীতে জানতে পারি, র‍্যাবের গোয়েন্দা প্রধান জিয়াউল আহসান আমার স্বামীকে গুম করে হত্যা করেছে। পরে ট্রাইব্যুনালের প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ড স্বচক্ষে দেখার কারণে আমার স্বামীকে গুম করে হত্যা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জবানবন্দিতে মুন্নী আক্তার বলেন, বর্তমানে আমি বাসায় বাসায় প্রাইভেট পড়াই। আমার স্বামী নজরুল ইসলাম বিডিআর হেডকোয়ার্টার পিলখানায় মেডিকেল এ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করতেন। ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহের সময় হত্যাকাণ্ড দেখে ভয়ে সে ওয়াল টপকে বেরিয়ে যায়। সেখান থেকে কেরানীগঞ্জে তার এক আত্মীয়ের বাসায় যায়। পরে ফোনে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। তখন আমরা পিলখানা ১ নং গেটের সামনে একটা বাসায় থাকতাম। সেখান থেকে আমি পোস্তগলায় আমার আত্মীয়ের বাসায় চলে যাই। পরে কেরানীগঞ্জে স্বামীর কাছে যাই। ২০১০ সালে আমার স্বামী গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় মধুমতি ক্লিনিকে চাকুরী নেয়। সেখানে বাসা ভাড়া নিয়ে আমরা একসঙ্গে থাকি।

পরে আমি জানতে পারি আমার স্বামী তার আসল নাম গোপন করে নুরুল আমীন মুন্সী নাম ধারণ করে মধুমতি ক্লিনিকে চাকুরী করছে। ২০১০ সালের ১৫ মার্চ ডিউটিতে গিয়ে আর বাসায় ফেরত আসেনি।

জবানবন্দিতে নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী আরো বলেন, বিষয়টি আমি তার ছোট ভাই মোহাইমিনুল ইসলামকে জানাই। ওই দিন রাতে আমার স্বামী বাসায় না ফেরায় পরদিন সকাল বেলা আমি আমার মেয়েকে নিয়ে মধুমতি ক্লিনিকে যাই। জনৈক রুহুল আমীন শেখ আমার স্বামীর সঙ্গে কাজ করতো। আমি জানতে পারি সে হাসপাতালে ভর্তি আছে। আমি হাসপাতালে গিয়ে তাকে আমার স্বামীর কথা জিজ্ঞাসা করি। সে জানায় ১৫ মার্চ কোটালীপাড়া বামতার মোড় এলাকা থেকে সাদা পোশাকে ৫/৬ জন লোক আমার স্বামীকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। তাকে মারধর করে সেখানে ফেলে রেখে যায়। পরে ১৭ মার্চ কোটালীপাড়া থানায় আমার স্বামীর অপহরণের বিষয়ে একটি মামলা করি। তারপর আমি আমার শ্বশুর বাড়ীতে চলে যাই।

জবানবন্দিতে মুন্নী বলেন, পরবর্তীতে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন আমাদের বাড়িতে আসতো। পরে একদিন ঝালকাঠি থেকে ডিএসবির লোক এসে আমার শ্বশুরকে জানায়, আমার স্বামী নজরুল ইসলামের লাশ বাঘেরহাটের শরণখোলা বলেশ্বর নদী থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে। আমার দেবর জাহিদুল ইসলাম শাহীন বিডিআরে চাকরি করতো। সে পত্রিকায় আমার স্বামীর লাশের ছবি দেখতে পেলে তা শনাক্ত করে। আমি আত্মীয়-স্বজনসহ শরণখোলা থানায় গিয়ে আমার স্বামীর পরিধেয় পোশাক শনাক্ত করি।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের কাছে লাশ ফেরত চাইলে তারা জানায় আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে আমার স্বামীর লাশ দাফন করা হয়েছে। এরপর জেলা প্রশাসকের সহায়তায় ডিএনএ পরীক্ষার পর আমার স্বামীর লাশ কবর থেকে তুলে বাড়িতে এনে পুনরায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করি। আমি আমার স্বামীর গুম ও হত্যার বিচার চাই।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন