ওয়াল ইলেভেনের গুঞ্জন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, বাংলাদেশের সেনাশাসন আসার কোনো প্রেক্ষিত (অবস্থা) নেই। ওয়াল ইলেভেন চাই না। ওয়ান ইলেভেন নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
শনিবার লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে জুলাই বিপ্লবের অন্যতম সংগঠক ও অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকে নিজ এলাকায় গণসংবর্ধনা দেন স্থানীয় ছাত্র-জনতা। এতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অংশ নেন। উপদেষ্টা হওয়ার পর প্রথমবারের নিজ এলাকায় আসেন তিনি। জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেয়া হয়। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে কেউ গণসংবর্ধনায় আসেনি। সংবর্ধনা শেষে স্থানীয়দের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ করেন তিনি।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মাহফুজ আলম বলেন, আমরা কোনো রাষ্ট্রের মদদে হাসিনাকে উৎখাত করিনি। আমরা ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়ে হাসিনাকে উৎখাত করেছি। কারো তাঁবেদারি করার দরকার নেই। আমরা কারো কাছে আর মাথা নত করবো না। কয়দিন আগে বলেছিলাম ওয়াল ইলেভেন চাই না। ওয়াল ইলেভেন নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
মাহফুজ আলম বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে বলবো বাংলাদেশ পন্থীদের ভেতর ফ্যাসিবাদ বিরোধীরা শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়। সংস্কারগুলো করার জন্য সরকারকে সহযোগী করি। প্রতিষ্ঠান সংস্কার হলে উপকৃত হবে বাংলাদেশের জনগণ, উপকৃত হবে বৈষম্য বিরোধী জনগণ। আপনাদের সদিচ্ছা থাকলে সরকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবেন। সংস্কারের কাজ শেষ হওয়ার পর সুষ্ঠু, গণতান্ত্রিক উপায় ক্ষমতা হস্তান্তরের দিকে আগাবো আমরা।
তিনি আরও বলেন, আমি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছি, কোন রকম রাজনৈতিক পক্ষপাত করতে চাই না। বরং রাজনৈতিক কর্মসূচি গুলো রাজনৈতিক দলগুলো রাজনৈতিকভাবে করবেন। বাংলাদেশ পন্থী কারো সাথে আমাদের কোন বিরোধ নেই। কিন্তু দিল্লির তাবেদারি করার কোন প্রচেষ্টা হলে বিরোধ হবেই, হবে।
আওয়ামীলীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হবেনা জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ, যারা এদেশের আলেম বিরোধী, প্রতিষ্ঠান বিরোধী, নারী বিরোধী তাদের কাউকে নির্বাচনের অংশগ্রহণ করতে দেয়া হবে না.. হবে না.. হবে না।
এছাড়া গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রামগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর নাজমুল হাসান পাটোয়ারী বলেন, আওয়ামীলীগ জাহেলীয়া থেকে বাংলাদেশ মুক্ত হয়েছে। ভারতীয় আধিপত্যবাদ থেকে বাংলাদেশ মুক্ত হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ বৈষম্য মুক্ত হয়নি।
বাংলাদেশ হিন্দু খ্রিস্টান বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদ রামগঞ্জ উপজেলা সভাপতি অপূর্ব কুমারা সাহা অপু বলেন, ২৪ শের আন্দোলন বৈষম্যের বিরুদ্ধে হয়েছে। বিশ্বাস রাখি আগামীতে এদেশে যেন কোন বৈষম্য থাকবে না, কোন ভেদাভেদ থাকবে না। সবাইকে মিলিত হয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করতে হবে। আগামী সমৃদ্ধির বাংলাদেশ গড়বে এ সরকার এমন প্রত্যাশা রাখেন তিনি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নোয়াখালী জেলার সমন্বয়ক আবু বকর বলেন,আমরা এই দেশটাকে ফ্যাসিবাদকে দূর করেছি কিন্তু ফ্যাসিবাদকে পূর্নবসানোর জন্য বিভিন্ন শক্তি কাজ করে যাচ্ছে। জুলাই বিপ্লবের হত্যাকাণ্ডের বিচার না পর্যন্ত আমরা কোন ধরনের নির্বাচন চাই না।
এর আগে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ এক পথসভায় হয়। দুপুর ১টার দিকে হাজীগঞ্জ বাজারে পৌঁছায় উপদেষ্টার গাড়ি বহর। এসময় সড়কের দু'পাশে ছাত্র-জনতার সরব উপস্থিতি দেখা যায়। তারা হাত নেড়ে, ফুল ছিটিয়ে উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান। উপস্থিত জনতা দিল্লি না ঢাকা-ঢাকা ঢাকা, ভারতের দালালেরা- হুঁশিয়ার সাবধান’সহ ভারতবিরোধী নানা স্লোগান দেন।।
এসময় পথসভায় উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, সংস্কার কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে খুব শীঘ্রই রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে, সকল অংশীজনদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে ন্যূনতম সংস্কার করে গণতান্ত্রিক পঠ পরিবর্তনের জন্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে।
গণসংবর্ধনা উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন সড়কে উপদেষ্টাকে স্বাগত জানিয়ে তোরণ তৈরি করা হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়কের পাশে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দেয়ালে পোস্টার লাগানো হয়েছে। দুপুরের পর থেকে মিছিল নিয়ে কলেজ মাঠে আসেন ছাত্র-জনতা ও এলাকাবাসী। এরআগে মাহফুজ আলম নিজ এলাকা রামগঞ্জে পৌঁছালে উপজেলার ডাক বাংলোতে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন লহ্মীপু্র জেলা প্রশাসক রাজিব কুমার সরকার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আকতার হোসেন, রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মামুন। গণ-সংবর্ধনায় রামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ দিদারুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন-উপজেলা জামাত আমির নাজমুল হাসান পাটোয়ারী,ইসলামি আন্দোলন রামগঞ্জ শাখার সভাপতি ডাঃ রফিকুল ইসলাম, জামাতের পৌর আমির হাসানুল বান্না, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অপূর্ব কুমার সাহা,মুক্তিযোদ্ধা মন্টু মিয়া, জেলা বৈষম্যবিরোধ ছাত্র আন্দোলনেরর সমন্বয়ক শাহিন রহমান বাপ্পি, হেফাজতের ইসলামের রামগঞ্জ শাখারর সেক্রেটারি মাও. আজিজুল হক, জামায়াত নেতা দেওয়ান মোঃ ইউসুফ, সোনাপুর বাজার ব্যবসায়ীর সভাপতি মাস্টার আবুল হোসেন, ভাদুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শার মিন সুলতানা, ছাত্রনেতা আরমান হোসেনসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য আরিফুর রহমান তুহিন, জয়নাল আবেদীন শিশির।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

