আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

আলতাব আলী পার্কে ছিল অভূতপূর্ব ইউনূস সংহতি

অলিউল্লাহ নোমান, লন্ডন থেকে

আলতাব আলী পার্কে ছিল অভূতপূর্ব ইউনূস সংহতি

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে স্বাগত জানাতে পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কে গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেলে রীতিমত মানুষের ঢল নেমেছিল। দলমত নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিত যেন আনন্দ উৎসবে রূপ নিয়েছিল। যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক দলের ডাকে অনেক সমাবেশ হয় এই পার্কে। এভাবে সর্বস্তরের মানুষের সমাবেশ অতীতে তেমন একটা দেখা যায়নি। শুধুমাত্র ৫ আগস্ট হাসিনার পলায়নের পর নিজ উদ্যোগে এভাবে মানুষ এসেছিলেন এখানে সমবেত আনন্দ উৎসব করতে। গতকাল এসেছেন, ৫ আগস্ট গণঅভ্যূত্থানে গঠিত সরকার প্রধানকে স্বাগত জানাতে।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাজ্যে রাজপরিবারের পক্ষ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করতে সকালেই লন্ডনে পৌঁছান প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর এই আগমন উপলক্ষে স্বাগত জানাতে সামাজিক উদ্যোগে সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছিল।

রিফর্ম বাংলাদেশ, স্ট্যাণ্ড উইথ ইউনূস ব্যানারে শাসন ব্যবস্থায় সংস্কারে ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের উদ্যোগকে সমর্থন জানাতেই মানুষের এই উপস্থিতি। অভূতপূর্ব এই সমাবেশে গ্রেটার সিলেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ব্যারিস্টার আতাউর রহমান ও প্রবীণ কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব সিরাজ হকের যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন। উদ্যোক্তা আয়োজকদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পেশার নেতৃবৃন্দ এবং বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন।

Younus-London-2

পূর্ব লন্ডনের শহীদ আলতাব আলী পার্ক ছিল সমাবেশের নির্ধারিত ভেন্যু। সময় বিকাল ৫টা। কিন্তু ৫টা বাজার আগেই মানুষ আসতে শুরু করে। ৫টা বাজার সাথে সাথে সমাবেশ স্থলে সমবেত হন কয়েকশ মানুষ। ধীরে ধীরে উপস্থিতির সংখ্যা বাড়তেই থাকে। এক পর্যায়ে সমাবেশস্থল লোকে লোকরণ্য হয়ে উঠে। নিজ উদ্যোগে নানা ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে আসেন আগতরা। বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠন নিজ নিজ ব্যানার নিয়ে সমাবেশে এসে যোগ দেয়। থেমে থেমে শ্লোগানে মুখোরিত হয়ে উঠে গোটা আলতাব আলী পার্ক। শ্লোগান, ‘দিল্লী না ঢাকা?’ সমবেত কণ্ঠে আওয়াজ উঠে ‘ঢাকা-ঢাকা’। ‘নির্বাচন না সংস্কার’, সমাবেত কণ্ঠে আওয়াজ উঠে ‘সংস্কার-সংস্কার’।

সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বক্তব্য রাখেন। সবারই একটি দাবি গুরুত্ব পায়, ‘শাসন ব্যবস্থার সংস্কার ও শেখ হাসিনাসহ তাঁর দোসর খুনিদের বিচার নিষ্পত্তি ছাড়া যেন নির্বাচন না হয়’।

উল্লেখ্য, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এই আগমনকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ ও কালো পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। এই কর্মসূচির বিপরীতে সেন্ট্রাল লন্ডনের রোচেষ্টার হোটেলের সামনে সকালে সমবেত হয়েছিল আওয়ামী লীগ। তাদের সমবেত হওয়ার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবেই ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে স্বাগত জানাতে অনেক মানুষ সেখানে উপস্থিত হন। তবে আলতাব আলী পার্কের এই সমাবেশটি ছিল পূর্ব নির্ধারিত।

এই সমাবেশ থেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, প্রবাসে থাকা দ্বৈত নাগরিকদের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া, দেশে প্রবাসীদের সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও সিলেট ওসমানি বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার দাবি জানানো হয়।

এদিকে আগামী শুক্রবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার হোটেলে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের বৈঠক কেন্দ্র করে হোটেলের সামনে বিএনপি সমবেত হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। গতকাল সকালে আলতাব আলী পার্কে বিএনপি ছিল অনুপস্থিত। দলটির যুক্তরাজ্য শাখা পৃথকভাবে শুক্রবার সকালে হোটেলের সামনে অবস্থান নিবে। তবে বিএনপির সদস্যদের কোনো ধরনের ব্যানার, প্ল্যাকার্ড না নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন