আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

চাহিদা মেটাতে রেশনিং শুরু বিপিসির

জ্বালানি তেল সংকটের আতঙ্কে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন

ইমরান হোসাইন, ঢাকা; সোহাগ কুমার বিশ্বাস, চট্টগ্রাম; খালেদ আহমদ, সিলেট ও মঈন উদ্দিন, রাজশাহী

জ্বালানি তেল সংকটের আতঙ্কে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন
পেট্রোলের জন্য শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। ছবি: জসীম উদ্দীন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি আতঙ্কে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পেট্রোল পাম্পগুলোর সামনে ভোক্তাদের ভিড় বাড়ছে। মোটরসাইকেল থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত যান কিংবা গণপরিবহনÑসবাই লাইনে দাঁড়িয়েছে যানবাহনের জ্বালানি সংগ্রহ করতে। সবার চাহিদা ট্যাংকিভর্তি করে জ্বালানি নেওয়া। অনেকে জেনারেটর কিংবা শিল্প কারখানার জন্য ড্রামে করেও ডিজেল ও পেট্রল সংগ্রহ করেছেন।

হঠাৎ করেই ক্রেতাদের ও ভোক্তাদের বাড়তি চাপে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরির আশঙ্কা বাড়ছে। এই চাপ সামলাতে তেল বিক্রির সীমা বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। বিপিসি বলছে, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত আছে। কিন্তু একশ্রেণির মানুষ আতঙ্ক ছড়িয়ে মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল বিক্রির সীমা নির্ধারিত করে দিয়ে বিপিসি বলছে, বাড়তি চাপের কারণে ডিলাররা আগের তুলনায় বেশি পরিমাণ তেল ডিপো থেকে তোলার চেষ্টা করছেন। কিছু ভোক্তা প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কিনে অননুমোদিতভাবে মজুত করারও চেষ্টা করছেন। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গাড়ির ধরন অনুযায়ী দৈনিক ট্রিপপ্রতি সরবরাহের পরিমাণ ঠিক করে দিয়েছে বিপিসি।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ২ লিটার, প্রাইভেটকারে ১০ লিটার এবং এসইউভি, জিপ ও মাইক্রোবাসে ২০ থেকে ২৫ লিটার অকটেন বা পেট্রল দেওয়া যাবে। ডিজেলচালিত পিকআপ ও লোকাল বাসে ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও কনটেইনার ট্রাকে ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল দেওয়া যাবে।

বিপিসি জানিয়েছে, ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি তেল নেওয়ার সময় ভোক্তাকে তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে ক্রয় রসিদ দিতে হবে। পরে তেল নেওয়ার সময় আগের ক্রয় রসিদের মূল কপি জমা দিতে হবে। ডিলারদেরও এই বরাদ্দ ও নির্দেশনা মেনে ভোক্তা পর্যায়ে তেল সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিং স্টেশনগুলোকে মজুত ও বিক্রির তথ্য সংশ্লিষ্ট ডিপোতে দিয়ে তেল উত্তোলন করতে হবে।

বিপণন কোম্পানিগুলোকে ডিলারদের তেল দেওয়ার আগে বর্তমান বরাদ্দ অনুযায়ী মজুত ও বিক্রির তথ্য যাচাই করতে বলা হয়েছে। কোনোভাবেই নির্ধারিত বরাদ্দের বেশি সরবরাহ করা যাবে না বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

বিপিসি বলেছে, দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিদেশ থেকে আমদানির কার্যক্রম ও সূচি নির্ধারিত আছে এবং নিয়মিতভাবে চালান দেশে আনা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রধান স্থাপনা থেকে সারা দেশের ডিপোতে রেল ওয়াগন ট্যাংকারের মাধ্যমে তেল পাঠানো হচ্ছে। সংস্থাটি আশা করছে, স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশে জ্বালানি তেলের বাফার স্টক গড়ে উঠবে।

বিপিসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকার নির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি তেল কেনাবেচার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংকটের অজুহাতে অতিরিক্ত দাম আদায় আইনগত অপরাধ। বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে সরকার এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা শুরুর পর তারাও প্রতিবেশী দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে সরকার বলছে, দেশে জ্বালানি তেলের যে মজুত আছে, তাতে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

ছুটির দিনেও ফিলিং স্টেশনে লম্বা লাইন

এদিকে ছুটির দিনেও রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। পরীবাগ স্টেশনে গতকাল দুপুরের পর থেকে লম্বা লাইন দেখা যায়। তেল নেওয়ার জন্য মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের এই লম্বা লাইনের ফলে শাহবাগে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পরীবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার ফিলিং স্টেশন থেকে শাহবাগ মোড় পর্যন্ত মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের লম্বা লাইন দেখা যায়।

দীর্ঘ এক ঘণ্টা বিশ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি তেল কিনেছেন মোটরসাইকেলের চালক আল আমিন। তিনি জানান, মোটরসাইকেল চালিয়ে যা আয় করেন, সেই আয়ে ঢাকার শহরে পরিবার নিয়ে থাকেন। প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার তেল লাগে। সাধারণ চালকদের অল্প হলেও চলে, কিন্তু এই পরিমাণ তেল ছাড়া তাদের চলবে না।

মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার ফিলিং স্টেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, আমাদের পাম্পে তেলের কোনো ঘাটতি নেই। আমাদের কাছে কেউ ফুল ট্যাংক, কেউ অর্ধেক ট্যাংক ভর্তি করে তেল নিচ্ছে। আমরা তেল নিতে কাউকে নিষেধ করিনি। মানুষ ফেসবুকের খবর দেখে আতঙ্কিত হয়ে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ভিড় করছে।

রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম উবারের চালক গৌতম বলেন, আমি তেজগাঁও ও কদমতলী তেলের পাম্পে গিয়েছিলাম কিন্তু পাম্প বন্ধ। মৎস্য ভবনের সামনে রমনা তেলের পাম্পও বন্ধ পেলাম, কিছু কিছু পাম্পে পুলিশ বা সাংবাদিক না থাকলে বেশি দাম নিয়ে তেল দিচ্ছে। একদিকে সরকার বলছে, তেলের কোনো ঘাটতি নেই, আপনারা আতঙ্কিত হবেন নাÑ অন্যদিকে রাজধানী ঢাকায় বহু পাম্প বন্ধ পাচ্ছি। আগেও আমরা দেখেছি— যে কোনো অজুহাতে পাম্পগুলো বন্ধ করে দিয়ে আমাদের হয়রানিতে ফেলা হয়। এই বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

তেজগাঁও, নীলক্ষেত ও ঢাকা কলেজের সামনে অবস্থিত ফিলিং স্টেশনগুলো বন্ধ দেখা যায়। বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা কলেজের সামনে অবস্থিত ফিলিং স্টেশনের এক কর্মচারী বলেন, মালিকপক্ষ থেকে আমাদের আজকে স্টেশন বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

‘অহেতুক আতঙ্ক’ না ছড়াতে আহ্বান জ্বালানিমন্ত্রীর

জ্বালানি তেল নিয়ে অহেতুক আতঙ্ক না ছড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। গতকাল বিকেলে রাজধানীর আসাদ গেট এলাকায় পেট্রল পাম্প পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।

জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, কেউ অতিরিক্ত তেল ক্রয় ও মজুত করবেন না। অস্থির হওয়ার কোনো কারণ নেই। দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। সরকার পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে।

রোববার থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি : জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

দীর্ঘমেয়াদে যেন দেশে জ্বালানির সংকট না হয়, সে জন্য আগামীকাল রোববার থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ বিষয়ে লিখিত নির্দেশনা পেট্রোল পাম্পগুলোকে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। গতকাল রাজধানীর পরীবাগের পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, যে সংশয়টি জনগণের তৈরি হয়েছে, আমরা সেটাকে অস্বাভাবিকভাবে দেখছি না। কারণ বিশ্বে একটি যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। ফলে একটা দুশ্চিন্তা বিরাজ করছে। কিন্তু আমি আশ্বস্ত করতে চাই, জ্বালানি তেল নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। আমাদের কাছে যথেষ্ট মজুত রয়েছে।

সবার চাহিদা ট্যাংকি ভর্তি জ্বালানি

গতকাল চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে সরেজমিনে দেখা গেছে, চালকেরা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি সংগ্রহ করছেন। তাদের ধারণা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে অচিরেই বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হতে পারে। তার আগেই গাড়ির ট্যাংকি ভর্তি করে জ্বালানি নেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।

নগরীর অক্সিজেন এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পের সামলে জ্বালানি সংগ্রহ করতে আসা একটি ব্যক্তিগত গাড়ির চালক ইদ্রিস আলী জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের পর লাইনে দাঁড়িয়েছি, ২ ঘণ্টা পর তেল পেয়েছি। তার গাড়িতে কমবেশি ৬ হাজার টাকার তেল ধরে। ফুল ট্যাংকি তেল চেয়েছিলাম, কিন্তু পাম্প থেকে ২ হাজার টাকার তেল সরবরাহ করা হয়েছে। মুরাদপুরের পাম্পের সামনে অপেক্ষমাণ সিটি সার্ভিস বাসের চালক সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি জানান, তার গাড়ি গ্যাসে চলে। তাই সামান্য তেলের প্রয়োজন হয়। অন্যান্য সময় মাসে ২ হাজার টাকার তেল নিলেই চলে। সংকটের কথা চিন্তা করে ৫ হাজার টাকার তেল কিনবেন। তবে তখনো তিনি পাম্পের কাছে পৌঁছাতে পারেননি।

জামালখান এলাকার কিউ সী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মীর খান জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে অনেকের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তাই আগেভাগে জ্বালানি সংগ্রহ করতে সবাই মরিয়া হয়ে উঠেছেন। কিন্তু আমরা তেমন কোনো সংকট দেখছি না। বিপণন প্রতিষ্ঠান থেকে আগের মতোই স্বাভাবিক সরবরাহ পাচ্ছি। তবে গত দুদিন ধরে অত্যধিক গ্রাহকের চাপ সামলাতে স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি লিফটিং করতে চেয়েছিলাম সেটি পাইনি।

