ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রদল কর্তৃক হামলার অভিযোগে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।
মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে হলপাড়া ও মধুর ক্যান্টিন প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শাখা সভাপতি ও ডাকসুর এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন খান। উপস্থিত ছিলেন শাখা সেক্রেটারি কাজী আশিক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মু. সাজ্জাদ হোসাইন খাঁন।
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে সভাপতি মহিউদ্দিন খান অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় পুনরায় চালু হচ্ছে এবং ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অতীতে বিএনপি-ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ সংঘাত দেখা গেলেও বর্তমানে তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, হামলা করে তার দায় ছাত্রশিবিরের ওপর চাপানোর চেষ্টা নতুন নয়; অতীতেও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দায় এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে, যার পুনরাবৃত্তি সম্প্রতি লক্ষ্য করা হয়েছে।
সেক্রেটারি কাজী আশিক বলেন, রমজান মাসেও ছাত্রদল তাদের ‘সন্ত্রাসী কার্যক্রম’ চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হল দখল ও সহিংসতার রাজনীতি বন্ধ না হলে তাদেরও নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর মতো পরিণতি হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
তিনি আরও বলেন, “আমরা রাজপথে নামলে আপনাদেরও আরামের গদি ছেড়ে রাজপথে নামতে হবে। আমাদের রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না।”
সাংগঠনিক সম্পাদক মু. সাজ্জাদ হোসাইন খাঁন বলেন, ৫ আগস্টের পর ক্যাম্পাসে হল দখল ও দখলদারিত্বের রাজনীতি পরিত্যক্ত হয়েছে। অতীতে গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হয়রানি করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এসব সংস্কৃতি ছাত্রদল চালু করেছিল। শিক্ষার্থীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে ‘লাল কার্ড’ দেখানো হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সমাবেশ থেকে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

