যশোরে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানিয়েছেন যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ দাবি জানান।
মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ কৃষি অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও যশোরে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য বিশেষায়িত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভাব রয়েছে।
তিনি যশোরের কৃষি সম্ভাবনা তুলে ধরে বলেন, যশোর শুধু একটি জেলা নয়, এটি বাংলাদেশের ফুলের রাজধানী। দেশের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ ফুল গদখালি অঞ্চল থেকে আসে। সারা বছর সবজি, ধান ও পাট উৎপাদনের মাধ্যমে যশোর দেশের কৃষিখাতে বড় ধরনের অবদান রাখছে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এখানকার কৃষকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
তবে এতো সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সবজি ও কৃষিপণ্য নিয়ে গবেষণার জন্য এখনো পর্যন্ত এ অঞ্চলে কোনো কার্যকর গবেষণা কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। ভবদহের জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা ও ঘূর্ণিঝড় এই এলাকার কৃষির বড় চ্যালেঞ্জ।
জামায়াতে ইসলামীর এমপি ফরিদ আরও বলেন, যশোরের দোরগোড়ায় অবস্থিত বেনাপোল স্থলবন্দরের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য রপ্তানির জন্য বড় সুযোগ তৈরি রয়েছে। এখানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানি সহজ হবে। একই সঙ্গে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা কৃষিবিদ ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি হবে।
তিনি জানান, চৌগাছায় উপজেলায় তোলা গবেষণা কেন্দ্রের ১৭৩ একর জমি বর্তমানে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এই জমি কাজে লাগিয়ে সহজেই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব। এতে সময় ও অর্থ উভয়ই সাশ্রয় হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের অধিকাংশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত। যশোর থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরত্ব প্রায় ৮১ কিলোমিটার এবং রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার। দুঃখজনক হচ্ছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৩ কোটি মানুষের জন্য কোনো কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নেই।
তিনি উল্লেখ করেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ইতোমধ্যে এ বিষয়ে ডিও চিঠি দিয়েছেন। এছাড়া গত নভেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে প্রস্তাবনা ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনি অবিলম্বে যশোরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর কাছে দাবি জানান। এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে তা পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য একটি কৃষি বিপ্লবের সূতিকাগার হিসেবে কাজ করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

