বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, সংস্কৃতি সভ্যতার ভিত্তি আর অপসংস্কৃতি বিবেকের দরজায় তালা লাগায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে ‘‘দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশে আমাদের করণীয়’’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।
সামাজিক সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনের সভাপতি লায়ন আনোয়ারা বেগম নিপার সভাপতিত্বে ও মঞ্জুর হোসেন ইসার সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী, তাশিক আহমেদ, কামরুল হাসান দর্পণ, এম এ সায়েম মাসুম, সিদ্দিক আল মামুন, কাদের মনসুর, আকতার হোসেন, মোল্লা নাসির হোসেন বক্তব্য রাখেন।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সংস্কৃতি হচ্ছে সুন্দরের সাধনা। সংস্কৃতি সভ্যতার ভিত্তি। সভ্যতা সংস্কৃতির উন্নতরুপ। যখন সভ্যতা ছিল না, তখন সংস্কৃতি ছিল। সংস্কৃতি সুন্দরের পথ দেখায় আর অপসংস্কৃতি মানুষকে অসুন্দরের পথে নিয়ে যায়, অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। অপসংস্কৃতি জাতীয় মূল্যবোধকে গলাটিপে হত্যা করে, বিবেকের দরজায় কড়া লাগায়। অপসংস্কৃতি মানুষকে তার মা, মাটি ও দেশের প্রতি ভালবাসা থেকে দূরে সরিয়ে নেয় অপসংস্কৃতির চমক মরীচিকার মত। তরুণরা অপসংস্কৃতিতে আকৃষ্ট হচ্ছে। তার কারণ এতে চমক আছে উত্তেজনা আছে আর আছে ক্ষণিক আনন্দ। এর একটা মোহ আছে। আমাদের মনে রাখতে হবে একটি দেশের ভবিষ্যত হলো সেই দেশের তরুণ সমাজ। অপসংস্কৃতির হিংস্র ছোবলে এ তরুণ সমাজ যদি বিপথগ্রামী হয়, তাহলে জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। পশ্চিমা চটকদার সংস্কৃতি আমাদের হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মূলে কুঠারাঘাত করেছে। ফলে আমরা আমাদের স্বকীয়তা হারিয়ে ক্রমেই সাংস্কৃতিক দৈন্যের দিকে ধাবিত হচ্ছি।
তিনি বলেন, কোনো দেশের সভ্যতা ও কৃষ্টি কেমন ঐতিহ্যমণ্ডিত, তা তার সংস্কৃতির স্বরূপেই বোঝা যায়। সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল যখন দূষিত হয়, তখনই জাতির অধঃপতন শুরু হয়। জাতীয় জীবনে দেখা দেয় পরাণুকৃতি, অনৈক্য, বিভেদ, বিশৃঙ্খলা- এক কথায় সার্বিক অবনতি। একটি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পেছনে নিয়ামক থাকে সংস্কৃতি। আজকের সময়ে একটি দেশের রাজনৈতিক, ভাষা-কৃষ্টি, সামাজিক, অর্থনৈতিক অবস্থা কবজা করার জন্য তলোয়ার উঁচিয়ে যুদ্ধের প্রয়োজন পড়ে না, সাংস্কৃতিক আগ্রাসনই যথেষ্ট।
তিনি কিছুটা হতাশার সূরে বলেন, বর্তমানে সংস্কৃতির চাবিকাঠি করপোরেট বেনিয়াদের হাতে চলে গেছে। তারা কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ঢেলে মিডিয়ার মাধ্যমে খেয়ালখুশিমতো বাণিজ্যকে সংস্কৃতির উপকরণ বলে প্রচার-প্রচারণা চালায়। মিডিয়ার বদৌলতে ফুলে-ফেঁপে তা দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত অপসংস্কৃতির প্লাবন বইয়ে দেয়।
বিশ্বায়নের এ যুগে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন আসবেই। স্যোসাল মিডিয়ায় ভিনদেশি ছায়াছবি, ভিনদেশি গান বাজবেই। তাই বলে চোখবুজে, কানে তুলো দিয়ে থাকা যাবে না। ‘কান পাতলেই অভাবিতের দেখা মিলে, মুখ খুললে কেবল ভাবিতের প্রকাশ। ভোগবাদী মতবাদ ঝড়ের মতো এসে জীবনের সব মুকুল ঝরিয়ে দেয়। সংস্কৃতি ঠিক তার উল্টো, দখিন হাওয়ার মতো জীবনের সব ফুল ফুটিয়ে তোলাই তার কাজ’-মোতাহার হোসেন চৌধুরীর এ বক্তব্যকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে লোকজ সংস্কুতির বিকাশকে পৃষ্ঠপোষকতা দিতে হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

