বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এম ইলিয়াস আলী গুমের সঙ্গে বরখাস্ত সেনাকর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। এমন তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাক্ষীর জবানবন্দিতে। গুমের ঘটনায় অভিযুক্ত জিয়াউলের একসময়ের দেহরক্ষীর দায়িত্বে থাকা সেনাসদস্য ইমরুল কায়েস গতকাল রোববার ট্রাইব্যুনাল-১-এ আওয়ামী সরকারের সময় শতাধিক মানুষকে গুম, নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জবানবন্দি দেন।
এ সময় জিয়াউলকেও কারাগার থেকে কড়া পুলিশি প্রহরায় ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। ইলিয়াস আলী গুম ও খুনের সময় জিয়াউল র্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান ছিলেন। পরে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি (জিয়াউল) ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মানুষকে গুম, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
বিতর্কিত সেনাকর্মকর্তা জিয়াউলের বিরুদ্ধে ইলিয়াস আলী গুমের সরাসরি অভিযোগ এনে জবানবন্দিতে ইমরুল জানান, ২০১২ সালের ১৩ এপ্রিল র্যাব হেডকোয়ার্টার থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে জিয়াউল আহসান, মেজর নওশাদ, স্কোয়াড্রন লিডার সাইফসহ তিনি মহাখালী ফ্লাইওভারের কাছে যান। এ সময় কাকে পিকআপ করা (তুলে নেওয়া) হবে তিনি জানতেন না। জিয়াউল গাড়িতে বসে টার্গেট কখন আসবেÑতা জানার জন্য ফোন করছিলেন। এক পর্যায়ে জানা যায় টার্গেট আসবে না। পরে সেখান থেকে ফিরে এসে ৯ দিনের ছুটিতে যান ইমরুল। ছুটিতে থাকা অবস্থায় মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারেন মহাখালী ফ্লাইওভার থেকে ইলিয়াস আলী নামে এক বিএনপি নেতাকে অপহরণ করা হয়েছে। ৯ দিন ছুটিতে থাকার পর ২০১২ সালের ২৩ এপ্রিল তিনি র্যাব হেডকোয়ার্টারে কর্মস্থলে যোগ দেন। তখন তিনি হেডকোয়ার্টারে থমথমে পরিবেশ দেখতে পান। অন্যান্য সদস্যের মাধ্যমে জানতে পারেন অস্ত্রের ইন-আউট রেজিস্টার ও সিসিটিভি ফুটেজ জিয়াউল নষ্ট করে ফেলেছেন। তখন সাধারণত সকাল ৯টায় রোল করা হতো।
১৮ এপ্রিল থেকে সকাল ৭টায় রোল কল করা হয়। জিয়াউল পরপর বেশ কদিন নির্দিষ্ট সময়ে হাজির হন। এ সময় একদিন জিয়াউল ফোনে কথা বলছিলেন, ওই সময় তার ফোনে অন্য একটি কল এলে তিনি বলেন, তুই রাখ; শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক সিদ্দিকী ফোন দিয়েছেন। জিয়াউল তারিক স্যারের সঙ্গে কথা বলা শুরু করেন। অপর প্রান্ত থেকে কী বলা হয়েছে আমি জানি না। তবে জিয়া স্যার অভিযোগের সুরে বলছিলেন, ‘স্যার, আপনাদের কথামতো ইলিয়াসকে গুম (সাংকেতিকভাবে গলফ) করলাম, এখন আপনারা এমন করলে কীভাবে হবে! এর চেয়ে আমি কমান্ডো মানুষ, আমাকে জঙ্গলে পোস্টিং দিয়ে পাঠিয়ে দিন; এটাই আমার জন্য ভালো।’
লাশ ফেলতেন রেললাইনে
