আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও বায়ান্নর ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) মঞ্চায়িত হয়েছে ‘ভাষার ক্ষুধা’ নাটক। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাট্য সংসদের প্রযোজনায় নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। নাটকের রচনা ও নির্দেশনায় ছিলেন মোবাশ্বের মাহমুদ নিবিড়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই কালো পোশাক পরিহিত অভিনেতাদের হাতে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে মঞ্চের সামনে পদযাত্রা করতে দেখা যায়। ‘কারার ঐ লৌহ কপাট, ভেঙে ফেল কররে লোপাট’ কবিতার তালে তালে দলীয় পরিবেশনার মাধ্যমে তারা ভাষা আন্দোলনের চেতনা ও প্রতিবাদের আবহ ফুটিয়ে তোলেন।
নাটকে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, সংগ্রাম এবং আত্মত্যাগের চিত্র তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ভাষা আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রণী ভূমিকার বিষয়টিও নাটকের বিভিন্ন দৃশ্যে উপস্থাপন করা হয়।
নাটকের সহনির্দেশক নুসরাত জাহান সাদিয়া বাংলা ভাষা নিয়ে বর্তমান প্রজন্মের মনোভাবের সমালোচনা করে বলেন, ‘বাংলা ভাষা কতটা সুন্দর তা আমরা এখনো উপলব্ধি করতে পারিনি। শুধু বাংলা ভাষার জন্য লড়াইয়ের ফলেই আজ বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হচ্ছে—এই বোধ আমাদের ভেতরে তৈরি হলে আমরা আর নিজের ভাষাকে ছোট মনে করব না।’
নাটকের শেষে পরিচালক মোবাশ্বের মাহমুদ নিবিড় বলেন, ‘রাষ্ট্র ও ক্ষমতা ভাষাকে ততক্ষণ ভালোবাসে, যতক্ষণ ভাষা নীরব থাকে। যখন ভাষা প্রশ্ন তোলে, ক্ষমতার চোখে চোখ রেখে কথা বলতে চায়, তখনই তাকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। আমাদের নাটকের সূচনা সেই জায়গা থেকে।’
ঢাবি নাট্য সংসদের সাবেক সভাপতি নাজমুল হোসাইন বাংলাকে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বাংলা ভাষা হওয়ার কথা ছিল প্রতিবাদের ভাষা, বিক্ষোভের ভাষা। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এত বছর পরেও আমরা সেই জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি। রক্তের বিনিময়ে পাওয়া ভাষায় আমরা প্রতিবাদ জানাতে ভয় পাই।’
নাটকটি ঘিরে শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে । ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে বাংলা ভাষার মর্যাদা ও প্রতিবাদের শক্তিকে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেয় ‘ভাষার ক্ষুধা’ নাটকটি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

