উত্তরবঙ্গকে এগ্রো প্রসেসিং হাব করার পরিকল্পনা রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

আমার দেশ অনলাইন

উত্তরবঙ্গকে এগ্রো প্রসেসিং হাব করার পরিকল্পনা রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

দেশের উত্তরবঙ্গকে এগ্রো প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রির ‘হাব’ বা প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সরকার। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে এবং এ খাতের বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে তিন দফায় মোট ১৬ জন ব্যবসায়ীর সঙ্গে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

বৈঠকে ফ্রুটস, ডেইরি, ফুড-বেভারেজ ও পোলট্রিসহ এগ্রো প্রসেসিং খাতের সঙ্গে যুক্ত উদ্যোক্তারা অংশ নেন। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে শিল্প স্থাপনে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন এবং সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে, সেসব বিষয়ে বৈঠকে বিশদ আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে ছিলেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী, ট্রান্সকম লিমিটেডের গ্রুপ সিইও সিমিন রহমান, নাবিল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. আমিনুল ইসলাম, টিকে গ্রুপের গ্রুপ ডিরেক্টর মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার এবং স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের সিইও মো. পারভেজ সাইফুল ইসলাম।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কাজী ফার্মস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহেদুল হাসান, ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ, আকিজ ভেঞ্চার গ্রুপের চেয়ারম্যান এস কে শামীম উদ্দিন, আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের সিইও সৈয়দ জহুরুল আলম, লাল তীর সিডস লিমিটেডের পরিচালক তাজওয়ার এম আউয়াল এবং প্যারাগন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমানসহ অন্যান্য শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা।

বৈঠকের বিষয়ে স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের সিইও মো. পারভেজ সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী উত্তরবঙ্গে শিল্প স্থাপন ও এগ্রো প্রসেসিং খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে আমাদের পরামর্শ জানতে চেয়েছেন। আমরা জানিয়েছি যে, স্কয়ার ২৫ বছর ধরে এই খাতে কাজ করছে এবং আমাদের কাঁচামালের ৮০ শতাংশই আসে স্থানীয় কৃষি খাত থেকে।

তিনি আরো বলেন, পাবনাতে এগ্রো প্রসেসিং কারখানা স্থাপনের জন্য আমরা প্রস্তুত থাকলেও গ্যাস সংযোগের অভাবে তা পারছি না। এছাড়া দেশে কৃষি পণ্যের রেডিয়েশন টেস্টের সুযোগ সীমিত। আমরা রাজশাহীর ফল রপ্তানি এবং পোস্ট হারভেস্টিং লস কমাতে কোল্ড স্টোরেজ ও কোল্ড চেইন মেইনটেইনেন্সের জন্য সরকারি সহায়তা চেয়েছি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের কথা শুনেছেন এবং কিছু বিষয়ে তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট ও বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়েও ব্যবসায়ীদের মতামত শোনেন প্রধানমন্ত্রী। ট্রান্সকম লিমিটেডের গ্রুপ সিইও সিমিন রহমান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বর্তমান ব্যবসায়িক পরিবেশ, বিনিয়োগের চ্যালেঞ্জ ও রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। আমরা ব্যবসা সহজীকরণ এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় সুবিধার কথা বলেছি। প্রধানমন্ত্রী অনেক বিষয়ের সমাধানের জন্য উপদেষ্টাকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী জানান, উত্তরবঙ্গের পতিত জমি কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'আমরা বিনিয়োগের সুবিধার্থে ট্যাক্স হলিডে এবং ইউটিলিটিসহ অবকাঠামোগত সুবিধার কথা বলেছি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, উত্তরাঞ্চলে এগ্রো প্রসেসিংয়ে বিনিয়োগ করলে ট্যাক্স হলিডে দেওয়া হবে। এছাড়া সেখানে টেস্টিং ল্যাব ও কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে এবং গৃহীত উদ্যোগগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনায় আগামী ছয় মাস বা তার কম সময়ের মধ্যে পুনরায় এই ধরনের বৈঠক আয়োজনের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই সংলাপের ফলে উত্তরবঙ্গে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং এগ্রো প্রসেসিং খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ আসবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন