বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় এক আসামির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশন বলেছে, কোনো গুজব বা অপপ্রচারের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্য নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও বিচারব্যবস্থার জন্যও বড় ধরনের হুমকি।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে আগৈলঝাড়া থানায় সংঘটিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৮ জুলাই চুরির মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করে আগৈলঝাড়া থানায় আনা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিলেন এবং হাজতে থাকাকালীন নিজের মাথায় নিজেই আঘাত করে আহত হন। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এরই মধ্যে ৯ জুলাই এলাকায় রিয়াজ ফকির মারা গেছেন—এমন একটি গুজব দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, এই গুজবকে কেন্দ্র করে কয়েকশ মানুষ থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা থানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ভাঙচুর এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। সংঘর্ষে একাধিক পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে পুলিশ নিশ্চিত করে যে রিয়াজ ফকির তখনও জীবিত ছিলেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশন বলেছে, অসুস্থ একজন আসামির চিকিৎসা নিশ্চিত করার মাধ্যমে পুলিশ মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে। অথচ একটি ভিত্তিহীন গুজবকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে, যা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। বিবৃতিতে এ ধরনের ঘটনাকে 'মব সংস্কৃতি'র উদ্বেগজনক বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সংগঠনটির মতে, গুজব, অপপ্রচার কিংবা উসকানির মাধ্যমে জনতাকে সংঘবদ্ধ করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেশে আইনের শাসনের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠতে পারে। এতে শুধু পুলিশের মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়ে।
বিবৃতিতে দেশের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, কোনো তথ্য যাচাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত গুজবে বিশ্বাস করা উচিত নয়। কোনো অভিযোগ বা অসন্তোষ থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তা উপস্থাপন করতে হবে। সহিংসতা, হামলা কিংবা ভাঙচুর কখনো সমস্যার সমাধান নয়; বরং এসব কর্মকাণ্ড নতুন অপরাধের জন্ম দেয়।
পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশন তাদের বিবৃতির শেষাংশে পুনর্ব্যক্ত করেছে, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারিত্ব, ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাবে। একই সঙ্গে গুজব ও উসকানির বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতাও কামনা করেছে সংগঠনটি।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