তেল বিপণন প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল কোম্পানির জিএম অপারেশন ফারুক হোসেন মাহমুদ জানান, বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করছে বিপিসি। তাই উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কোনো কারণ এখনো হয়নি। কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। যে কখনোই ৫০০ টাকার বেশি তেল কেনেনি সেও ২ হাজার টাকার তেল কিনতে চাইছে। অতিরিক্ত সংগ্রহের এই মানসিকতা পরিবর্তন না হলে আতঙ্ক আরো বেশি ছড়াবে।

জ্বালানি তেলের ‘সংকট নেই’, তবুও ভিড় রাজশাহীতে

জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে এমন ‘গুজব’ ছড়িয়ে পড়ায় রাজশাহীতে হঠাৎ করেই পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এতে মহানগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নিতে গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

গত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই মহানগরীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকদের ভিড় বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু পাম্প সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হলেও গতকাল সকাল থেকে সীমিত পরিমাণে জ্বালানি বিক্রি শুরু হয়।

শুক্রবার সকালে মহানগরীর লতা ফিলিং স্টেশন, কাশিয়াডাঙ্গা, রুয়েট এলাকা ও আশপাশের পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। অনেক পাম্পে ‘রেশনিং’ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। কোথাও একজন গ্রাহককে ৩০০ টাকার বেশি জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে না, আবার কোথাও ২০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

মোটরসাইকেল চালক নিপু বলেন, আমাকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পথ যেতে হবে। কিন্তু পাম্প থেকে মাত্র ৩০০ টাকার তেল দিয়েছে। এতে দূরপাল্লার যাত্রা করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। একই অভিযোগ করেন ফিরোজ হোসেনের। তার দাবি—পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও কেন এই সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়। এতে দূরপাল্লার চালকরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।

বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী শাখার সভাপতি মনিমুল হক বলেন, তেলের কোনো সংকট নেই। কিন্তু আতঙ্কের কারণে হঠাৎ করে চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। আবার শুক্রবার ও শনিবার ডিপো থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সীমিত পরিমাণে জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে।

চাহিদার তুলনায় বেশি তেল চাচ্ছেন সিলেটের ক্রেতারা

দাম বাড়ার গুজব ও শঙ্কায় সিলেট নগরীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে হুলস্থুল অবস্থা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীয়া বলছেন আতঙ্ক থেকে চাহিদার অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের কারণে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তবে রোববার থেকে কোনো ঘাটতি থাকবে না।

সিলেটে হঠাৎ করে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত পাম্পে অকটেন-পেট্রোল-ডিজেলের জন্য দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। হঠাৎ করে নিয়মিত চাহিদার কয়েক গুণ বেশি জ্বালানি তেল বিক্রি হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন পাম্প মালিকরা।

জ্বালানি ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলতি মাসে দাম বাড়ার আশঙ্কা নেই। তেলেরও পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। তবে শুক্র ও শনিবার ডিপো বন্ধ থাকে। হঠাৎ বৃহস্পতিবার রাত থেকে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের কারণে অনেক পাম্পে তেলের কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে। এই কারণে শুক্রবার পেট্রোল বা অকটেন বিক্রি মোটরসাইকেলপ্রতি সীমিত করেছেন কোনো পাম্প মালিক।

শুক্রবার বিকালে সিলেট নগরের সোবহানীঘাটে অবস্থিত বেঙ্গল গ্যাসোলিন অ্যান্ড সার্ভিসিং নামে একটি পেট্রোল পাম্পে গিয়ে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। পাম্পের কর্মচারীরা জানান, তারা মোটরসাইকেলপ্রতি ২০০ টাকার বেশি জ্বালানি দিচ্ছেন না। এতে অনেক চালক ক্ষোভ জানাচ্ছিলেন। দূরের পথযাত্রী চালকরা এই জ্বালানিতে গন্তব্যে পৌঁছা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।

তবে পাম্পের ব্যবস্থাপক রুপক দাস বলেন, দাম বাড়ার কোনো খবর আমাদের কাছে নেই। যেহেতু সরকার গত ১ মার্চ দাম অপরিবর্তিত রেখে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে এবং আমরা ওই দামেই জ্বালানি তেল বিক্রি করছি।

সিলেটের সবচেয়ে বৃহৎ বেঙ্গল গ্যাসোলিনের(হকসাবের পাম্প হিসেবে সুপরিচিত) মালিক ও সিলেট বিভাগীয় পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম আদনান বলেন, আমাদের কাছে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। বিশেষ করে পেট্রোল ও অকটেন সিলেটসহ পার্শ্ববর্তী ডিপোগুলো থেকে নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে। আপাতত তেলের কোনো সংকট নেই, তবে সংকটের ধারণা থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সংগ্রহ করে আতংক ছড়িয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...