পুরোনো, জীর্ণতাকে পেছনে ফেলে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে চলছে ৫ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা। গতকাল, পহেলা বৈশাখে বিকাল ৫টায় একাডেমির প্রশিক্ষণ ভবনের সামনে থেকে বর্ণিল শোভাযাত্রা বের হয়ে একাডেমি প্রদক্ষিণ করে জাতীয় নাট্যশালার সামনে শেষ হয়।
বর্ণিল এই শোভাযাত্রার মাধ্যমে শুরু হয় বর্ষবরণের ২য় দিনের আয়োজন। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন প্রধান অতিথি জহির উদ্দিন স্বপন এমপি, মাননীয় মন্ত্রী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন ডা. জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়; মো. আব্দুস সালাম, প্রশাসক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন; কানিজ মওলা, সচিব, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়; শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ, মহাপরিচালক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এবং মোহাম্মদ জাকির হোসেন, সচিব, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।
বৈশাখী শোভাযাত্রা শেষে সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে শতকণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত এবং বৈশাখ আবাহনের গান পরিবেশিত হয়। এরপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য মন্ত্রী বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ উৎসবের জন্য, আনন্দের জন্য। এই আনন্দের মধ্যে কোন ধর্ম বর্ণ বিভেদ থাকবে না। এবারের পহেলা বৈশাখকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উৎসর্গ করেছেন কৃষকের জন্য। এই বছরে আমরা কাজ করবো কৃষকের জন্য, বাংলাদেশের কৃষি নির্ভর অর্থনীতির জন্য।’
বক্তব্যে মহাপরিচালক বলেন, ‘আনন্দপূর্ণ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বৈশাখ পালিত হচ্ছে। সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে শোভাযাত্রায় আমরা অংশ নিয়েছি। বাংলা নববর্ষ আমাদের জাতীয় জীবনে একটি অসাম্প্রদায়িক উৎসব। আমরা যে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন করতে চাই, বৈশাখি শোভাযাত্রার হাজার হাজার মানুষের এই মিলনমেলা তার সাথে সংগতিপূর্ণ।’
এছাড়াও পরিবেশিত হয় কবিগান, গাজীর গান, গম্ভীরা ও বাউল গান। ছিলো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশনা। আরও ছিলো তারকা শিল্পীদের ব্যান্ড সংগীত পরিবেশনা।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে, নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে গ্রামীণ ঐতিহ্য এবং লোকসাহিত্যের নানান উপকরণ ও অনুষ্ঠানমালায় সাজানো হয়েছে এবারের পহেলা বৈশাখের আয়োজন।
আজ, জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ৩য় দিনের আয়োজনে থাকছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) এর পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সংগীত পরিচালনায় থাকবেন ইথুন বাবু এবং রাজবাড়ীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির অ্যাক্রোব্যাটিক দলের পরিবেশনায় থাকবে বিশেষ অ্যাক্রোব্যাটিক প্রদর্শনী।
এছাড়া ১৩-১৭ এপ্রিল পর্যন্ত ৫ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা চলবে শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

