প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসিতে বিজ্ঞাপন প্রচারের নামে প্রায় ৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান এইচ. বি. এম ইকবালসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৩ টার দিকে রাজধানীর সেগুন বাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এ তথ্য জানান।
দুদক জানায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ২০২০ সালে পাঁচটি কার্যাদেশের বিপরীতে বিজ্ঞাপন প্রচারের নামে এই অর্থ আত্মসাৎ করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান, একাধিক পরিচালক, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং একটি বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠান মাইন্ডট্রি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রয়েছেন।
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে, ২০২০ সালে দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য মাইন্ডট্রি লিমিটেডকে মোট ৯ কোটি ২৫ লাখ টাকার পাঁচটি কার্যাদেশ প্রদান করে।
চুক্তি অনুযায়ী প্রতিটি চ্যানেলে নির্দিষ্ট সময় বিজ্ঞাপন প্রচারের কথা থাকলেও বাস্তবে চুক্তির অর্ধেক সময়েরও কম বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়। রেকর্ডপত্র ও সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেলের ট্রান্সমিশন সার্টিফিকেট পর্যালোচনায় দেখা যায়, যেখানে মোট ২,৪০০ মিনিট বিজ্ঞাপন প্রচারের চুক্তি করা হয়েছিল, সেখানে প্রকৃতপক্ষে মাত্র ১,২০০ মিনিট বিজ্ঞাপন প্রচারিত হয়। অথচ পূর্ণ অর্থের বিল দাখিল ও অনুমোদন নেওয়া হয়। দুদকের অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, পাঁচটি কার্যাদেশের বিপরীতে মাইন্ডট্রি লিমিটেডকে প্রকৃতপক্ষে মাত্র ১ কোটি ৮ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, বাকি ৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন ভুয়া রেকর্ড ও সমন্বয়ের মাধ্যমে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
এছাড়া, ২০১১ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়ে বিজ্ঞাপন বাবদ মাইন্ডট্রি/মাইন্ডট্রি লিমিটেডের নামে মোট ৪৩৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার বেশি অগ্রিম অর্থ জমা দেওয়া হয়, যার মধ্যে দীর্ঘদিন পর কার্যাদেশ দেখিয়ে একটি বড় অংশ সমন্বয় করা হলেও প্রায় ৯৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা এখনো অসমন্বিত রয়েছে বলে অনুসন্ধানে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন- প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি- এর সাবেক চেয়ারম্যান এইচ. বি. এম ইকবাল, ব্যাংকের একাধিক পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মাইন্ডট্রি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকবাল আল মাহমুদ।
দুদক জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

