দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয় এমন প্রকল্প নেবে না সরকার: নৌমন্ত্রী

চট্টগ্রাম ব্যুরো

দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয় এমন প্রকল্প নেবে না সরকার: নৌমন্ত্রী
ছবি: আমার দেশ

দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো প্রকল্প জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহণ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কাজ পরিদর্শন শেষে এনসিটি টার্মিনালের সামনে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।

নৌমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বা এনসিটি পরিচালনার জন্য গ্লোবাল টার্মিনাল অপারেটর প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড একটি প্রস্তাবনা দিয়েছে। সরকার সেই প্রস্তাবনা যাচাই বাছাই করছে। দেশের স্বার্থ, বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীদের স্বার্থ রক্ষা করেই সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গরূপে সচল একটি টার্মিনাল। এটি সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে গেছে। এখানে আরও সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ আছে কি-না। সেটা আমরা নিজেরাই বাড়াতে পারবো না-কি বিদেশি অপারেটর প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়া হবে। বিদেশি অপারেটরদের কাছে ছেড়ে দিলে আমাদের স্বার্থ কীভাবে রক্ষা হবে সেই বিষয়গুলো নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে। আমরা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে চায় সেই সঙ্গে দেশের স্বার্থ, এখানে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারীদের স্বার্থ সবকিছুই রক্ষা করে সামনে এগোতে চায়।

অতীতে এ টার্মিনালে বিদেশি অপারেটর নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনেক আন্দোলন হয়েছে। শ্রমিক কর্মচারীরা জেল পর্যন্ত খেটেছে। তাই ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাবনা পর্যালোচনা করে যদি মনে হয়- শ্রমিক কর্মচারীদের স্বার্থের চেয়ে দেশের স্বার্থ বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে তখন শ্রমিকদের সঙ্গে বসে সমন্বয় করা হবে। আশা করি, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে তারাও সহযোগিতা করবে। উন্মুক্ত দরপত্র, জিটুজি ও ডিপিএম সবই বৈধ ও প্রচলিত পদ্ধতি। ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাবনা রয়েছে জিটুজি পদ্ধতিতে। এ কারণেই এ পদ্ধতি নিয়েই পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সেখানে যদি দেশের স্বার্থ রক্ষা না হয় তবে অবশ্যই উন্মুক্ত দরপত্রে যাবে সরকার। একটি বিষয় নিয়ে আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকার কালক্ষেপণ করেছে। কিন্তু বর্তমান সরকার আর এই বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে এনসিটি নিয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন কোনো কাজই নিয়ম বহির্ভূতভাবে করার সুযোগ নেই। অতীতে প্রকল্পের নামে অপচয়-লুটপাটসহ অনেক অনিয়ম দুর্নীতি এই বন্দরকে ঘিরে হয়েছে বলে অভিযোগ আছে। সে সব অভিযোগ বিষয়েও খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া অতীতে যেমন রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা একটি চক্র বন্দরকে নিয়ন্ত্রণ করতো ভবিষ্যতে সেই ধারার পুনরাবৃত্তি হবে না বলেও মন্তব্য করেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...