ইমরুল জবানবন্দিতে বলেন, জিয়াউল স্যারের বডিগার্ড হিসেবে যোগদানের ২০-২৫ দিন পর একদিন রাত ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার দিকে আমাকে ফোন দিয়ে স্যার বলেন, ‘তুই কই?’ আমি জানাই, লাইনে আছি। স্যার তখন আমাকে র্যাব-১-এর সামনে যেতে বলেন। ওখানে যাওয়ার পর দেখি দুটি কালো রঙের মাইক্রোবাস দাঁড়িয়ে আছে। স্যার আমাকে একটি মাইক্রোবাসে উঠতে বলেন। গাড়িতে র্যাব-১-এর সিও রাশেদ স্যার এবং ক্যাপ্টেন কাউসার স্যার ছিলেন। আরো দুজন ছিলেন, কিন্তু আমি তাদের চিনি না। রাত আনুমানিক পৌনে ১টার দিকে র্যাব-১ থেকে বের হয়ে টঙ্গীর আহসান উল্লাহ ওভারব্রিজের ওপর দিয়ে ডান দিকে মোড় নিয়ে বেশ কিছুদূর যাওয়ার পর আমাদের গাড়ি থামে। সেখানে একটি রেলক্রসিং পড়ে। রাস্তার দুই পাশে গাছগাছালি ছিল। তখন জিয়া স্যার আমাকে বলেন, ইমরুল গাড়ির পেছনের সিঁড়িটা খুলে একটা বস্তা আছে বের কর। আমি বস্তা নামানোর উদ্দেশ্যে হাত দিলে দেখি সেটি বস্তা না; একটা ডেডবডি ছিল এবং সেটি ঠাণ্ডা ছিল। প্রথমে আমি ভয় পেয়ে যাই। আমার সঙ্গে যারা ছিল, তাদের সহায়তায় বডিটা রেললাইনের পাশে নিয়ে রাখি। আমরা চলে এসে গাড়িতে বসি। স্যার সেখানে দাঁড়ানো ছিলেন। এর কিছুক্ষণ পর একটি ট্রেন এসে চলে যায়।
সুন্দরবনে অপারেশনের নাটক সাজিয়ে হত্যা
জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ওই ঘটনার কিছুদিন পর আমি জিয়াউল স্যারের সঙ্গে সুন্দরবন অপারেশনে কয়েকবার যাই। তার মধ্যে একটি অপারেশনের কথা আমার মনে আছে। আমরা বোটে করে সুন্দরবন অপারেশনস্থলে যাই। ওই সময় সেখানে নদীতে ভাটা ছিল। আমাদের সঙ্গে র্যাব-৮-এর সদস্যরাও ছিলেন। আমাদের বোট থামার পর জঙ্গলের ভেতর থেকে দুই-তিন রাউন্ড গুলির শব্দ শুনতে পাই। আমাদের ফায়ার করার নির্দেশ দেওয়া হলে আমরা র্যাব ইন্টেলিজেন্সের সদস্যরা এবং র্যাব-৮-এর সদস্যরা ফায়ার করি। ভাটা থাকার কারণে কাদায় আমাদের হাঁটু পর্যন্ত দেবে যাচ্ছিল। এক পর্যায়ে আমাদের ফায়ার বন্ধ করার নির্দেশ দেন। সেখানে জিয়াউল স্যার, র্যাবের এডিজি (অপস) মুজিব স্যার, কমান্ডার সোহায়েল স্যার এবং মিডিয়া সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। আমরা জঙ্গলের ভেতরের দিকে গিয়ে দেখি সেখানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুই-তিনটি লাশ পড়ে আছে। সেখানে একটি গাছের উপরে ওপি (অবজারভেশন পোস্ট) ছিল, যার চারপাশে বুলেটপ্রুফ পাত লাগানো দেখতে পাই। এছাড়া আমরা দুটি বোট দেখতে পাই। বোটগুলোর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের দ্রব্য ছিল, যেমন সিগারেট, মদের বোতল ও বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী। অপারেশনটি আমার কাছে একটি সাজানো অপারেশন মনে হয়েছিল।
অপারেশন রেবেল হান্টে ১০ জনকে হত্যা
ইমরুল সাক্ষ্যে বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পর ‘অপারেশন রেবেল হান্ট’ নামে সারা দেশে পলাতক বিডিআর সদস্যদের ধরার জন্য একটি অপারেশন পরিচালনা করা হয়। ওই সময় জিয়াউল স্যার ৮-১০ জন বিডিআর সদস্যকে হত্যা করেন। লোকগুলোকে দুভাবে হত্যা করা হয়। একটি ছিল ইনজেকশন পুশ করে এবং আরেকটি ছিল পোস্তগোলা ব্রিজের কাছে আর্মি ক্যাম্পের ভেতর দিয়ে বোটে করে নদীতে নিয়ে উপর-নিচে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে ফেলে দেওয়া হতো।
