র্যাব সদস্য দ্বারা নির্যাতন, হয়রানি ও মানহানির অভিযোগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের সাবেক লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং ডিরেক্টর খন্দকার আল মঈনসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে ৭০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আদালতে মামলার আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী এক নারী চিকিৎসক।
রোববার ঢাকার ২য় যুগ্ম জেলা জজ মো. আবু ইউসুফের আদালতে মামলা আবেদন করেন চিকিৎসক ইশরাত রফিক ওরফে ডা. ঈশিতা।
এতে বিবাদী করা হয়, র্যাব হেডকোয়ার্টারে আইটি স্পেশালিষ্ট রাকিব, র্যাব হেডকোয়ার্টারে স্কোয়াড্রন লিডার আলী আশরাফ, র্যাব হেডকোয়ার্টারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজিব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আক্তারুজ্জামান, পুলিশ পরিদর্শক খোন্দকার মো. আমির আলি, উপপরিদর্শক মঈনুল হোসেন, উপপরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমান, উপপরিদর্শক মাসুদ রানা, সহকারী উপ পরিদর্শক মাহবুব রহমান, কনস্টেবল অপূর্ব চন্দ্র সূত্রাধর, কনস্টেবল মতিউর রহমান, কনস্টেবল মো. মশিউর রহমান, আনসার মোসা. সাজেদা বেগম, আনসার
মোছা. সালমা আক্তার, নাসির উদ্দিন, সাজ্জাদ হোসেন, বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার মমিনুল ইসলাম, স্কোয়াড্রন লিডার শহীদ।
বাদী পক্ষের আইনজীবী শেখ কানিজ ফাতেমা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিবাদী করে এবং র্যাব সদস্যসহ ২০ জনের নামে ৭০ কোটি ৫০ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ চেয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের সেরেস্তায় মামলার আবেদন করা হয়েছে। আগামী জানুয়ারি মাসের এই মামলার গ্রহণযোগ্যতা সংক্রান্ত শুনানির তারিখ ধার্য করেন।
মামলার আবেদনে অভিযোগ করা হয়, ২০২১ সালের ২৮ জুলাই র্যাব সদস্যরা চিকিৎসক ঈষিতাকে তার নিজ বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর র্যাবের হেডকোয়ার্টারে ভিকটিমকে পাঁচ দিন ধরে আটকিয়ে রেখে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। ওই বছরের পহেলা আগস্ট র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে ভিকটিমকে উপস্থিত করে মাদক ও জাল সার্টিফিকসহ পৃথক তিনটি মামলা দিয়ে তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়। পৃথক তিন মামলায় ভিকটিমকে আটক রেখে একাধিকবার রিমান্ডেও নেওয়া হয়। দীর্ঘ ১৪ মাস কারাভোগ শেষে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
আরও বলা হয়, চিকিৎসক ঈষিতার বিরুদ্ধে করা পৃথক তিন মামলায় সংবিধান বহির্ভূত আইন পরিপন্থী বলে উচ্চ আদালত নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ঘটনার সত্যতা বের করার নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত। পরবর্তীতে এই মামলাগুলোর কারণে তার ক্যারিয়ার, জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। গত ৫ বছর ধরে ভিকটিম আর্থিক, সামাজিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে চিকিৎসক ঈষিতা বলেন, এই সব মামলার কারণ আমার জীবনের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। আমার ক্যারিয়ারও ধ্বংস হয়ে গেছে। আমি আদালতের কাছে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করছি।

