রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের বহনকারী ‘ক্ষণিকা’ শাটল বাস দুর্ঘটনার কবলে পড়ে চালকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার সকাল ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মগবাজার-মহাখালী এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার সময় বাসটির একটি চাকা হঠাৎ ব্লাস্ট (পাংচার) হয়ে যায়। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে বাসটি সামনে থাকা একটি মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষে বাসের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীরা আহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল ও শমরিতা হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঢাবির পরিবহন অফিসের ম্যানেজার কামরুল হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ থেকে ৭ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে কেউ গুরুতর আহত হননি বলে তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে ধাক্কা খাওয়া মাইক্রোবাসের ২ থেকে ৩ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম জানান, অন্তত তিনজন শিক্ষার্থী হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে এবং আরো তিনজন ইনসাফ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া কয়েকজন ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন।
ডাকসুর ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ বলেন, এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার সময় বাসটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৭ থেকে ৮ জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ডাকসু নেতারা বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং চিকিৎসা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।
তিনি আরো বলেন, দুর্ঘটনায় বাসের সামনের আসনে থাকা কয়েকজন এবং মাইক্রোবাসে থাকা যাত্রীদের অবস্থা গুরুতর।
দুর্ঘটনাকবলিত বাসে থাকা শিক্ষার্থী নাইমুজ্জামান ইমন বলেন, ‘আমি বাসে ছিলাম। হঠাৎ চাকা পাংচার হয়ে গেলে বাস নিয়ন্ত্রণ হারায়। আল্লাহর রহমতে বড় দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেছি।’
এ ঘটনায় বাসটির ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, বাসটি আগে থেকেই ফিটনেসবিহীন ছিল এবং এ বিষয়ে প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘গাড়িটি অবশ্যই ফিটনেসবিহীন ছিল। আমরা আগেই প্রশাসনকে জানিয়েছি এবং ডিপো পরিবর্তনের কথাও বলেছি। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

