আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলি

নিজেকে বাঁচাতে আমার নাম জড়িয়ে দেন এসআই তরিকুল

স্টাফ রিপোর্টার

নিজেকে বাঁচাতে আমার নাম জড়িয়ে দেন এসআই তরিকুল

জুলাই বিপ্লবের সময় রাজধানীর রামপুরায় নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলি ও দুজনকে হত্যার মামলায় নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকার। জবাবন্দিতে তিনি বলেন, রামপুরা থানার তৎকালীন এসআই তরিকুল নিজেকে বাঁচাতে গুলিবর্ষণকারী হিসেবে জিডিতে আমার নাম জড়িয়ে দেন। আমি কোন গুলি করিনি।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারপতি শফিউল আলম ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর বিচারিক প্যানেলে সাফাই সাক্ষী হিসেবে জবানন্দিতে চঞ্চল চন্দ্র একথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, আমার নাম চঞ্চল চন্দ্র সরকার, এ এস আই (সাসপেন্ডেড)। আমি ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত রামপুরা থানার পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলাম। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিটিভি ভবনের ৩নং গেটে এসআই কামারুজ্জামান এবং এসআই কামরুল হাসানের সঙ্গে আমার ডিউটি ছিল। ওই দিন সকালে থানা থেকে সিসি নিয়ে তারা বিটিভি ভবনের ৩নং গেটে চলে যায়। আমি সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার দিকে ডিউটিতে পৌঁছাই।

জবানবন্দিতে চঞ্চল বলেন, ওইদিন আমার নামে কোন আগ্নেয়াস্ত্র ইস্যু ছিল না। সেদিন বিটিভি ভবনের ভিতরে পুলিশ ছাড়াও সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাব সদস্যরা দায়িত্বে ছিল। দুপুরের দিকে একজন লোক আমাকে বলল আপনাদের ফাঁড়িতে আক্রমণ হয়েছে এবং ফাঁড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তখন বাইরের পরিস্থিতি ভালো ছিল না। বিকেল তিনটার দিকে বিটিভি ভবন থেকে বের হয়ে সন্ধ্যার পর রামপুরা থানায় প্রবেশ করি।

জবানবন্দিতে চঞ্চল চন্দ্র বলেন, ঘটনার সময় আমার বিরুদ্ধে (গুলির করার) অভিযোগ আনা হয়েছে হয়েছে তখন আমি বিটিভিতে ৩নং গেটে ডিউটিরত ছিলাম। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোন পুলিশের নামে কত রাউন্ডগুলি ইস্যু করা হয়েছে, কোন পুলিশ কত রাউন্ড গুলি খরচ করেছে এ বিষয়ে থানায় একটি জিডি ইস্যু করেছিলেন। সেখানে আমার নাম নেই। ওইদিন আমি কোন গুলি খরচ করিনি।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট এসআই তরিকুল গুলির ইস্যু ও খরচ নিয়ে রামপুরা থানায় আরো একটি জিডি করে। সেখানে আমার নাম উদ্দেশ্যমূলকভাবে উল্লেখ করা হয়। যদিও ওসির জিডিতে আমার নাম ছিল না। কিন্তু ওসি জিডিতে এসআই তরি গুলি করার কথা উল্লেখ করা আছে। সাক্ষী এসআই কিবরিয়াও ওইদিন গুলি করেছিল বলে ওসির ডিউটিতে উল্লেখ আছে। আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ, এ আমার জবানবন্দি।

এ মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ এ মামলায় ৫ জন আসামি। তারা হলেন- ডিএমপির খিলগাঁও জোনের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান, রামপুরা থানার সাবেক উপ-পরিদর্শক (এসআই) তরিকুল ইসলাম ভূইয়া এবং রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। এর মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন চঞ্চল চন্দ্র সরকার। তার পক্ষে আইনজীবী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন- সারওয়ার জাহান নিপ্পন ও আইনজীবী এরশাদুল হক বাবু। এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে মোট ১৪ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। আগামী ২৫ জানুয়ারি এ মামলার যুক্তিকর্ত শুরু হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন