আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

‘গেস্টরুম-গণরুম ও ফ্যাসিবাদী নির্যাতন’ শীর্ষক স্মৃতি লিখন প্রতিযোগিতার ঘোষণা ডাকসুর

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার

‘গেস্টরুম-গণরুম ও ফ্যাসিবাদী নির্যাতন’ শীর্ষক স্মৃতি লিখন প্রতিযোগিতার ঘোষণা ডাকসুর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা গেস্টরুম ও গণরুমকেন্দ্রিক নির্যাতনের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং সেই অভিজ্ঞতার দলিল তৈরির লক্ষ্যে ‘গেস্টরুম-গণরুম ও ফ্যাসিবাদী নির্যাতন’ শীর্ষক স্মৃতি লিখন প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। এ প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্যাতনের শিকার হওয়া বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে স্মৃতিচারণধর্মী লেখা আহ্বান করা হয়েছে।

রোববার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের আহ্বানে জানানো হয়, দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর ধরে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে গেস্টরুম ও গণরুম সংস্কৃতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ওপর নানা ধরনের নিপীড়ন চালানো হয়েছে। নবাগত শিক্ষার্থীদের মিছিল ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করানো, বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা এবং হলের কক্ষ দখল করে বৈধ শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনার ইতিহাস সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ঘোষণায় বলা হয়, অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে গেস্টরুম ও গণরুমের নামে নবীন শিক্ষার্থীদের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন চালানো হতো। অনেক ক্ষেত্রে তাদের মিছিলের সারি দীর্ঘ করতে ব্যবহার করা হতো এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করতে বাধ্য করা হতো। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হয়ে যেত এবং বৈধ শিক্ষার্থীরা অনেক সময় আবাসনের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হতেন।

ডাকসুর মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সেই দুঃসহ সময়কে পেছনে ফেলে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়। তবে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের পরিস্থিতি আর ফিরে না আসে, সে জন্য ইতিহাসের সঠিক দলিল সংরক্ষণ জরুরি। এ লক্ষ্যেই নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা সংগ্রহ করা হবে।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য লেখাটি স্মৃতিচারণধর্মী হতে হবে এবং তা নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা, প্রত্যক্ষভাবে দেখা কোনো ঘটনা বা প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দির ভিত্তিতে লেখা হতে হবে। প্রতিটি লেখার একটি স্বতন্ত্র শিরোনাম থাকতে হবে। শব্দসংখ্যার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।

লেখার মধ্যে ঘটনার সময়, স্থান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামসহ প্রাসঙ্গিক তথ্য উল্লেখ করার পাশাপাশি সম্ভব হলে ছবি, ভিডিও, পত্রিকার কাটিং বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের লিংকসহ প্রমাণাদি যুক্ত করতে বলা হয়েছে। বাছাইকৃত লেখাগুলো নিয়ে পরবর্তীতে একটি সংকলন প্রকাশ করা হবে।

ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত সাবেক ও বর্তমান সব শিক্ষার্থী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন। অংশগ্রহণের জন্য লেখাটি বাংলায় ওয়ার্ড ডকুমেন্ট ফাইলে (.doc বা .docx) লিখে নির্ধারিত অনলাইন ফরমের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। হাতে লেখা বা পিডিএফ ফাইল গ্রহণযোগ্য হবে না।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লেখার ফাইলের নাম হিসেবে অবশ্যই লেখার শিরোনাম ব্যবহার করতে হবে। বর্ণিত ঘটনার প্রমাণ হিসেবে সর্বোচ্চ ১০ এমবি আকারের পাঁচটি ফাইল আপলোড করা যাবে। এর চেয়ে বড় বা বেশি ফাইল থাকলে গুগল ড্রাইভে আপলোড করে লিংক যুক্ত করতে হবে।

প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে ৩০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার ২০ হাজার টাকা, তৃতীয় পুরস্কার ১০ হাজার টাকা, চতুর্থ পুরস্কার ৫ হাজার টাকা এবং পঞ্চম পুরস্কার ৩ হাজার টাকা। এছাড়া ষষ্ঠ থেকে ৫০তম স্থান পর্যন্ত প্রত্যেকে এক হাজার টাকা করে পুরস্কার পাবেন। পুরস্কারপ্রাপ্তদের জন্য ক্রেস্ট এবং সকল অংশগ্রহণকারীর জন্য সনদও প্রদান করা হবে।

লেখা পাঠানোর শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩০ এপ্রিল ২০২৬।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...