যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

বিসিবির বর্তমান কমিটির নেতৃত্বে ক্রিকেট উন্নয়নে গতিশীলতা আসবে

সংসদ রিপোর্টার

বিসিবির বর্তমান কমিটির নেতৃত্বে ক্রিকেট উন্নয়নে গতিশীলতা আসবে
ফাইল ছবি

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান কমিটির নেতৃত্বে দেশের ক্রিকেট উন্নয়নে আরও গতিশীলতা আসবে। বিশেষ করে, দলের ব্যাটিং ইউনিট অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সাফল্য অর্জনে আরও কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব প্রশ্ন ও উত্তর উত্থাপিত হয়।

আবুল কালাম তাঁর প্রশ্নে বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ব্যাটিং ব্যর্থতা বারবার পরিলক্ষিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের জাতীয় মর্যাদা আরও উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ব্যাটিংসহ অন্যান্য দুর্বলতা চিহ্নিত করে সমাধানে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান তিনি।

জবাবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি ক্রিকেট দলের সার্বিক সাফল্য মূলত দলগত ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে। এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বর্তমানে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট দল থেকে শুরু করে হাই পারফরম্যান্স, বাংলাদেশ ‘এ’ দল এবং জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের, বিশেষ করে ব্যাটসম্যানদের টেকনিক্যাল, ট্যাকটিক্যাল ও মানসিক দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে বিসিবি নিয়মিতভাবে দেশি-বিদেশি অভিজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কোচ, ফিজিও, ট্রেইনার ও অ্যানালিস্ট নিয়োগের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের ব্যাটিং সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণ ও পারফরম্যান্স মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু ইতিবাচক ফলাফল দেখা যাচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্রিকেটের সব ফরম্যাটেই বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পারফরম্যান্স প্রদর্শন করছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী ক্রিকেট দলের বিপক্ষেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ও সিরিজে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। পুরুষ দলের পাশাপাশি বাংলাদেশ মহিলা জাতীয় ক্রিকেট দলও সাম্প্রতিক সময়ে আইসিসি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপ-২০২৬-এ পাকিস্তান মহিলা জাতীয় ক্রিকেট দলের বিপক্ষে জয়লাভসহ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।

তিনি আরও বলেন, দলগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রেও জাতীয় দলের ব্যাটসম্যানরা বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে ম্যাচ জয়ে অবদান রাখছেন। পাশাপাশি বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল), ঢাকা প্রিমিয়ার লিগসহ ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যান্য আয়োজন থেকে উদীয়মান ব্যাটসম্যানরা জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে অবদান রাখছেন, যা দেশের ক্রিকেট দলের ব্যাটিং ইউনিটকে আরও শক্তিশালী করছে।

এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় ফুটবল দল বর্তমানে ফিফা র‍্যাংকিংয়ে ১৮১তম স্থানে রয়েছে। ২০২৩ সালে এই অবস্থান ছিল ১৯২তম। ফিফা র‍্যাংকিংয়ের উন্নতি মূলত একটি দলের আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা, প্রতিপক্ষের মান এবং অর্জিত ফলাফলের ওপর নির্ভর করে। বিশ্বের উন্নত ফুটবল দলগুলো একটি ক্যালেন্ডার বছরে সাধারণত ১২ থেকে ১৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে। সেখানে বাংলাদেশ ফুটবল দল ২০২৫ সালে মাত্র ৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ফিফা, এএফসি ও পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়নে পরিচালিত হয়। আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন ও বিদেশ সফরের ব্যয় বেশি হওয়ায় আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক ম্যাচ আয়োজন বা অংশগ্রহণ সব সময় সম্ভব হয় না। তবে বেশি সংখ্যক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এবং শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ইতিবাচক ফলাফল অর্জন করা সম্ভব হলে বাংলাদেশের ফিফা র‍্যাংকিংয়ে আরও উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ফুটবলে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী ফুটবলার হামজা চৌধুরী, সোমিত সোম ও ফাহমিদুল ইসলামসহ কয়েকজন প্রতিভাবান খেলোয়াড় জাতীয় দলে যুক্ত হওয়ায় দলের সক্ষমতা বেড়েছে। এর ধারাবাহিকতায় জাতীয় ফুটবল দল ইউরোপের দেশ সান মারিনোকে ২-১ গোলে পরাজিত করেছে। বিএনপি সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো দলটি ইউরোপ সফরে গিয়ে একটি ইউরোপীয় দেশের বিপক্ষে জয় পেয়েছে, যা ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি করেছে।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, হাডুডু আমাদের জাতীয় খেলা হলেও বর্তমান প্রজন্মের কাছে এর জনপ্রিয়তা কিছুটা কমেছে। নতুনদের মধ্যে খেলাটি তেমন পরিচিত নয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নিয়মিত উদ্যোগ নিচ্ছে।

তিনি বলেন, কাবাডি ফেডারেশনকে আরও সক্রিয় করা হয়েছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে হাডুডু প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। কাবাডি খেলোয়াড়দের সাফল্যের ভিত্তিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক খেলোয়াড়কে ক্রীড়াভাতার আওতায় আনা হয়েছে। তাঁদের পারফরম্যান্স বাড়াতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও মন্ত্রণালয়ের বিবেচনায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করা এবং পাঠ্যক্রমে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, সাঁতার ও অ্যাথলেটিক্স অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন