আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

অবহেলিত প্রাণিদের জন্য বেরোবি শিক্ষার্থীদের মানবিক উদ্যোগ

ইমন আলী, বেরোবি

অবহেলিত প্রাণিদের জন্য বেরোবি শিক্ষার্থীদের মানবিক উদ্যোগ

তপ্ত দুপুর। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শান্ত ক্যাম্পাস যেন ঘুমিয়ে আছে নিস্তব্ধতায়। সেই নিস্তব্ধতার মাঝে, এক নির্জন কোণে শুয়ে আছে একটি কুকুরছানা। তার ক্ষতবিক্ষত শরীর, ক্লান্ত চোখে বিষণ্ণতা, নিভৃত কষ্ট যেন উচ্চারণ করে নিজেই। পাশ দিয়ে ছুটে যাচ্ছে রিকশা, বাইক, গাড়ি কেউ থামে না, কেউ তাকায় না। হয়তো তাদের ব্যস্ততা, নয়তোবা অজ্ঞতা কিন্তু প্রাণতো আছে এই ছোট্ট কুকুরছানার শরীরেও, তারও আছে বাঁচার অধিকার।

বিজ্ঞাপন

ঠিক এমন দৃশ্যই প্রতিনিয়ত চোখে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। কেউ কেউ মুখ ফিরিয়ে নেয়, কেউ কষ্ট পায়, তবে কিছু হৃদয়বান তরুণ শিক্ষার্থীরা চুপ করে থাকেননি। তারা ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি মানবিক দায়িত্ববোধ আর ভালোবাসা থেকে যাত্রা শুরু করে অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন অফ বিআরইউআর (এডাব্লিউএফ) একটি শিক্ষার্থী নির্ভর সংগঠন। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকার অবহেলিত পশু-পাখিদের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এডাব্লিউএফ প্রতিষ্ঠার পেছনের গল্প

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় অসুস্থ, আহত বা অনাহারে কাতর পশু-পাখিদের দেখে তারা আর চুপ থাকতে পারেননি। তাদের লক্ষ্য ছিল সোজাসাপ্টা ‘তাদের জন্য কেউ নেই, তাই আমরাই হবো তাদের আশ্রয়।’

প্রথমদিকে নিজস্ব টাকা-পয়সা দিয়ে শুরু হয় চিকিৎসা, খাবার সরবরাহ আর নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা। ধীরে ধীরে সংগঠনের কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে। মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাদের নিষ্ঠা এবং তৈরি হয় একটি সংগঠনের কাঠামো।

এডাব্লিউএফ এর কার্যক্রম সমূহ

আহত বা অসুস্থ প্রাণিদের শনাক্ত করে স্থানীয় পশু চিকিৎসকদের মাধ্যমে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। তারা প্রতিদিন ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রান্তে নির্দিষ্ট সময়ে রান্না করা পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করেন অবহেলিত প্রাণিদের জন্য। রান্না করা খাবারে থাকে ভাত ও মুরগির মাংস। খাবারগুলো তারা ক্যাম্পাসের ভিতরে ও বাইরে থাকা কুকুর ও বিড়ালদের কাছে দিয়ে আসেন। প্রচণ্ড শীতে পথের ধারে বসবাস করা কুকুরদের জন্য তারা পাটের বস্তা ও খর দিয়ে উষ্ণ বাসস্থান তৈরি করে দেন। যাতে তারা নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বড় হতে পারে।

এডাব্লিউএফ’র প্রতিটি সদস্য মনে করেন, প্রাণি ভালো থাকলে সমাজও ভালো থাকে। তারা চান, প্রতিটি মানুষ অন্তত একটু করে হলেও ভাবুক সেই অবহেলিত কুকুর ও বিড়াল ছানার কথা, ক্ষুধার্ত চোখে চেয়ে থাকে আমাদের দিকে। হয়তো একমুঠো খাবার, একটুখানি যত্নই পারে বদলে দিতে একটি প্রাণির জীবন।

প্রতিটি ক্যাম্পাসেই এমন নিঃশব্দ আর্তনাদ লুকিয়ে থাকে। কেউ শোনে না, কেউ দেখে না। কিন্তু বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এই তরুণরা দেখিয়েছেন, ইচ্ছা থাকলে পরিবর্তন সম্ভব। অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন অফ বিআরইউআর (এডাব্লিউএফ)যেন হয়ে উঠেছে নিরব প্রাণদের কণ্ঠস্বর। তাদের এই পদক্ষেপ শুধু একটি ক্যাম্পাস নয়, বদলে দিতে পারে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিও।

অ্যানিমাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন অফ বিআরইউআর এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান বলেন,

মানুষদের মতো প্রতিটি প্রাণির রয়েছে সুন্দর ভাবে বেঁচে থাকার অধিকার। তাই সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব অন্যান্য প্রাণিদের কল্যাণে কাজ করা, তাদের জন্য সুন্দর একটি পরিবেশ তৈরি করা।আমরা প্রধানত ক্যাম্পাসে বিদ্যমান পশুপাখিদের কল্যাণ নিয়ে কাজ করি এবং পাশাপাশি ক্যাম্পাসের আশেপাশে থাকা প্রানিদেরও সেবা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

আমাদের লক্ষ্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে প্রতিটি প্রাণির কল্যান নিশ্চিত করা এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ ইকোসিস্টেম বজায় রাখা।

অ্যানিমাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন অফ বিআরইউআর এর সদস্য অবনী সুলতানা বলেন, আমরা প্রাণিদের কল্যাণে এবং তাদের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা নিয়ে কাজ করছি। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) প্রাঙ্গণে বিদ্যমান প্রাণিগুলো দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন