এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের অপসারণের দাবিতে ‘মার্চ টু এনবিআর’ ও ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ। দাবি পূরণ না হওয়ায় আগামীকাল রোববারও একই কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা। তবে আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা এ কর্মসূচির আওতার বাইরে থাকবে।
এদিকে চলমান সংকট নিরসনে অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে প্রস্তুত বলে ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। তবে বৈঠকের বিষয়ে উপদেষ্টার দপ্তর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে। চলমান সংকট নিরসনে ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
২৭ জুনের মধ্যে এনবিআর চেয়ারম্যানকে অপসারণে আল্টিমেটাম ঘোষণা করে ঐক্য পরিষদ। অপসারণ করা না হলে ২৮ জুন থেকে লাগাতর কমপ্লিট শাটডাউন এবং মার্চ টু এনবিআর কর্মসূচি ঘোষণা করে। চেয়ারম্যানকে অপসারণ না করায় আজ শনিবার ছিল কর্মসূচির প্রথম দিন। কর্মসূচি পালনে এনবিআরের ঢাকা অফিসের বিভিন্ন দপ্তর থেকে কয়েকশ’ কর্মকর্তা রাজস্ব ভবন এলাকায় জড়ো হন। তবে আজ সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে রাজস্ব ভবনের সবগুলো ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে ওই সময়ের পর ভবনে প্রবেশ করতে পারেনি অনেকে। এ নিয়ে অনেককে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
ভবনে প্রবেশ করতে না পারায় আন্দোলনকারীরা মূল ফটকের সামনে অবস্থান গ্রহণ করেন এবং এনবিআর চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে নানা শ্লোগান দেন। তাদের দাবি, বর্তমান চেয়ারম্যানকে পদে রেখে এনবিআরের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্ভব হবে না।
এদিকে চলমান কর্মসূচির প্রেক্ষিতে এনবিআরের পক্ষ থেকে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্ব স্ব দপ্তর থেকে জনগণকে সেবা প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি কিংবা নির্ধারিত সময়ের আগে অফিস ত্যাগ করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।
ঐক্য পরিষদের শাটডাউন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজস্ব ভবনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। ডিএমপির পক্ষ থেকে গত সপ্তাহের শনিবার আগারগাঁয়ে রাজস্ব ভবন থেকে বিডা ভবন পর্যন্ত এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। সে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ঐক্য পরিষদের ব্যনারে অবস্থান ও কলমবিরতি কর্মসূচি পালন করে আসছেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এনবিআরের চলমান আন্দোলনের কারণে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে জানিয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাশরুর রিয়াজ আমার দেশকে বলেন, দেশের আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রেখে এ ধরনের আন্দোলন দেশের জন্য মঙ্গলকর নয়। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে সঠিকভাবে মোকাবিলা করা হয়নি এবং একই সঙ্গে আন্দোলনকারীরা বাড়াবাড়ি করছেন বলেও মন্তব্য তার।
তিনি বলেন, কোনো শর্ত না দিয়ে খোলামনে এনবিআর সংস্কারের মূল লক্ষ্যের উপর গুরুত্বারোপ করা উচিত। আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানে গুরুত্বারোপ করে প্রধান উপদেষ্টা ও অর্থ উপদেষ্টা একটি নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে এনবিআরের দুটি বিভাগে কারা নেতৃত্ব দিবেন, সে বিষয়টি সুরাহা করতে পারেন।
তবে তিনি মনে করেন, কোনো একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী থেকে বিভাগের প্রধান হতে হবে এটার চেয়ে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