উত্তরায় চারজনকে ক্রসফায়ারে হত্যা
ট্রাইব্যুনালে জিয়াউলের দেহরক্ষী ইমরুল বলেন, ২০১১ সালের রমজান মাসের শেষ দিকে আমি লাইনে ছিলাম। একদিন ইফতারের ঠিক আগে জিয়াউল স্যার আমাকে ফোন দিয়ে উত্তরায় নর্থ টাওয়ারে ক্যামেরা নিয়ে যেতে বলেন। ওখানে গিয়ে আমি স্যারকে পাইনি। ওই দিন আমি ইফতার করতে পারিনি। এরপর স্যার আমাকে ফোন দিয়ে আরেকটু সামনে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে দেখি চারজনকে ক্রসফায়ার দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। জিয়াউল স্যার বলেন, তারা নাকি ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আমার কাছে ওই অপারেশন সাজানো মনে হয়েছিল।
১১ জনকে বুড়িগঙ্গায় ডুবিয়ে দেওয়া হয়
ইমরুল বলেন, ২০১২ সালের প্রথম দিকে জিয়াউলে আহসানের নেতৃত্বে তিনটি মাইক্রো বাসে করে আমরা ১১ আসামিকে নিয়ে পোস্তগোলা আর্মি ক্যাম্পে যাই। সেখানে ওই ১১ জনকে বোটে ওঠানো হয়। তখন হঠাৎ একজন পানিতে ঝাঁপ দেন। জিয়াউল স্যার আমাকে বলেন, ওকে ধর। আমি পানিতে ঝাঁপ দিয়ে তাকে ধরি। রশির সাহায্যে আমাকে এবং ওই লোককে বোটে ওঠানো হয়। তখন অন্ধকার ছিল। আমি তাকে চিনতে পারিনি। তবে তার বয়স আনুমানিক ২৫-২৬ বছর হবে। বোটটি নদীর মাঝখানে নিয়ে আগের ন্যায় সিমেন্টের বস্তা বেঁধে মাথায় গুলি করে ওই ১১ জনকে হত্যা করে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। ওই অপারেশনে জিয়া স্যার, মেজর নওশাদ স্যার, স্কোয়াড্রন লিডার সাইফ স্যার, কমান্ডার সোহায়েল স্যার, এডিজি (অপস) মুজিব স্যার ছিলেন। অপারেশন শেষে আমরা লাইনে চলে আসি।
সিলেট সীমান্ত দিয়ে দুজনকে ভারতে পাচার
জবানবন্দিতে ইমরুল বলেন, ২০১২ সালের মাঝামাঝি র্যাব-১-এর টিএফআই সেল থেকে দুই ব্যক্তিকে নিয়ে আমরা জিয়া স্যারের নেতৃত্বে জাফলং বর্ডারে যাই। দুজনেরই হাত বাঁধা এবং মাথায় জমটুপি পরানো ছিল। আনুমানিক রাত ২টা থেকে আড়াইটার দিকে আমরা সেখানে পৌঁছাই। সেখানে ভারত থেকে দুজনকে নিয়ে সিভিল পোশাকে চার-চাঁজজন এসে তাদের আমাদের কাছে হস্তান্তর করে। আমাদের কাছে থাকা দুজনকে তাদের কাছে হস্তান্তর করি। ভারত থেকে প্রাপ্ত দুজনকে নিয়ে আমরা জিয়া স্যারের নেতৃত্বে ঢাকার উদ্দেশে রওনা করি। জাফলং বর্ডার থেকে আনুমানিক ২৫-৩০ কিলোমিটার আসার পর গাড়ি থেকে দুজনের একজনকে নামানো হয় এবং জিয়াউল স্যার তাকে গুলি করে রাস্তার পাশে ফেলে দেন। ওই সময় স্যারের নির্দেশে আমি এবং অন্য একজন গাড়ির সামনে এবং পেছনে সিকিউরিটি হিসেবে দাঁড়াই। অন্যজনকে নিয়ে রওনা করে ১০-১৫ কিলোমিটার যাওয়ার পর একই ভাবে তাকেও জিয়াউল স্যার গুলি করে হত্যা করেন।
মাথায় গুলি করলে চুলে আগুন ধরে যায়
ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী ইমরুল বলেন, একবার র্যাব-৪-এর সেফ হাউস থেকে দুজনকে দুটি মাইক্রোতে তুলে আনুমানিক আধা ঘণ্টা চলার পর তিন মাথার মোড় নামক এক জায়গায় গাড়ি দুটি থামানো হয়। আমি যে গাড়িতে ছিলাম, ওই গাড়ি থেকে একজনকে নামানো হয়। আমি গাড়ির পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। জিয়াউল স্যার ওই লোককে নিয়ে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করেন। ওই লোকের মাথায় অনেক চুল থাকায় মাথায় আগুন ধরে গিয়েছিল। তা দেখে উপস্থিত সবাই হাসাহাসি করছিলেন। তার হাত এবং চোখ গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল। হত্যা করার পর আমরা গিয়ে স্যারের নির্দেশে গামছাগুলো খুলে এনে গাড়িতে বসি। আমাদের গাড়ি নিয়ে র্যাব-৪-এ চলে যেতে বলেন। জিয়া স্যার অপর লোককে নিয়ে চলে যান। জিয়া স্যার যখন র্যাব-৪-এ ফেরত আসেন, তখন ওই লোক তার সঙ্গে ছিলেন না। কিছু কিছু অপারেশন স্যার আমার অগোচরে করতেন। যেটাতে তিনি প্রয়োজন মনে করতেন, সেটাতে আমাকে নিয়ে যেতেন।
হত্যা করে পেট ফেড়ে বলেশ্বর নদীতে ফেলে দেওয়া হতো
ইমরুল বলেন, আমি বেশ কয়েকবার জিয়াউল স্যারের সঙ্গে বরিশালে গিয়েছিলাম এবং র্যাব-৮-এর সহযোগিতায় পাথরঘাটার চরদুয়ানি বাজার থেকে বলেশ্বর নদীর ভেতরে সাগরের মোহনায় গিয়ে কখনো দুজন, কখনো তিনজন আবার কখনো চারজন টার্গেটকে আগের ন্যায় হত্যা ককরেন। অর্থাৎ সিমেন্টের বস্তা বেঁধে গুলি করে হত্যা করে লাশ পানিতে ফেলে দেওয়া হতো। বস্তা বেঁধে লাশ পানিতে ফেলার আগে ওই লাশগুলোর পেট কমান্ডো নাইফ দিয়ে চিরে ফেলা হতো।
১৫ মাসে ১৫০ থেকে ২০০ জনকে হত্যা
ট্রাইব্যুনালে ইমরুল আরো বলেন, জিয়াউল স্যারের সঙ্গে আমি এক বছর তিন থেকে চার মাস বডিগার্ড বা রানার হিসেবে থাকাবস্থায় আমি লক্ষ করি, তিনি বিভিন্নভাবে মানুষদের গুম করতেন। র্যাব-১-এর টিএফআই সেল থেকে আসা ব্যক্তিদের বিভিন্ন পন্থায় হত্যা করতেন। পন্থাগুলোর মধ্যে ছিলÑগুলি এবং ইনজেকশন। আগের বর্ণিত ঘটনা ছাড়াও আরো ১০-১২ জনকে ইনজেকশন পুশ করে হত্যা করেছেন। ইনজেকশন প্রয়োগের কাজ কখনো টিএফআই সেলের ভেতরে, কখনো গাড়িতে সংঘটিত হতো। আমি র্যাব থেকে চলে যাওয়ার পর আগের মতো স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারিনি ।
সাক্ষী ইমরুল এ পর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, আমি দেশের জন্য শপথ গ্রহণ করেছি, প্রশিক্ষণও নিয়েছি। তবে তা কখনই দেশের মানুষকে হত্যা করার জন্য নয়। আমি রানার হিসেবে তার সঙ্গে থেকে দেখেছি তিনি ওই সময়কালে ১৫০ থেকে ২০০ জনকে বিভিন্ন পন্থায় হত্যা করেছেন। আমি বিবেকের তাড়নায় এবং সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে জবানবন্দি দিয়েছি। আমি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি। কোনো সৈনিককে কখনই যেন আমার মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে না হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


